নববধূর সর্বনাশ (পর্ব -৩)

Nobobodhur Sorbonash 3

লেখক: Subha007

ক্যাটাগরি: জোরপূর্বক

সিরিজ: নববধূর সর্বনাশ

প্রকাশের সময়:16 Nov 2025

আগের পর্ব: নববধূর সর্বনাশ (পর্ব -২)

চতুর্থ অধ্যায় - বিয়ের পাকাকথা

তারিখ :- ১৯ শে মে, ২০২৪ রবিবার সময় :- বিকাল ৫ টা

আদিত্য, ওর বাবা মা আর ভাই সঙ্গে কিছু আত্মীয় আজ এসেছে মধুশ্রীর বাড়ি। আজ ওদের বিয়ের পাকাকথা হবে। আজ জমিয়ে খাওয়া দাওয়ার আয়োজনও করা হয়েছে মধুশ্রীর বাড়িতে। আদিত্যর বাবা আজ আদিত্যকে আসতে মানা করেছিলো কিন্তু মধুশ্রী ওকে আজ কল করে ডেকে নিয়েছে। আদিত্যকে বেশ পছন্দ হয়েছে মধুশ্রীর। মধুশ্রী চায় একান্তে ওর সাথে একটু কথা বলতে। আজ সবার মনেই বেশ আনন্দ। মধুশ্রীর বাবা মায়ের সাথে আদিত্যর বাবা মায়ের বেশ কথা হলো। বিয়ের ডেট ঠিক করা হলো পঞ্জিকা দেখে। আগামী ১৭ ই নভেম্বর, ২০২৪ এ ওদের চার হাত এক করা হবে। এরপর মধুশ্রীর বাবা মৃন্ময় বাবু দেনা পাওনার কথা বলতে গেলে আদিত্যর বাবা অবিনাশ বাবু বললেন যে তাদের কিছুই লাগবে না। মধুশ্রীর মতো মেয়েকে তারা ঘরের বৌ করে তুলবে এটা তাদের কাছে যথেষ্ট। ওরা কিছু না চাইতেই পারে তাই বলে কি মৃন্ময় বাবু থেমে থাকবেন?? ওনার একমাত্র আদুরে মেয়ের বিয়ে বলে কথা। বেশ ধুমধাম করেই বিয়েটা হবে আর দানসামগ্রীও দেওয়া হবে অনেক। সোনার অলংকারে ভরিয়ে দেওয়া হবে নবদম্পত্তিকে। যাইহোক এই সমস্ত কথা হয়ে যাওয়ার পর রাত নয়টার মধ্যে রাতের খাওয়া দাওয়া সেড়ে বাড়ির পথে রওনা দিলেন অবিনাশ বাবুরা। আজ মধুশ্রী আদিত্যর সাথে ওর ফোন নম্বর দেওয়া নেওয়া করেছে। বিয়ে যখন ফিক্স হয়েই গেছে তখন বিয়ের আগে হবু বরের সাথে একটু প্রেম করতে দোষ কোথায়?? আর তো মাত্র ছয় মাস! তারপরেই ওদের বিয়ে হবে ধুমধাম করে।

সেদিন রাতেই মধুশ্রী তার এক পাতানো দাদাকে ফোন করে জানায় যে তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। ওর দাদা খবরটা শুনে খুব আনন্দিত হয়। এবার ওদের দুজনের ভিতরের ফোনের কথোপকথন একটু তুলে ধরছি। — দাদা জানো আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। — বাহ্! খুব ভালো খবর শোনালি রে বোন। কোথাকার ছেলে?? কি করে?? পরিবার ভালো তো?? — হ্যাঁ, দাদা। একদম আমার মনের মতো হয়েছে জানো। ও কলকাতায় কাজ করে, ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু বাড়ি বর্ধমানে। — বাহ্ খুব ভালো। তা তোর হবু বরের নাম কি রে?? — আদিত্য। আদিত্য মুখার্জী। — বাহ্ খুব ভালো নাম। একটা ছবি পাঠাস আমায় হোয়াটস্যাপ এ। একটু দেখবো। — ঠিকাছে দাদা। পাঠিয়ে দেবো। তোমাকে কিন্তু আমার বিয়েতে আসতেই হবে দাদা। — নিশ্চই যাবো রে বোন। আমার এদিকে কাজের চাপ ও অনেক। যাইহোক তোর বিয়েটা কবে হচ্ছে বল?? — এই বছরই ১৭ই নভেম্বর। — বাহ্ খুব ভালো রে। সাবধানে থাকিস বোন। রাখলাম। — ছবি গুলো পাঠিয়ে দিচ্ছি তোমায় হোয়াটস্যাপ এ। — হ্যাঁ একদম।

ফোন রেখে দিলো মধুশ্রী আর তারপর ওর দাদাকে আদিত্যর ছবি গুলো পাঠিয়ে দিলো। আদিত্যর ছবি দেখে মধুশ্রীর দাদা বললো, “বাহ্, বেশ ভালো ছেলে। তোরা খুব সুখী হবি।” মধুশ্রী বললো, “ধন্যবাদ দাদা।”

পঞ্চম অধ্যায় - প্রথম খুনের ময়না তদন্তের রিপোর্ট

তারিখ :- ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২৪ সোমবার সময় :- সকাল ১০ টা বেজে ৩০ মিনিট

ফরেনসিক ডাক্তার মিস্টার মিত্র ইন্সপেক্টর সমাদ্দারকে বললেন, “বুঝলে সমাদ্দার খুনি কিন্তু বেশ প্রতিভাবান।” ইন্সপেক্টর বললেন, “মানে?? কি বলতে চাইছেন আপনি?? ডক্টর মিত্র বললেন, “আমি বলতে চাইছি খুনির অনেক প্রতিভা আছে, সে খুব সহজে খুনটা করে নি। বেশ পাকা খেলোয়াড় খুনি। অনেক কষ্ট দিয়ে তবেই খুনটা করেছে ভিক্টিমকে। মনে হয় কোনো কিছুর রাগ উগরে দিয়েছে।” ইন্সপেক্টর সমাদ্দার বললেন, “কি কি প্রতিভা আছে খুনির?? একটু বলুন।” ডক্টর মিত্র বললেন, “প্রথমত খুনির বুদ্ধির তো অনেক তারিফ করতেই হয়। এতো সুন্দর প্ল্যান করেছে যে আপনারা খুনির বিরুদ্ধে কোনো ক্লু খুঁজে পান নি। আর দ্বিতীয়ত খুনির শারীরিক ক্ষমতা এবং অ্যাকশন স্টাইলের প্রশংসা না করে পারলাম না।” ইন্সপেক্টর সমাদ্দার বললেন, “অ্যাকশন স্টাইল বলতে কি বোঝাতে চাইছেন?” ডক্টর মিত্র আবার বললেন, “প্রথমত খুনি অনেক বড়ো বক্সার। এই যে দেখুন ভিক্টিমকে প্রথমে এমন এক একটা পাঞ্চ করেছে যে ভিক্টিম কিছু করে ওঠারই সুযোগ পান নি। দ্বিতীয়ত খুনি মার্শাল আর্ট ও জানে। ভিক্টিম এর কত গুলো হাড় ভেঙেছে দেখুন। এগুলো ভিক্টিমকে খুন করার আগে। তারপর ভিক্টিমকে ধরাশায়ী করে ওর সারা দেহে ছোট কোনো ধারালো ছুঁড়ি দিয়ে ক্রস মার্ক টেনেছে এবং তারপর তার পুরুষাঙ্গ কেটেছে। এই সব যন্ত্রনা খুনি সহ্য করেছে। তারপর তাকে বেশ ধারালো কোনো তরবারি বা ওই জাতীয় কোনো অস্ত্র দিয়ে কেঁটে খন্ড করেছে।” ইন্সপেক্টর সমাদ্দার বললেন, “তার মানে স্পষ্ট বোঝাই যাচ্ছে যে খুনি বেশ আক্রোশ নিয়েই খুনটা করেছে।” ডক্টর মিত্র বললেন, “হ্যাঁ, তা তো অবশ্যই। আপনি ভালো করে তদন্ত করুন। কি হয়েছিলো। এমনও তো হতে পারে খুনি কোনো ভয়ঙ্কর কিছুর প্রতিশোধ তুলছে।” ইন্সপেক্টর সমাদ্দার বললেন, “তদন্ত তো চলছেই ডক্টর মিত্র। দেখি কতদূর কি করা যায়।”

ষষ্ঠ অধ্যায় - বিয়ের আগে প্রথম ডেটিং

তারিখ :- ২৫ শে জুন, ২০২৪ মঙ্গলবার সময় :- বিকাল ৬ টা

আজ আদিত্য আর মধুশ্রী একটা কফি শপে এসেছে। দুটো কফি অর্ডার করে ওরা দুজন টেবিলের দুইপ্রান্তে দুটো চেয়ারে বসে আছে। একে ওপরের থেকে যেন চোখ ফেরাতে পারছে না। অনেক প্রেমের গল্প চলছে দুজনের মধ্যে। হঠাৎ আদিত্য বললো, “তোমায় নিয়ে বিয়ের সব কেনাকাটা করতে বেরোবো।” মধুশ্রী বললো, “তোমরাই তো কিনে নিতে পারো। আমাকে আবার যেতে হবে??” আদিত্য বললো, “না তোমার জিনিস তোমাকেই পছন্দ করতে হবে।” মধুশ্রী বললো, “আচ্ছা ঠিকাছে তাই হবে।” এরপর আদিত্য আর মধুশ্রী একে অন্যের দিকে তাকিয়ে কফির কাপে চুমুক দিতে থাকলো। বিভিন্ন কথা বার্তা হলো দুজনের মধ্যে। একঘন্টা পর বেরিয়েও গেল দুজনে ওই কফি শপ থেকে। বাইরে বেরিয়ে আদিত্য মধুশ্রীর হাতটা ধরলো আর দুজনে হাত ধরে হাঁটতে লাগলো। মধুশ্রী ওর মাথাটা আদিত্যর কাঁধে রেখেছে। তারপর আধঘন্টা দুজনে একটু ঘোরাঘুরি করে বাড়ি ফিরে গেল। আদিত্য মধুশ্রীকে ওর বাড়িতে ছেড়ে দিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো। ওই দিনেই রাতে মধুশ্রী আদিত্যকে ফোন করলো। মধুশ্রী আদিত্যকে জিজ্ঞাসা করলো, “আদিত্য আজ তুমি আমাকে একা পেয়েও একটা কিস পর্যন্ত করলে না??” আদিত্য বললো, “আমি চাইলেই করতে পারতাম কিন্তু আমি যা করার বিয়ের পরই করবো। মধুশ্রী বললো, “জানো আদিত্য এই জন্যই আমার তোমাকে আমার এতো ভালো লাগে। তুমি খুব ভালো।” আদিত্য বললো, “তুমিও ভীষণ ভালো। শোনো না যেদিন বিয়ের কেনাকাটা করতে যাবো সেদিন তোমায় বলবো। তুমি সেদিন আমাদের সাথে আসবে।” মধুশ্রী বললো, “ঠিকাছে বাবা যাবো তো। চলো অনেক রাত হয়েছে, এখন ঘুমাও।” আদিত্য বললো, “হ্যাঁ, গুড নাইট, রাখলাম।” মধুশ্রীও বললো, “হ্যাঁ রাখো, গুড নাইট, বাই।”

সপ্তম অধ্যায় :- আবার নৃশংস হত্যা

তারিখ :- ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০২৪ শুক্রবার সময় :- রাত ১১ টা

এবার খুন কলকাতার বেহালা অঞ্চলে। এবার খুন হলেন কলকাতা হাই কোর্টের এক সনামধন্য অ্যাডভোকেট। উনি অবিবাহিত। বয়স ওই ৪০ বছরেরই কাছাকাছি। হয়তো ৩৯ বছর বয়স হবে। মাত্র এক সপ্তাহের গ্যাপে আরেকটা খুন হয়ে গেল। ভিক্টিমের বাড়ির সামনে প্রচুর মানুষের ভিড়। লোকাল থানার ওসি মিস্টার দাস এসেছেন। ক্রাইম ব্রাঞ্চ এ খবর যাওয়ায় ইন্সপেক্টর সমাদ্দার তার দলবল নিয়ে চলে আসেন। দেখা যায় এক জন নামকরা উকিলের মৃতদেহ। তবে এবারের খুনটা নৃশংস হলেও একটু অন্য রকম। তবে হ্যাঁ এক্ষেত্রে কয়েকটা কমন জিনিস আছে। যেমন সেই দেওয়ালে রক্ত দিয়ে লেখা রয়েছে ‘প্রথম রিপু’, এবং চারটে গোল চিহ্ন এঁকে তার মধ্যে দুটোকে ক্রস করে দিয়েছে। পুরুষাঙ্গ কাঁটা হয়েছে ধারালো ছুঁড়ি দিয়ে এবং যতদূর সম্ভবত এই ভিক্টিমের ওপরেও খুনি তার বক্সিং এবং মার্শাল আর্ট এর স্কিল দেখিয়েছে। তবে এখানে খুনির শরীরকে খন্ড বিখন্ড করা হয় নি বা খুনির দেহের ওপরে ক্রস মার্ক এর মতো কাটাও হয়নি। বরং নাইন এম এম পিস্তল দিয়ে গোটা শরীরটাকে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে। তবে বাইরে প্রতিবেশীদের থেকে জানা গেছে যে কোনো গুলি চলার আওয়াজ পাওয়া যায় নি। তবে সেটা ঘরের ভিতরে চলা মিউসিক সিস্টেমের জন্যও হতে পারে আবার এমনও হতে পারে যে খুনি পিস্তলে সাইলেন্সার ব্যবহার করেছে। ইনভেস্টিগেশনে নেমেও বিশেষ কিছুই উদ্ধার করতে পারলো না পুলিশ। ভিক্টিমের বাড়িতে সেদিন ভিক্টিম ছাড়া অন্য কেউ ছিলও না। তাই খুনির আরো সহজ হয়েছে খুন করতে। তবে প্রতিবেশীদের থেকে পুলিশ জানতে পারে। একটা গাড়িতে করে একটা বিবাহিত মেয়েকে নিয়ে এসেছিলো একটা মাঝবয়স্ক লোক। ভিক্টিম খুন হবার খবর পেতেই তারা আর দাঁড়ায় নি। সোজা গাড়ি ইউ টার্ন মেরে ব্যাক করে গেছে। তবে এই বিষয়টা সন্দেহ জনক লাগায় একজন প্রতিবেশী ওই গাড়ির নম্বরটা নোট করেছিলো। সে পুলিশকে সেটাই দিয়ে দেয়। পুলিশ গোটা বাড়িটা সিল করে এবং ভিক্টিমের মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেয়। আবার একটা হাই প্রোফাইল মানুষ খুন হলো। এই খুনের নেপথ্যে কে রয়েছে?? একজন নাকি একের অধিক?? পুলিশের কাছে সবই ধোঁয়াশা। তবুও তদন্ত জারি রেখেছে পুলিশ।

চলবে... গল্পটা কেমন লাগছে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন...

ভালো লাগলে লাইক দেবেন আর আমার প্রোফাইলটা ফলো করবেন ।।।

কে খুন গুলো করছে বুঝতে পারছেন কিছু?? জানতে হলে অবশ্যই পড়ুন আমার লেখা নতুন সিরিজ "নববধূর সর্বনাশ"...