ভালোবাসা বেঁচেআছে . . শেষার্ধ

Valobasha bencheaache . . Seshardho

লেখক: TrulySukhen

ক্যাটাগরি: প্রাক্তন প্রেমিক-প্রেমিকার মিলন

প্রকাশের সময়:19 Apr 2026

1st half এর পর . .

. . . তাই চরম টার্গেট থেকে কয়েক পা দূরে দাঁড়িয়েথেকে ছটফট করছিল মহিলা অফিসারদের গর্ব, প্রায় ২৫ মিনিটেরও বেশি একটানা অমরজিৎ এর সাথে মল্লযুদ্ধ চালিয়ে সমানে সমানে লড়েযাওয়া পেশীশক্তির উদ্যমে ভরপুর IPS শালিনী ! নতুন অফিসার এসে সমস্ত কৃতিত্ব নিয়ে চলেযাবেন এমন ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বেউঠে চিন্তাকরা শালিনীর মূলভাবনা ছিল, এই অপারেশনে নবাগত যে কোনও চিফ এরই অমরজিৎ-অধ্যয়ন এর সুযোগনিয়ে দস্যুরাজ ধূলোউড়িয়ে ধাঁ হয়েযাবে, এযাত্রায় আর তার টিকিটিও খুঁজেপাওয়া যাবে না ! কিন্তু এই শারীরিক কাহিলদশায় সে ডিউটি জয়েনকরতে পারবে না, যোগদানের ছাড়পত্র, অনুমোদনও মিলবে না, এগুলো যেমন সত্যি, তেমনই শালিনীর শঙ্কাও সঠিক, বাঘা বাঘা খাঁকি পোশাকধারী অভিজ্ঞ-তরুণ তুর্কি সববয়সী পদস্থ কর্তাব্যক্তি-গোয়েন্দাদের পূর্বপরিকল্পিত গেমপ্ল্যান ভেস্তেদিয়ে বহুবার যেন রকেটগতিতে মিলিয়েগেছে অমরজিৎ, যাকে ধরা একপ্রকার প্রায় দুঃসাধ্য ! সে কে যার হাতে এখন এই অসম্পূর্ণ কার্যভার তুলেদিয়ে নিশ্চিন্ত হতেপারে শালিনী ?? তাঁর বর্তমান সহকর্মী, ঊর্ধ্বতন, পরিচিত কেউ . . ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ কলিগ মৈনাক নিজের স্মার্টফোনটা এগিয়ে দিয়ে শালিনীকে কথা বলতে বললো যে চলভাষে ভিডিও কল করেছে কলেজের প্রাক্তন ব্যাচমেট (প্রসঙ্গত, দেবারতি-সোমরাজের সাথে একই ইয়ারে ঐ কলেজে বাণিজ্য বিভাগের ছাত্রী ছিল শালিনী আর সোমরাজ-দেবারতির প্রেমের অধ্যায়খানা সে জানতো, অজানা ছিল না বিচ্ছেদের ইতিহাসও কারণ কলেজ-পরিচিতির সুবাদে কর্মজগতে একমাত্র শালিনীকেই বহু জিজ্ঞাসার পর অবশেষে একদিন ব্যথাভরাচোখে সত্যিটা বলেফেলে সোমরাজ, ও অপহৃত গৃহবধূ, তাদেরই ব্যাচের দেবারতি তাই শালিনীর মধ্যে একটা অন্যরকম ইমোশন কাজ করেছে যার বহুগুণ যে সোমরাজের ভেতরেও কাজ করবে তা স্বাভাবিক কিন্তু আজকের বহুল পরিণত, অনেক বদলেযাওয়া কেন্দ্রীয় পুলিশ আধিকারিক সোমরাজ অতীতের আবেগ সরিয়েরেখে নিজ কর্মজীবনে বিভোরহয়ে ডুবেথাকে, যে এখনও অবিবাহিতই রয়েগেছে আর বাবা-মাকে সঙ্গেনিয়ে বর্তমান কর্মক্ষেত্র দিল্লীতে থাকে এবং পিতা-মাতা, নিজস্ব হবি, দিল্লীতে পরিচিত হয়েওঠা স্থানীয় মানুষজন, সিনিয়র/জুনিয়র কলিগসহ তাদের পরিবার-পরিজন, মা-বাবাকে নিয়ে ছোটখাট ভ্রমণে অবসর যাপনকরে আর লম্বাছুটিতে কলকাতায় নিজেদের বাড়ি আসে, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ করেযায়), পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারথেকে এক বছরের ব্যবধানে IPS এ নির্বাচিত হওয়া এবং নিজের প্রথম পোস্টিংহওয়া কর্মকেন্দ্র দিল্লীর প্রাক্তন সহকর্মী সোমরাজ।

সোমরাজ ৹ এখন কেমন আছিস !? শুনলাম, কোন একখানা রাস্তার গুন্ডা না কি তোকে ছুটিতে পাঠিয়েছে !? আমরা, আমাদের ছুটির দিনক্ষণ ঠিক করবো, অন্য কারও মর্জিতে বিশেষতঃ এরকম গলিতে গজিয়েওঠা ফুটোমস্তানের জন্য তো নয়ই !! হ্যাঁ, আচমকা শরীরখারাপটা অন্য বিষয় ! তাড়াতাড়ি সেরে ওঠ, ওকেও তো পাঠাতে হবে, হসপিটাল বা জেলের ওপারে নয় তো সোজা ওপরে ! তুই তো জানিস, আমি সরকারী খরচ বাড়ানো পছন্দ করি না !

বিপক্ষ দুর্দমনীয়, পরাক্রমী, যথেষ্ট বলীয়ান প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিমিনালকে এভাবেই তুড়িমেরে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে সহকারী, অধস্তনদের মনোবল বাড়িয়ে তোলে সোমরাজ, যার হাতে যেন আগ্নেয়াস্ত্র কথা বলেওঠে দুরন্ত, চকিত গতিময়তায়❗️IPS এ যোগদেওয়ার পর দৈহিক সৌষ্ঠব আরও পরিবর্ধিত হওয়ায় কাঁধ-গলা-উন্নত ছাতি-নির্মেদ খাঁজবহুল পেট-Vআকৃতির পিঠ-সরু কোমর-টানটান নিতম্ব-পেশীবহুল ঊরু-হাফশার্ট উর্দির হাতা ফেটেপড়তেচাওয়া বাইসেপ-ট্রাইসেপসহ ফোর আর্ম-কব্জির পেশীবিশিষ্ট দুই বাহুতে যেন পুলিশীলাঠি আরও বেশিকরে শোভাপায় আর দাড়িকামানো মুখে rowdy গোঁফ সঙ্গে Ray Ban র গগলস্ ও এরূপ সোমরাজকীয়, ব্যক্তিত্বময় appearanceখচিত কর্মকুশলী, ধুরন্ধর, মাথা ঠান্ডারেখে শেষপর্যন্ত লড়াইচালানোয় ধৈর্যশীল, প্রতিপক্ষ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অপরাধীকেও প্রকৃত কার্যক্ষেত্রে সমগুরুত্বের বিচক্ষণ চোখেদেখে এতটুকুও অবহেলা না করা মানসিকচরিত্রের, ভীষণ বলশালী, নিরস্ত্র অবস্থায়ও উল্টোদিকে থাকা একাধিক বাহুবলধারকদের কসরতী কায়দায় কুপোকাত করবার প্যাঁচ-পয়জারে ওস্তাদ হয়েওঠা সত্যেশ্বর-নন্দনের নাম অপরাধের অন্ধকার জগতে যথেষ্ট সম্ভ্রমের সঙ্গেই উচ্চারিত হয়েথাকে❗️এখানেই পুলিশ বিভাগের সার্থকতা, সমাদর, অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান‼️

শালিনী ৹ দেবারতি kidnapped, সোম !

সোমরাজ ৹ জানি !

শালিনী ৹ কেসটা নিবি !? আমি তো এখন . .

সোমরাজ ৹ না ! অন্য কেসে আছি . .

শালিনী ৹ সোম, দেবারতি ! আমাদের ব্যাচমেট, তোর . .

সোমরাজ ৹ বললাম তো, না ! অন্য কেসে involved and nothing personal here to serve . .

শালিনী ৹ কথাটা যদি তোকেও বলি, don't get personal here ! Nation above all, Duty first‼️ We are public servant and have to serve them ! Please get Debarati out of the den of that inhuman, wild miscreant, please ! আমি নিশ্চিত যে, ঐ পিশাচ নির্ঘাৎ মেয়েটার একটা না একটা কিছু . . তুই পারবি, আমি জানি !

সোমরাজ ৹ না, ভালো থাকিস ! এখন রাখছি, তাড়াতাড়ি সেরে ওঠ, কথা হবে !

এই ফোনপর্বের সূত্রধরে কলেজ-বান্ধবী, কর্মস্থলের পূর্ব কলিগ শালিনীর টেলিফোনেকরেচলা ক্রমান্বয়ে আবেদন-অনুরোধ, পার্থ স্যরের দূরভাষযোগে দেওয়া বিষয়টি গুরুত্বদিয়ে বিবেচনার ঐকান্তিক পরামর্শ, হাসপাতালে - মেয়ের উদ্ধারকার্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান অফিসারের মারাত্মক জখম হওয়ার সংবাদপেয়ে দেখতে ছুটেআসা দেবারতির পিতা-মাতা-স্বামী-সন্তানসহ সম্পর্কিত নিকট আত্মীয়দের সমাগম এড়িয়ে শালিনীর কাছথেকে পাওয়া যোগসূত্রধরে দিল্লীর বাসভবনে পৌঁছে নাতনি অলিভিয়াকে নিয়ে অতিথিকক্ষে অপেক্ষাকরা প্রিয়দর্শিনীদেবীর দেখামাত্রই সোমরাজের হাতদু'টোধরে অশ্রুসজল নয়নে মিনতি এবং প্রসূনবাবুর, অতীতে ধনসম্পদ-প্রতিপত্তিদম্ভয় করেফেলা গর্হিত, অন্যায্য আচরণের জন্য আত্মদংশনে কান্নাভেজাগলায় শ্যামাঞ্জলির চরণ ধরতেযাওয়ার উপক্রম ইত্যাদিসবই যখন সোমরাজের 'ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা'-খন্ডন করতে ব্যর্থ হলো তখন আচমকা অলিভিয়ার তারস্বরে মাকে দীর্ঘসময় দেখতে না পাওয়ার ব্যাকুলকান্নায় সোমরাজ যেন দেবারতির ক্রন্দনরত মুখ দেখতে পেল ও সত্যেশ্বরবাবু কন্যা-বিহনে ভেঙেপড়া প্রিয়দর্শিনীকে আশ্বস্ত করলেন আর মাতৃক্রোড়বিচ্ছিন্না, ছটফটকরতেথাকা শিশুকে বুকেতুলেনিয়ে স্নেহপ্রদায়িনী শ্যামাঞ্জলিদেবী অনুতপ্ত, ব্যথিত প্রসূনকে ছেলের হয়ে কথা দিলেন, দেবারতি-প্রত্যাবর্তনে সোমরাজ চেষ্টায় এতটুকুও খামতি রাখবে না . . বেদনা-দুশ্চিন্তাভরা মুখনিয়ে দাঁড়িয়েথাকা দেবারতি-পতি বিজনেসম্যান সুপুরুষ, শিক্ষিত চিরাগের করজোড়করা আঙ্গুলগুলো নিজের বলিষ্ঠ হাতের তালুবন্দী করলো সোমরাজ, চিরাগের কাঁধে হাত রাখলো . . শুরু হলো অমরজিৎ এর লঙ্কাদহন পর্বের ধুন্ধুমার অ্যাকশন সিকোয়েন্সে ঠাসা পার্ট 2 . .

সেরে উঠতেথাকা শালিনীর সঙ্গে বারংবার দেখাকরে কেসের নাড়িনক্ষত্র, অমরজিৎ-বিষয়ক পূঙ্খানুপূঙ্খ খুঁটিনাটি, যাবতীয় ডিটেইলস ভালোকরে বুঝেনিয়ে, স্টাডিকরে-ঝালিয়ে অন্তিমে নিজ তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তায় কিছু পৃথক পরিকল্পনা ছকে ডেপুটেশনে বিশেষ পোস্টিং নিয়ে জন্মশহর কলকাতায় এসে একদা দিল্লীর কর্মসহযোগিনীর থেকে অফিসিয়ালি দায়িত্বভার গ্রহনকরে ঠিক শালিনীর ছেড়েযাওয়া, অসমাপ্ত লক্ষ্যপথে টাস্ক ফোর্সের জিপের পর জিপ ছুটিয়ে, শালিনীর মতোই অপারেশনে সামনেথেকে নেতৃত্বদিয়ে তুলনায় আরও বিধ্বংসী আগ্রাসনে অমরজিৎ এর বাকিথেকেযাওয়া কয়েকটা কর্মশাখা গুঁড়িয়ে পার্শ্ববর্তী রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা, খলনায়কের অপরাধ-মানচিত্রের শেষ মুক্তাঞ্চলে উপস্থিতহয়ে মাপকাঠিতে গৌণ, লঘু কিন্তু দেবারতিকে সঙ্গেকরেরাখা অমরজিৎ এর সম্ভাব্য দর্শন যে এই ডেরাতেই মিলবে, অভিজ্ঞতায় রচিত এরূপ পূর্বানুমান শতকরা একশোভাগ মিলে গেল এবং অনুগত পেশীবাহকদের সশস্ত্র প্রহরায়ঘেরা প্রায় দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণতকরেতোলা, অপরাধকর্তার নিরাপদ বিচরণক্ষেত্রতে যেন লন্ডভন্ডকরতেআসা ঘূর্ণিঝড়ের মহিমায় জিপবাহিনীনিয়ে বিস্ফোরকঢঙে অবতীর্ণ হয় সোমরাজ ও কিছুক্ষণের মধ্যেই সমুখাগত যাবতীয় বাধাবিঘ্নকে তছনছকরেউড়িয়ে সে স্থান দস্যুদের মারণভূমিতে রূপান্তরিত করেতুলে অমরজিৎকে বুঝিয়েদেয় যে, কেন তাঁর নাম তাবড় খুনে-নরখাদক-বন্য মেজাজী দুষ্কৃতকারী-অপকর্মের হোতাদেরও হৃৎকম্প বাড়িয়ে তোলে, দুর্দমনীয় মাফিয়ারাজচালানো ডনদেরও শিড়া-উপশিড়ায় রক্তপ্রবাহের প্রাবল্য বর্ধিতকরে❗️. . . দূরে দাঁড়িয়েথেকে দেবারতি-অপহরণের পুরোধা স্তম্ভিতচক্ষে সোমরাজের দুর্বার গতিতে অসুর-হত্যালীলা চালিয়ে ধেয়েআসা দেখতেদেখতে অমরজিৎ যেন নিজের প্রতিচ্ছবির থেকেও ভয়ানক একজনকে সামনেথেকে চাক্ষুষকরার দুঃস্বপ্ন দেখতেথাকে❗️. . uninterrupted live action‼️ . . কে ইনি ??? . . ইনিই কি সেই বহুচর্চিত IPS অফিসার সোমরাজ ⁉️ . . লোকমুখে সতীর দেহকাঁধে মহাদেবের তান্ডবনৃত্যের কথা দু'একবার শুনেছে বটে কিন্তু পুলিশ-পোশাকে একজন রক্ত-মাংসের জলজ্যান্ত মানুষের এধরনের নৃশংস দুষ্কৃতী-বধ যজ্ঞের uncut version তায় মাথাঘুরিয়ে দেওয়ার মতো বিরতিহীন সম্প্রচার . . এরকমও আবার হয় ⁉️ . . . সোমরাজকে দেখে থ দেবারতিও ! শারীরিক পরিবর্তন, বিশালতায় প্রথমটায় চিনতে পারেনি কিন্তু তারপর যখন একজন দীর্ঘ অবয়বের বীরবাহু, দাপুটে পুলিশ অফিসারকে প্রায় ইউনিফর্ম ফেটেপড়তেচাওয়া দেহে অসুর-নিপাতের রুদ্র অবতারে ধীরেধীরে এগিয়ে কাছেআসায় স্পষ্টরূপে লক্ষ্যকরে তখন নিশ্চিত হয় . . . এতবছর পরে ‼️ এমন অসহায় পরিস্থিতিতে, কোথায় চিল চিৎকারজুড়ে আকুতিজানাবে বন্ধনমুক্তকরে উদ্ধার করবার, তা নয়, নিজের চোখের সামনে জীবনে এ প্রথমবার, এই ক'দিন তার সংস্পর্শেথাকা, মদ-মাংস-ক্যাবারে নর্তকীদের উশৃঙ্খল, লাগামছাড়া মেলবন্ধনে, মাত্রাধিক উল্লাসে পরিপূর্ণযৌবনা, উচ্চবিত্ত ব্যবসায়ী কূলবধূর দেহের প্রতি ঠিকরেআসা লালসামেশানো নজর দিয়েচলা এবং সেইসমস্ত মাতোয়ারা রঙ্গমঞ্চ-উদ্ভূত রঙীন আবহাওয়ায় একজন পরিণত নারীশরীরধারিণীর (দেবারতি) অবয়বের প্রতিটি বাঁকনিয়ে সবরকমের মশলামাখা, চটুল-তির্যক-কদর্য আলোচনায় সামিলথাকা, কাছেআসার ছুঁতো খুঁজেচলা এমন কি আসতে-যেতেও সময়বুঝে অশালীন-অশ্লীল দৃষ্টি-জিহ্বাবাণ নিক্ষেপ করতেথাকা, (দেবারতির) চারপাশে বেষ্টনরত, পাহাড়াদারির নজররেখেচলা অপহরণ-কান্ডারীর সাগরেদদের নরমুন্ড ধরথেকে, মাংসপেশীপুষ্ট পুরুষবাহুগুলো দেহহতে, দাঁড়িয়েথাকা সুঠাম পুরুষ শরীরটা ঊরু/হাঁটুথেকে নিমেষে ছিটকেযেতে দেখে, বিচ্ছিন্নহওয়া অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের তখনও কাঁপতেথাকা, কেটেফেলা ক্ষতস্থানথেকে রক্তের ফিনকিদিয়ে বেরোনোদেখে চোখবন্ধকরে মুখঘুরিয়েফেললো দেবারতি ! প্রাক্তন কলেজ-বন্ধুকে আহ্বানকরবে কি সোমরাজের এই যেন দেবী চামুন্ডার বরপুত্র হয়েউঠে অতিভীষণ ব্যবচ্ছেদলীলারত প্রকটরূপদেখে ভয়েসিঁটিয়ে ঠকঠককরে কাঁপছে অপারেশনের কেন্দ্র-নারী ! এ কোন সোমরাজকে প্রত্যক্ষকরছে সে ⁉️ এই কি সেই কলেজের philosophically correct ব্যাচমেট, একদা প্রেমিক যার গালে সরস্বতীপূজোর দিনে হঠাৎকরে চুমুখেয়ে 'ভালোবাসি'বলেবসেছিল সে, যে ভালোবাসায় দোলের আবীররাঙানো স্বীকৃতির শীলমোহর পড়ে শান্তিনিকেতনে এবং তারপর পারস্পরিক প্রেমের স্বর্ণযুগ চলা পরবর্তী কয়েকবছর দূর্গাপূজোসহ সারাবছরই কলকাতাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর দর্শনীয় স্থানসমূহে যৌথস্বাক্ষররেখে একসাথে মেট্রোভ্রমণকরা, রসনায় জলআনা বিভিন্ন আহারচাখা, প্রেক্ষাগৃহয় সিনেমা দেখতেদেখতে অন্তরঙ্গ মুহূর্তকাটানোর সঙ্গী বয়ফ্রেন্ড যার ঐ গালেই নিজের ডানহাতের পাঁচআঙ্গুলের সশব্দ আঘাতে সপরিবার হবুবধূগৃহে পাকাকথা সারতেআসার মনস্কামনিয়ে উপস্থিত সোমরাজের স্বপ্নকে চিরকালের মতো ভেঙে চুরমার করেদেয় দেবারতি ??? এরপর একজন মানুষের নিজেকে এরকম ৩৬০ ডিগ্রি ঘূর্ণনে আমূল, দৃষ্টান্তমূলক বদলেফেলা‼️ . . সম্ভব ⁉️ . .

পুলিশীকোমরবন্ধসংলগ্ন সংযুক্ত আবরণীবেষ্টিত সরকারী পিস্তলে হাতদেওয়ার প্রয়োজনই পড়ছে না, বীরবিক্রমে চালানো ঘুঁষি-লাথিসহ হাতের সামনেপাওয়া যাবতীয় ভারী জিনিসের ক্ষিপ্র, ঝটিতি আঘাতে ছিটকে পড়ছে, আহত হচ্ছে যথেচ্ছ পরিমাণ আহার-সুরায় পোষিত আর দুরুপায়ে অর্জিত অর্থভোগী বলশালী সঙ্গীসাথীরা। প্রায় অবাধ্য শিশুর হাতথেকে খেলনা কেড়েনেওয়ার ভঙ্গিতে প্রতিহতকরতেআসা অমরজিৎ-অনুগামীদের কাছথেকে কখনও দু'নলা বন্দুক-পিস্তল-স্টেইনগানসহ নানারকম অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র আবার কখনও বা ধারালো তলোয়ার, দীর্ঘ চপার, ভোজালি বুদ্ধিদীপ্ত, প্রশিক্ষিত রণকৌশল এবং প্রভূত কায়িক বলপ্রাচুর্যে নিজ হস্তগত করেনিয়ে সমাজের ঘুণপোকাদের ক্ষমাহীন মানসিকতায় হয় গুলিতে এফোঁড়-ওফোঁড় নতুবা শাণিত অস্ত্রের তড়িৎবেগের চালনায় মুন্ডচ্ছেদ, বাহুবিয়োগ প্রভৃতি করতেকরতে দুর্বৃত্তদের স্বস্থানথেকে বিচ্ছিন্নহয়ে কেটে তখনও কম্পনরতঅবস্থায় পড়েথাকা মাথা, হাত, পা, অবশিষ্ট ধরের ছড়িয়েছিটিয়ে অবস্থানরত শয়তানপুরীর মাটিতে পা ফেলে এগিয়েচলা, অপারেশন চালুরাখা সোমরাজের, পেশীবহুল হাতেধরেথাকা যেন রক্তস্পৃহায় লকলক করতেথাকা মারণাস্ত্রগুলো শত্রুবক্ষে চূড়ান্ত পাশবিকতায় গেঁথেদিতেলাগলো যার পরক্ষণেই ছিটকেছিটকেআসা নররক্তয় ততক্ষণে সমাজ-শুদ্ধিকরণে নিয়োজিত পুলিশকর্তার খাঁকি উর্দিসহ আপাদমস্তক লালহয়েউঠেছে ও আহতহয়ে আছাড়খাওয়ায়/নিহত হওয়ার আগের শেষ বুককাঁপানো আর্ত চিৎকারে, অমরজিৎ এর সেইসময়ের আস্তানার, বিশৃঙ্খল জঙ্গলরাজত্ব কায়েমরাখতে সৈনিক গড়বার অবশিষ্ট ঐ কারখানার ভিত প্রায় নড়েউঠলো ! অমর-নিধন যজ্ঞের প্রধান পুরোহিতকে এমন সাধনবিভোরহয়ে হোমাগ্নিতে না থেমেচলা আহুতি দিতে দেখতেথাকায় গোটা টাস্ক ফোর্স উজ্জীবিত হয়েউঠলো আর দেবারতির ঘর-ওয়াপসি মিশনে জানপ্রাণলড়িয়ে বিরোধী সেনাদলকে দুরমুশ করেচললো যে লড়াইতে সোমরাজও তার বহু বিশ্বস্ত, নিবেদিত সেনাবন্ধুকে চিরতরে হারালো এবং একসময়, পরিশ্রম-অর্থ-বাছবিচার-প্রশিক্ষণ-টাইম-ঝুঁকি ইত্যাদির বিনিয়োগে তিলতিলকরে গড়েতোলা এই সাম্রাজ্যকে প্রথমে শালিনী, তারপর সোমরাজের খড়্গহস্তে অবলীলায় কচুকাটাকরে নিশ্চিহ্ন, নির্মূল করবার সাঙ্ঘাতিক সাইক্লোন-মেজাজ দেখে চোয়াল শক্তহয়েউঠলো অমরজিৎ এর আর অবশেষে সেই বহু প্রতীক্ষীত দ্বৈরথ . . clash of the titans আরম্ভ হলো❗️দুই প্রায় সমান শক্তিধর, বজ্রক্ষিপ্র, প্রতিপক্ষকে চূর্ণকরতে সমমনোভাবাপন্ন আগ্রাসী, অসীম সাহসী, পরবর্তী মুহূর্তের তোয়াক্কা না করা, ঈর্ষণীয় মাংসপেশীর গঠন ঘাম, রক্তয় ভিজে চকচককরেওঠা দেহ আস্ফালনকরে, রণহুঙ্কারছেড়ে পরস্পরের দিকে দৌড়বাজের গতিতে ছুটেগেল . . . শুরুহলো সুর-অসুরের যুদ্ধ, মহাসংগ্রাম . . তফাৎ শুধু অবস্থানগত, ন্যায়-অন্যায় পক্ষয়, যা অবশ্যই আমরা মহাকাব্য "রামায়ণ" এও পাই . .

এক পরিত্যক্ত, পুরাতন রাজবাড়ির অভ্যন্তরে সজ্জিত যেন মহারণের সেটে ধূলোওড়ানো পটভূমিতে বিপরীত দিকথেকে ভীষণবেগে ধেয়েআসা অমরজিৎকে গতির ধাবমানতায় হারিয়ে অকস্মাৎ লাফিয়েউঠে মূল অপহরণ-চক্রীর বুকে সজোরে এক লাথিকষালো সোমরাজ,

সোমরাজ ৹ শুয়োর, লম্পট, খুনেডাকাত সাপের মতো লুকিয়েআছিস মহিলা-বাচ্ছা-বয়স্কদের চুরিকরে ধরেএনে তাদেরই ফ্যামিলির দেওয়া ভিক্ষের দান হাতপেতে নিয়ে নিয়ে . . অবশ্য মানুষ হলে তো লজ্জা করবে . . খেটে খাওয়ার মুরোদ নেই !?

তুমুল আঘাতে ছিটকেপড়ে আবারও উঠেদাঁড়ানোর উপক্রম করলে এবার সরাসরি মুখমন্ডলে আঘাতহানে সোমরাজের পুলিশী বুটজুতোপরা দৃঢ় পা, ফলতঃ অপ্রস্তুত, উদভ্রান্ত অবস্থায় আবারও আছড়েপড়ে বিপুল শক্তিসঞ্চিত অমরজিৎ এর দেহ !

সোমরাজ ৹ সারাজীবন কেউই তোর মাথায় হাতরেখে বাঁচাতে আসবে না রে জংলী কুকুর . . আজ, তোর পাপের হিসেবনিকেশ হবে শালা মানুষের মতো দেখতে পশু ! আয় ! . .

ঝোড়োআঘাতে দিশেহারা, কুপোকাতহয়ে পড়েথাকা দুরাচারী নায়ক কিছুক্ষণ দমনিয়ে, ভাবগতিক বুঝেউঠে আচমকা বিদ্যুৎগতিতে উঠে পুনরায় দৌড়েআসা সোমরাজের গতিশীল পায়ে ফুটবলখেলার rough tackle র ভঙ্গিমায় পুলিশ আধিকারিককে পদাঘাত করলো,

অমরজিৎ ৹ আহহহহহহঃ সরি, সরি স্যর ! খুব জোরে লাগলো না কি !?

অনভিপ্রেত আকস্মিক আঘাতে ভূপতিতহয়ে আছাড়খাওয়া সোমরাজ উঠতেগেলে পুনর্বার ছুটেএসে তার বুকে বলখেলার ফ্রি-কিক এর ঢঙে লাথিমারে ব্র্যান্ডেড স্পোর্টস স্যুপরা অমরজিৎ,

অমরজিৎ ৹ শালা চুতিয়া, হিরোর মতো ডায়লগ চোদাচ্ছিস ! নিজেদের অ্যায়শ-ও-আরামের জিন্দেগী ছেড়ে আমাদের দিকে কখনও ফিরে তাকাস যে এখন জ্ঞান মারাচ্ছিস !?

এবং আবারও মাটিছেড়ে উঠতেযাওয়া পুলিশ অফিসারের দু'পা নিজের দুই বলবান বাহুতে তুলেধরে মাথার ওপর শূন্যে সোমরাজের বলীয়ান, ভারীদেহটা অনায়াসে, ক্ষিপ্রবেগে দু'পাক চড়কিঘুরিয়ে নিকটস্থ চওড়া, গোলাকার থামে ছুঁড়েমারলো,

অমরজিৎ ৹ কোনও ফরক পড়ে শালা হারামী যে আমরা বাঁচলাম না মরলাম !? আজ তোর অ্যাকাউন্ট আমি ক্লোজ করবো !

আর রাজগৃহস্তম্ভে পিঠআছড়ে, সজোর আঘাতে মুখবিকৃতকরে থামঘেঁষে মেঝেতে গড়িয়েপড়া সোমরাজের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ বেশ কয়েকবছর বাদে ভীতি, উৎকন্ঠা, দুশ্চিন্তা, অসহায়তা, আশঙ্কা, ভালোবাসা, যন্ত্রণামেশানো তীক্ষ্ণ কন্ঠস্বরে, চেয়ারেবসা, হাত-পা দড়িতে শক্তকরে বাঁধাঅবস্থায় রুক্ষকেশে, পরিচর্যাবিহীন মুখ-ত্বকে, কিছুদিনধরে পরেথাকা একই মলিন হয়েওঠা শাড়ি-ব্লাউজে দেবারতি বিকট, কানফাটানো চিৎকারকরে উঠলো -

সোওওওওওওওওমমমম❗️

বেশ কয়েকবছর বাদে মুখোমুখি দেবারতি-সোমরাজ . . . ভিন্ন মেজাজ-মানসিকতা-আবহ-পরিস্থিতি-পারিপার্শ্বিকতায় . . তবুও আমনে-সামনে তো ! দু'জনে নির্বাক, শুধু চোখেরা কথা বলছে‼️. . . বিয়ের বেশকিছুবছর পর দেবারতিকে এই প্রথম দেখছে সোমরাজ, দেবারতিরও পুলিশউর্দিতে সোমকে এ প্রথম দেখা❗️. . যার কি না নিজেদের অঙ্গন-ছাদে ভিজে কাপড় মেলবার (গামছা/তোয়ালেবাঁধা খোঁপায়)-শুকিয়েযাওয়া জামাকাপড় পুনরায় তুলেনেওয়ার-রান্নায়/গৃহস্থালী কাজকর্মে মাকে সহযোগিতা করার-বাবাকে চশমা-ওষুধ-খবরের কাগজ-টুকিটাকি হাতে এগিয়ে দেওয়ার-আত্মীয়/প্রতিবেশীদের সাথে সৌজন্য বজায়রেখে-উদরে শিশুপ্রাণ সযত্নে রক্ষাকরে, ঘরআলোকরে বংশধরের জন্মদিয়ে ক্রমপর্যায়ে একদিন সংসারের চাবির গোছা মায়ের আঁচলথেকে নিজের শাড়ির খুঁটে বেঁধেনেওয়ার কথা সে আজ অন্যের গেরস্থে সন্ধ্যাবাতি জ্বালছে‼️. . . এবং সেই সন্তান-সন্ততির প্রতিপালন-বেড়েওঠা-বড়হওয়া-প্রকৃতমানুষে রূপান্তরের মধ্যেই দেবারতি আর নিজের জীবনচক্রের পূর্ণতা দেখতেচেয়েছিল যে সোমরাজ, তার বদলে সে এখন চাক্ষুষকরছে চিরাগের নামে (ফিকেহয়েযাওয়া) সিঁথিরাঙানো শুষ্করূপা, লাবণ্যহীনা, অপরাধ-আলয়ের দড়ির কঠিন বাঁধনে অসহায়-দৃষ্টিনিয়ে বসেথাকা, অঝোরে কেঁদেচলা শিশুকন্যা অলিভিয়া-জননীকে . .

নিজেকে কিছুটা সামলেনিয়ে বহুদিন পর শোনা কিন্তু একলহমায় চিনেনেওয়া দেবারতির উদ্বেগকন্ঠকে আশ্বস্তকরে প্রশমিত করবার লক্ষ্যে চোখমেলে, উঠেবসে, হাতনাড়িয়ে যেন সেই traditional চারিত্রিক signature style এ 'আমি ঠিক আছি' বার্তার জানানদেওয়া যার পরমুহূর্তেই উর্দিধারকের মুখপানে নিক্ষিপ্তহওয়া অমরজিৎ এর দানবসুলভ পদাঘাতে সোমরাজের আবারও ছিটকেযাওয়া, ঠোঁটের কোণবেয়ে রক্তঝরা

অমরজিৎ ৹ আর বেশিক্ষণ ঠিক থাকবি না ! কিন্তু বউটা তোর কে হয় বল তো !? বহৎ ইয়ারানা মনেহচ্ছে ! একদম হিরো-হিরোইনের মতো তাকিয়েছিলি, চোখের পলক পড়ছিল না বাবু ! কোনও চক্কর-টক্কর আছে না কি সাহেব !? হোঃ হোঃ

ও রজ্জুবন্দী দেবারতির ততোই বিচলিত হওয়া ! অবসন্ন নারীশরীর যেন সর্বশক্তিদিয়ে হাত-পায়ের বাঁধন ছেঁড়বার মরিয়াচেষ্টা করেউঠলো এককালের সখাকে ওহেন নির্মমতায় প্রহৃত হতেদেখে ! তারপর আরও একবার উঠেপড়া সোমরাজের দিকে যেন গোল-কিকনিতেআসা ছুটন্ত অমরজিৎকে পোড়খাওয়া ডিফেন্ডারের কায়দায় বীভৎস কড়া tackle করলে ভয়াবহ ধাক্কায় মুখথুবড়ে পড়ে কুখ্যাত গ্যাংস্টার, যে ঘটনার প্রায় আলোকপ্রবাহ গতিতে সুযোগনিয়ে অমরজিৎ এর প্রসারিত পদযুগলধরে সোমরাজ ঠিক ধোপার কাপড় আছাড়দেওয়ার অনুরূপ কিন্তু আড়াআড়িভাবে, রাজমহলের একতলার মেঝেথেকে দোতলা পর্যন্ত সংযুক্ত পিলারগুলোয়, অনেক ব্যক্তির অসময়ের মৃত্যুর কারণ ঐ ক্রুর পশুমস্তিষ্কের দীর্ঘ, ওজনদার, সুগঠিত মানুষের শরীরখানা তুলে তুলে আছাড়মারতে লাগলো অমরজিৎকে নিজমুখো রেখে থামগুলোয় পিঠকরিয়ে . . আবার, আবারও, আরও একবার . . .

সোমরাজ ৹ তোর হিংসার থিয়োরিতে তো সব গরীব লোককেই ক্রিমিনাল হতেহবে ! মেয়েমানুষ-বয়ঃজ্যেষ্ঠদের ইজ্জতকরা তো ছেড়েই দে তুই তো গন্ডার, মেহনতী, ইমানদার ইনসানেদের দেখেও কিছু শিখিস নি ! ছিঃ আবার বড়বড় কথা ! হাঃ অ্যাকাউন্ট ওপেন বা ক্লোজ করতে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের অ্যাপ্রুভাল লাগে, যিনি ঐ ওপরে, সেটা জানিস তো !? ওঁর-আমার রিলেশন বুঝতেগেলে তোকে আবার সত্যিকারের মানুষজন্মনিতে হবে শালা রাক্ষস !

মার সোম, আরও মার, আরও আরও মেরে ফাটিয়ে দে ! শেষ করে ফেল জানোয়ারটাকে ! সবগুলোকেই ! এরা জন্তুরও অধম, একজনকেও আস্ত রাখবি না ! আমাদের মতো সাধারণ, নিরপরাধ লোককে জোরকরে ধরেনিয়েএসে এরা প্রচন্ড অত্যাচার, অসভ্যতা, নোংরামী, দুর্ব্যবহার, অমানুষের মতো আচরণ করে আর জুলুমবাজি করে, ভয়দেখিয়ে বাড়ির মানুষজনের কাছথেকে টাকা, অন্যান্য অনেককিছুই আদায়করে !!! জলজ্যান্ত বুনো নেকড়ে-চিতা এক-একখানা ! . .

বহুসময়ধরে অবদমিত বিষোদ্গার দেবারতির !

চোখেরসামনে অন্নসংস্থান করেদেওয়া মনিবের দশাসই দেহটাকে যেন খেলারছলেনিয়ে পুরোনো রাজভবনের থামে আছড়াতেথাকা সোমরাজের পিঠে, জঙ্ঘার পেছনের অংশে অমরজিৎ এর মুখ্য সেনাপতিগোছের একজন, বাড়ির জলনিকাশে ব্যবহৃত চওড়া লম্ববৃত্তাকার লোহার পাইপদিয়ে আকস্মিক পেছনথেকে আঘাতকরলে চোটপেয়ে ব্যথায় লুটিয়েপড়ে অন্যতম কেন্দ্রীয় সরকারী পুলিশ আধিকারিক এবং শত্রুসংহারের সেই ছন্দপতনের সুযোগনিয়ে তৎকালীন অমরজিৎ-বাহিনীর জীবিত, দলপতিসহ মোট দশজন ক্রিমিনাল দেবারতিকে চেয়ারের বাঁধনমুক্তকরে, এ বার হাত-মুখ বেঁধে সঙ্গেনিয়ে, Force কোম্পানীর সাদারঙের, কমসংখ্যক যাত্রীবাহী two seater গাড়িতে যাবতীয় প্রয়োজনীয় দ্রব্য-অস্ত্র বোঝাইকরে এয়ারপোর্ট অভিমুখে বাহনছোটায় কারণ ইতিমধ্যেই তারা তাদের চরমাধ্যমে জেনেগিয়েছে যে, রাজ্যের সড়ক-জলপথবেষ্টিত সীমানা কার্যত sealed, নিশ্ছিদ্র, অতন্দ্র প্রহরায় পুলিশরক্ষীরা অমরজিৎ & Co.কে আটককরতে প্রস্তুত যে ব্যবস্থা বিমানবন্দরে থাকলেও এই মুহূর্তে আর কোনও অপশন নেই ও একবার যদি সেখানে ফাঁকিদিয়ে যেনতেনপ্রকারেণ উড়েযাওয়া যায় তাহলে এযাত্রায় অন্ততঃ নিশ্চিন্ত ! বর্তমান লোকেশন এবং পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত আপডেট শালিনীকে জানায় সোমরাজ-সহকর্মীরা ও হেডকোয়াটার্সের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট টাস্ক ফোর্সের সহায়তায় আরও সশস্ত্র পুলিশ অফিসার-জওয়ান তখনই রওনা দেয়। এদিকে, তাদের সুপ্রীমোকে যোগ্যসঙ্গতদেওয়া, বেঁচেথাকা চারজন অফিসার, মুখবাঁধবারসময় সোমরাজের উদ্দেশ্যে করেওঠা দেবারতির বিদীর্ণকরা চেঁচামেচিতে অবস্থাসম্পর্কে সজাগহয়েযাওয়া IPS এর নির্দেশ মোতাবেক কালো Scorpio প্রায় উড়িয়েনিয়ে ছুটেআসছে Force ধাওয়াকরে যা দেখে গভীর, প্রায় জনমানবহীন শেষরাতের রাস্তায় যেন গতির ঝড় তুললো অমর-যান, পেছন পেছন Scorpioও কম যায় না ! একেবারে প্রায় বলিউডিঢঙে Rohit Shetty পরিচালিত সিনেমার দৃশ্য❗️আর দু'টো গাড়িই যখন ভোরের আলো ফোটার কিছুক্ষণ আগের নিকষকালো অন্ধকারেঢাকা আকাশতলে পার্ক স্ট্রিট-ময়দান মেট্রোস্টেশন-মেয়ো রোড লাগোয়া বিস্তীর্ণ সবুজগালিচার পাশদিয়ে উন্নত নগরপথে ঝলমলে সড়কবাতির ঊজ্জ্বলতায় টপগিয়ারে গন্তব্যলক্ষ্যে ছুটেচলেছে তখন প্রায় পিষেফেলার গতিতে, রাক্ষুসে ধাবমানতায় পাশের লেনথেকে যেন একলাফে Force এর অদূরে, সমুখপথে এসেপড়ে আড়াআড়ি পথরোধকরে দাঁড়ালো আরও একখানা army green রঙের Scorpio, যার এহেন ভয়ঙ্কর, চিন্তারও অতীত আবির্ভাবে যেন মানুষের বিষম খাওয়ার ঢঙে রাস্তাকে চারচাকার দু'এক কামড়ে ধরতে ব্যর্থহওয়া ব্রেককষেরাখা Force ঘষেঘষে, রগড়াতে রগড়াতে পথআগলানো Scorpio র এককদম আগেএসে থামতেপেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো ! মুহূর্তও বিলম্ব না করে ২য় Scorpio থেকে নেমেএলো পুরোনো রাজপ্রাসাদে পাওয়া আঘাত সামলেওঠা সোমরাজ এবং দুষ্কৃতী-যানের ড্রাইভার সিটেবসা ১০ম সদস্যকে এক হ্যাঁচকাটানে গাড়ির বাইরে টেনেএনে গুলিকরলো ও তারই সূত্রধরে অমিতবিক্রমে আরও এক ক্ষিপ্রটানে বন্ধদরজা খুলে forcefully Force Traveller র ভেতরঢুকে সর্বপ্রথম ঠান্ডামাথায় অবস্থান বুঝেনিল আর ৯ম দুর্বৃত্তকে গুলিবিদ্ধকরে ৮ম জনকে খোলা দরজাদিয়ে বাইরে ছুঁড়েফেলে, ৭ম দস্যুর কপালবিদ্ধ করলো হাতেধরা আগ্নেয়াস্ত্রয় এবং দ্রুত সামনেএগিয়ে ছোট ঐ বাসের একদম পেছনে বসেথাকা অমরজিৎ এর মুখে এক চোখমুখ অন্ধকার করেদেওয়া লাথিকষালো ও পরবর্তী কিছু বুঝেওঠার আগেই তার চুলের মুঠিধরে ক্ষিপ্রতায় টেনেনিয়ে গাড়ির বাইরে এনে জীবিত গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে গুন্ডানেতার বামথাইতে গুলিদাগে এবং অমরজিৎ এর কোমরেসাঁটানো রিভলভার কেড়েনিয়ে প্রায় বিদ্যুৎবেগে বাসের দিকে ধেয়েযায় চলতেথাকা গুলিযুদ্ধের মধ্যে অরক্ষিত অবস্থায় বাসের ঠিক পেছনের আগের সিটে সেঁধিয়েযাওয়া, ভয়েসিঁটিয়ে বসেথাকা দেবারতিকে উদ্ধারার্থে। ততক্ষণে টাস্ক ফোর্সের আধিকারিকদের হাতে ৮ম দুষ্কৃতী খতম আর বাসেউঠে বাকিদেরও হাল একই করবার অভিপ্রায়ে গ্যাংস্টারদের সঙ্গে গুলিবিনিময়ে অতর্কিত ছুটেআসা বুলেটে দুই জওয়ান নিহত হন ও অবশিষ্ট দু'জন অফিসারের জবাবী প্রতিআক্রমণে ৬ঠ আর ৫ম, গুন্ডারাজ-মিত্রেরা দেহ রাখলেও শয়তান-দলের ৪র্থ সদস্যের ছোঁড়া গুলিতে আরও একজন অফিসারের মৃত্যু হয় এবং যেন ঝড়ের গতিতে Force Traveller এর মধ্যে ঢুকে ঐ সতীর্থের দেহে প্রাণ থাকতেথাকতেই ৪র্থ ও ৩য়, শত্রুদল-সহযোগীর মাথার খুলিউড়েযায় সোমরাজের হাতেধরেথাকা বন্দুকের অব্যর্থ বুলেট-নিশানায় কিন্তু দলাধিনায়কছাড়া সেই বাহিনীর সর্বশেষ জ্যান্ত অমরজিৎ-বান্ধব, হিরণ্যকশিপু র পিস্তলের নলহয়ে বেরোনো দু'দুটো অগ্নিপ্রজ্জ্বলনকারী ঘাতক উপাদান সোমরাজের বুকের ডানদিকে এবং পেটের বাঁদিকে গেঁথেযেতেই পরিস্থিতির মোড়ঘোরে ও মুখবাঁধাঅবস্থায়ও বেদনা-যন্ত্রণা-অসহায়তার গলাফাটা চিৎকারজুড়তেচেয়ে গুলিখাওয়া সোমের দিকে ছুটেআসতেচাওয়া দেবারতিকে বাহুবলে জোরকরে আটকিয়ে, বন্দিনীর মাথায় বন্দুকঠেকিয়ে, লুটিয়েপড়তেথাকা সিনিয়রকেনিয়ে টাস্ক ফোর্সের অন্তিম জীবিত সহ-অফিসারকে বাসথেকে নেমেযেতে নির্দেশ দেয় ঐ অমরজিৎ-অনুচর, আর তখনই টাস্ক ফোর্সের সহায়তায় প্রেরিত আরও সশস্ত্র পুলিশ অফিসার-জওয়ানদলের উপস্থিতি ও ঘটনাস্থল ঘিরেফেলা, যে মুহূর্তে আবারও লোকেশন এবং পরিস্থিতির সর্বশেষ আপডেট শালিনীকে জানায় সোমরাজ-কলিগ ও অদূরে অবস্থিত হেডকোয়াটার্সের ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসক-নার্স-আপৎকালীন জরুরি ডাক্তারি পরিষেবার সহায়ক বৈশিষ্ট্যবিশিষ্ট অ্যাম্বুল্যান্সসহ এক পর্যাপ্ত বাহিনী তড়িৎগতিতে বের হয় . . আর গুলিবিদ্ধ, রক্তঝরতেথাকা পা নিয়ে নিজেদের পথযানের দিকে খোঁড়াতেখোঁড়াতেআসা সমাজের বুকে ক্ষতদগদগে ক্যানসার, পুলিশ ডিপার্টমেন্টের মাথাব্যথাহয়েওঠা দুরাচারীর আদেশে তার দিকে বাসের জানালাদিয়ে হাতগলিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ছুঁড়েদিতেআসার সেই মুহূর্তের last moment opportunityকে কোনওভাবেই হাতগলতে না দিয়ে যেন উসেইন বোল্ট-গতিতে Traveller এর অন্দরে লাফদিয়েঢুকে তখন দেবারতির শিরস্থানথেকে তাককরা পিস্তল সাময়িক সরিয়েনেওয়া দুর্বৃত্তের স্পন্দনরত হৃদপিন্ড স্তব্ধ করেদিল সোমরাজের হাতেধরা বন্দুকথেকে বেরহওয়া লক্ষ্যেবিদ্ধ গুলি আর এই ঝুঁকির মূল্য, কলকাতায় ডেপুটেশনেআসা IPS বুকে আরও একটা গুলি হজমকরে দিলেন এবং ততক্ষণে পুলিশ বিভাগের একজন দৃষ্টান্তস্থাপনকারী প্রতিনিধির কাছে কায়িক-বৌদ্ধিক-নানাবিধ ক্ষিপ্রতার লড়াইয়ে হেরেবসেথাকা, অপরাধজগতের একখানা যুগের ধারক-বাহক, সোমরাজের চালানো বুলেট-বেঁধা পায়ে, যন্ত্রণাক্লিষ্টমুখে, বহু দুষ্কর্মের সহযোগীর ঐ শেষবারের মতো ছুঁড়েবাড়ানো আগ্নেয়াস্ত্র কুড়িয়েতুলে তাককরতে যাওয়ার পরই সোমরাজ-সহযোদ্ধা অগ্নিভ র স্থিরবাহুতে চালানো রিভলভারের গুলিতে গুলিতে ঝাঁঝড়া হয়েগেল অমরজিৎ এর দেহ, লুটিয়ে মাটিতেপড়ে রক্তে ভেসেযেতেলাগলো নিথর বিশাল দেহখানা . . . এরপর গাড়ির ভেতর মেঝেতে সোমরাজের শায়িত, দীর্ঘ, নিস্তেজ হয়েআসা শরীরের কাছে উক্ত সহকর্মীর দৌড়েআসা, পাশেবসেথাকা দেবারতির হাত-মুখের বাঁধন খুলেদেওয়া . . (ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক) সেখানে তোমার ভালোবাসা শুয়েআছে . .

তারপর শালিনীসহ পুলিশ-চিকিৎসা বিভাগের পারিপার্শ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরন্তপনায় আর সোমরাজের সহকারী আধিকারিকসহ সংযুক্ত প্রশাসনিক বিভাগের দুর্দান্ত, যেন বিদ্যুৎসম গতিময় তৎপরতায় সোমের ICUতে hospitalisation, শহরের এক ঐতিহ্যবাহী হাসপাতালে গঠিত বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণে প্রথিতযশা, অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়, নিয়মমাফিক দেখভালে দিল্লী-অফিসারের সত্বর আরোগ্যলাভ এবং discharge লাভের দিন যখন অদূরেই বাবা-মা, IPS শালিনীসহ ঊর্ধ্বতন-অধস্তন অফিসার-কর্মীবৃন্দদের সাথে সপরিবারে হাসিমুখে দাঁড়িয়েথাকা দেবারতি-চিরাগের ছোট্ট সন্তান ফুলেরতোড়া নিয়ে দৌড়ে কাছে এসে বললো -

Uncle, I love you❗️

বিনিময়ে ঐ flower bouquet শিশুটির হাতথেকে সহাস্যে গ্রহনকরে সস্নেহে তাকে জড়িয়েধরে অশ্রুসজল নয়নে দেবারতির চোখে চেয়ে সোমরাজ বলেউঠলো -

I love you too ‼️