নববধূর সর্বনাশ (পর্ব -৪)

Nobobodhur Sorbonash 4

লেখক: Subha007

ক্যাটাগরি: জোরপূর্বক

সিরিজ: নববধূর সর্বনাশ

প্রকাশের সময়:17 Nov 2025

আগের পর্ব: নববধূর সর্বনাশ (পর্ব -৩)

অষ্টম অধ্যায় :- বিয়ের কেনাকাটা

তারিখ :- ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৪ শনিবার সময় :- দুপুর ২ টো

আজ আদিত্য আর মধুশ্রীর পরিবার কলকাতায় বিয়ের কেনাকাটা করতে এসেছে একসাথে। মধুশ্রী বিয়ের দিন একটা রেড কালারের দামী বেনারসী শাড়ি আর বৌভাতের দিনের জন্য একটা রেড কালারের দামী লেহেঙ্গা কিনলো। আদিত্য বিয়ের দিনের জন্য একটা পাঞ্জাবী, ধুতি আর বৌভাতের দিনের জন্য একটা রয়্যাল ব্লু কালারের শেরোয়ানি আর গোল্ডেন কালারের চুড়ি প্যান্ট কিনলো। এছাড়া দুজনে জুতো কিনলো। আরো বিভিন্ন জিনিস কেনাকাটা করলো। সবার জন্য শাড়ি, জামাকাপড় কেনা হলো। মধুশ্রীর কেনাকাটাই সব চাইতে বেশি। তারপর সবাই মিলে একজায়গায় খাওয়াদাওয়া করলো। তারপর দুই পরিবারের সবাই নিজের বাড়ি চলে গেল।

নবম অধ্যায় :- দ্বিতীয় খুনের ময়না তদন্তের রিপোর্ট

তারিখ :- ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২৪ সোমবার সময় :- সকাল ১১ টা

ফরেনসিক ডাক্তার মিস্টার মিত্র ইন্সপেক্টর সমাদ্দারকে বললেন, “এইক্ষেত্রে খুনি প্যাটার্নটা একটু ব্রেক করেছে তবে এই হত্যাটাও খুবই নৃশংস। ভিক্টিমকে বক্সিং আর মার্শাল আর্ট এর সাহায্যে ধরাশায়ী করার পর খুনি প্রথমে ধারালো ছুঁড়ি দিয়ে ভিক্টিমের পুরুষাঙ্গ কেটেছে আর তারপর নাইন এম এম পিস্তল দিয়ে খুব ক্লোস রেঞ্জ থেকে মোট ২৪ টা গুলি করেছে ভিক্টিমের শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গে। পিস্তলের দুটো ম্যাগাজিন খালি করে দিয়েছে খুনি। আমি শুধু ভাবছি ঠিক কতটা রাগ থাকলে এরম ভাবে খুন করা যায় কাউকে।” ইন্সপেক্টর সমাদ্দার ডক্টর মিত্রকে বললেন, “আর একটা যদি খুন হয় আমাকে মনে হয় এই কেস থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এখনো দুটো খুন হবে বুঝলেন। এই দুটো খুনের মধ্যে একটা যোগসূত্র আছে এটা তো সিওর। দুজন ভিক্টিমই পরস্পরকে চিনতো। তবে এদের ভিতর চ্যানেল টা ঠিক কি সেটাই আমায় বের করতে হবে। আমার সামনে এখন দুটো কাজ আছে। এক নম্বর হলো ওই গাড়িটা করে কে এসেছিলো ২৭ তারিখ রাতে সেটা বের করতে হবে। যদিও এটা আমি বের করতে লোক পাঠিয়ে দিয়েছি আর দু নম্বর হলো প্রথম ভিক্টিমের যে বন্ধু ছিল সে কি এই দ্বিতীয় ভিক্টিমকে চেনে?? দেখা যাক কতটা কি করা যায়। আমার মনে হয় খুনি কোনো বড়ো অপরাধীকেই শাস্তি দিচ্ছে। আর একটা জিনিস লক্ষ্য করুন সবাই হাই প্রোফাইল মানুষ।” ডক্টর মিত্র ইন্সপেক্টর সমাদ্দারকে বললেন, “অল দা বেস্ট ইন্সপেক্টর। আমি আশা করছি আপনি খুনিকে ধরতে পারবেন। তবে খুনির ব্রেন ভীষণ শার্প, না কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া যাচ্ছে আর না কোনো প্রুফ বা উইটনেস।” ইন্সপেক্টর সমাদ্দার ডক্টর মিত্রকে বললেন, “একদম ঠিক বলেছেন ডক্টর মিত্র।”

দশম অধ্যায় :- বিয়ের দিন

তারিখ :- ১৭ ই নভেম্বর, ২০২৪ রবিবার সময় :- সকাল ৭ টা

আজ সকাল থেকে দুই বাড়িতেই বেশ ধুমধাম করে পালন হতে শুরু করেছে বিয়ের অনুষ্ঠান। এক এক করে বিয়ের সমস্ত নিয়ম পালন হতে শুরু হয়েছে। দধিমঙ্গল, গায়ে হলুদ, বৃদ্ধি সব এক এক করে হচ্ছে। আদিত্যর বাড়ি থেকে ওর ভাই আর কিছু আত্মীয় মিলে মধুশ্রীদের বাড়িতে নিয়ে গেছে গায়ে হলুদের তত্ত্ব। মধুশ্রীর বাবা মৃন্ময় বাবু তাদের সবাইকে আপ্যায়ন করছেন। বেশ জমজমাট পরিবেশ মধুশ্রী দের বাড়িতে। এদিকে আদিত্যর বিয়ে হচ্ছে ওর কেনা ফ্ল্যাট থেকেই। আদিত্যর রিসেপশন এর জন্য একটা বড়ো ভবন ভাড়া করা হয়েছে। আর দুদিন পরেই সেই ভবন বিভিন্ন রকম আলোয় চকমক করবে সঙ্গে হবে বহু মানুষের সমাগম। যাইহোক এবার আদিত্য বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আজ গোধূলি লগ্নে আদিত্য আর মধুশ্রীর বিয়ে হবে। সবাই মেতে আছে আজ বিয়ে নিয়ে, সবাই যেন খুব তাড়াহুড়ো করছে। যে যার নিজের পছন্দের সাজ সাজবে। মধুশ্রীর বাড়ির লোকের তো ভীষণ আনন্দ। একমাত্র মেয়ের বিয়ে বলে কথা। ঠিক বিকাল সাড়ে চারটের সময় আদিত্য বরের গাড়িতে চেপে বিয়ে করতে বেড়োলো। আর কিছুক্ষনের পরে বরযাত্রীর গাড়িও বেড়িয়ে পড়বে। ঠিক ছয়টায় আদিত্য বরের সাজে পৌঁছে যায় মধুশ্রীর বাড়িতে।

এদিকে বিয়েবাড়িতে তো লোকজনের ভীষণ ভিড়। বনেদি বড়োলোক বাড়ির একমাত্র মেয়ের বিয়ে বলে কথা। খাবার দাবার এর আয়োজনও হয়েছে প্রচুর। চারিদিকে কত কিছুর স্টল বসেছে। ক্যামেরাম্যানরা ফটো আর ভিডিও শুট করতে ব্যাস্ত। আলোয় ভরে গেছে চতুর্দিক। বর আসার পর তো হৈচৈ আরো বেড়ে গেছে। প্রচুর পটকা বাজি ফাটানো হচ্ছে। আদিত্যকে ওর শাশুড়ি মা বরণ করলেন। তারপর সবাই মিলে আদিত্যকে কাঁধে তুলে বরের বসার ঘরে নিয়ে গেলো। আদিত্যকে ওর সব শালীরা ঘিরে ধরেছে। সব জিজু জিজু করে পাগল। যেন মনে হচ্ছে মধুশ্রীর আগে ওরাই সবাই আদিত্যকে বিয়ে করে নেবে। এদিকে মধুশ্রীও বসে আছে কখন তার হবু স্বামীকে দেখবে সেই আশায়। যদিও ওদের দুজনের দেখাশোনা করেই বিয়ে হচ্ছে। তবুও এই কয়েকমাসে আদিত্যর অনেকটা কাছে চলে এসেছে মধুশ্রী।

বেশ কিছুক্ষন বসার পর আদিত্যর ডাক পড়ে। এদিকে বরযাত্রীর লোকেরাও এক এক করে প্রবেশ করছে। দেখতে দেখতে বিয়ের লগ্ন চলে আসে। এদিকে তার আগে রেজিস্ট্রি ম্যারেজ এর জন্য ম্যারেজ রেজিস্ট্রি অফিসার ও চলে আসেন। দুজনের রেজিস্ট্রি ম্যারেজ হয়ে যাবার পর ছাতনা তলার দিকে এগিয়ে যায় ওরা দুজন।

আদিত্য আজ যেন মধুশ্রীর দিক থেকে চোখ ফেরাতে পারছে না। একটা লাল রঙের বেনারসী শাড়িতে দুর্দান্ত লাগছে মধুশ্রীকে। ব্রাইডাল মেকআপ এ মধুশ্রীকে আলাদাই সুন্দরী লাগছে দেখতে। ম্যাচিং করে লাল রঙের সব কিছু পড়েছে মধুশ্রী। লাল বেনারসীর সঙ্গে লাল ব্লাউস। ঠোঁটে লাল রঙের ম্যাট লিপস্টিক, তার ওপর দিয়ে জবজবে লিপগ্লোস। পায়ের জুতোটাও লাল। চোখে কাজল, লাইনার, মাসকারা। চোখের পাতায় লাগানো রয়েছে লাল রঙের আই শ্যাডো। আই ল্যাশ ও লাগানো রয়েছে চোখে। মধুশ্রীর গোটা মুখে লাগানো আছে ফাউন্ডেশন আর ফেস পাউডার। তারসাথে ওর গালে লাগানো আছে লাল রঙের ব্লাশার। হাতে সুন্দর করে মেহেন্দি করা, হাতের আঙুলের নখে লাল নেইলপলিশ দিয়ে নেইল আর্ট করা রয়েছে। পায়ের পাতায় লাল আলতা। পায়ের আঙ্গুল গুলোতেও লাল নেইলপলিশ দিয়ে নেইল আর্ট করা রয়েছে। মাথার চুলটা সুন্দর করে খোঁপা করে হেয়ারপিন দিয়ে বাঁধা রয়েছে আর চুলের খোঁপায় লাগানো রয়েছে জুঁই ফুলের মালা। মধুশ্রীর শরীর থেকে মিষ্টি পারফিউমের একটা সুন্দর গন্ধ আসছে। উফঃ কি সেক্সি দেখতে লাগছে মধুশ্রীকে। দেখলেই যেন চোখ জুড়িয়ে যায়।

আদিত্য যেন মধুশ্রীর দিক থেকে চোখ ফেরাতেই পারছে না। মধুশ্রীও আদিত্যর দিকে বার বার চোখ ফিরিয়ে দেখছে। দুজন দুই পিঁড়িতে বসে রয়েছে এই মুহূর্তে। এরপর পুরোহিত মশাই বিয়ের মন্ত্র পড়তে শুরু করলেন। এক এক করে আশীর্বাদ, কন্যাদান, সাত পাক ঘোড়া, শুভদৃষ্টি, মালাবদল, সিঁদুর দান সব হলো। বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যাবার পর বর কনে দুজনেই খেতে গেল। তখন অনেকটাই রাত হয়েছে।

তারপর বাসর রাতে অনেকেই অনেক মজা করলো। আদিত্যর শালীরা ওর জুতো লুকিয়ে আদিত্যর কাছ টাকা আদায় করলো। আদিত্যর কিছু বন্ধু আর আদিত্যর ভাই বোনরাও অনেক মজা করলো রাতে। পরের দিন সকালে কন্যা বিদায়ের পালা। মধুশ্রীর বাড়ির সকলের চোখে জল। তাদের পরিবারের একমাত্র আদুরে মেয়ে আজ অন্যের সংসারে চলে যাবে। সে এক অজানা সংসার, কেউ জানে না কি হবে সেখানে। নতুন সংসারে মধুশ্রী কতটা মানিয়ে নিতে পারবে সেটা কেউ জানে না। তবুও এটাই নিয়ম, বরাবরের মতো চলে আসছে। তাই সব দুঃখ ভুলে এখন ভালোয় ভালোয় মেয়েকে বিদায় দিতে হবে। মধুশ্রীরও চোখের কোণে জল এসে গেছে। আদিত্য আর মধুশ্রী এবার গাড়ি করে বেড়িয়ে পড়লো কলকাতার উদ্দেশ্যে।

একাদশ অধ্যায় :- কালরাত্রি

তারিখ :- ১৮ ই নভেম্বর, ২০২৪ সোমবার সময় :- সকাল ৯ টা বেজে ৩০ মিনিট

পরের দিন ঠিক সকাল সাড়ে নয়টায় আদিত্য আর মধুশ্রী পৌঁছে যায় কলকাতার ফ্ল্যাটে। ফ্ল্যাটের সবাই নববধূকে ঘরে তোলার ব্যবস্থা করে। আদিত্যদের অনেক আত্মীয় এসেছে। নববধূর বরন হবে এবার। আদিত্যর মা অদিতি দেবী মধুশ্রীকে বরন করলেন। দুধে আলতার থালায় পা দিয়ে সাদা কাপড়ের ওপর দিয়ে হেঁটে চলেছে মধুশ্রী। মনে একটু ভয় ভয় পাচ্ছে ও। যদিও মধুশ্রীর এক বোন নৃৎকনে হিসাবে এসেছে ওর সাথে। আদিত্যর ঘরে যেন স্বয়ং মা লক্ষ্মী প্রবেশ করলো। এরপর সবাই নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করলো। ফ্ল্যাটের সব লোক মধুশ্রীকে দেখতে এসেছে। মধুশ্রীর রূপ দেখে সবার চোখ কপালে উঠে গেছে। সবাই মধুশ্রীর রূপের প্রশংসা করলো। ফ্ল্যাটের সবাই বলাবলি করছিলো যে আদিত্যর কপাল খুব ভালো তাই মধুশ্রীর মতো মেয়েকে সে জীবন সঙ্গিনী হিসাবে পেয়েছে। এরপর শ্বশুর বাড়ির এক একটা নিয়ম পালন করলো মধুশ্রী। যেমন দুধ উঠলানো, মাছ ধরা, আংটি খোঁজার খেলা আরো অনেক কিছু। এরপর বর বধূকে আলাদা করে দুজনকে পৃথক ঘরে পাঠানো হলো। আজ কালরাত্রি। বর আর বৌয়ের পরস্পরের মুখ দেখা আজ নিষেধ। মধুশ্রীর সাথে রাতে ওর বোন আর এক ননদ শুলো। রাতে তারা অনেক গল্প করলো। পরের দিন বৌভাতের অনুষ্ঠান আছে বাড়িতে। তাই সবাই কাল খুব ব্যাস্ত থাকবে। খুব বেশি দেরী না করে ওরা সবাই ঘুমিয়ে পড়লো।

চলবে... গল্পটা কেমন লাগছে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন...

ভালো লাগলে লাইক দেবেন আর আমার প্রোফাইলটা ফলো করবেন...

এরপর কি হতে চলেছে জানতে হলে অবশ্যই পড়তে থাকুন আমার লেখা নতুন সিরিজ "নববধূর সর্বনাশ"..........