কাজল - ওমা ব্লেড দিয়ে সম্ভব না , একটু এদিক সেদিক হলেই কেটে যাবে ।
আমি - আরে কিছুই হয় না ।
কাজল - হে আমি জানি ব্লেড যে দাঁর একটা পোস লাগলে আমি শেষ।
আমি - আরে কিছু হয় না , আমরা সবাই কাটিতো ।
কাজল - তোমার ও এমন চুল আছে বুঝি ।
আমি - হে রে সবারি বয়স হলে এমন চুল হয় ।
কাজল - আম্মার ও কি এমন চুল আছে নাকি ।
আমি রাহিমার দিকে তাকিয়ে দেখি এখনো চোখ বন্ধ ও এখন কার কথা শুনে চোখের পাপরি গুলা ও লাল হয়ে গেছে , গাল গুলা দেখা যাচ্ছে না কারন রাহিমা হিজাব পরে আছে মুখ ডেকে ।
আমি - হে সবারি হয় ।
কাজল - তুমি ও কি ব্লেড দিয়ে চুল ফালাও ।
আমি - হে ।
কাজল - আম্মা ও কি ব্লেড দিয়ে চুল ফালায় ।
আমি - হে ।
কাজল - আমার তো ভয় করে ।
আমি - এক বার চেষ্টা কর দেখবি হয়ে যাবে ।
কাজল - আমি পারবো না তুমি মোসলমানি করো ।
আমি - আরে এই ভাবে এতো চুল থাকলে কি ভাবে মোসলমানি করবো ।
কাজল - আমি জানি না ।
আমি - ঐ তুমি কিছু বলো না কেনো ।
রাহিমা - আমি কি বলবো ।
আমি - তোমার বোকা ছেলেকে তুমি কি ভাবে বুঝাবে দেখো ।
রাহিমা - আমি কি বলবো বলো । তুমি মুসলমানি করো না , পরে তার টা সে বুঝে নিবে ।
আমি - আরে বুঝতেছো না তুমি , তুমি একবার ভালো করে চেয়ে দেখো তার বা… ।
রাহিমা - ঐ……
আমি - আরে তার চুলে পুরো ডেকে আছে দেখো তুমি , না কাটলে মুসলমানি করানো যাবে না ।
রাহিমা - আমি দেখে কি করবো , তুমি বুঝবে তুমি কি কি করবে ।
আমি - রাগ দেখাও কেনো ।
কাজল - আসলেই আম্মা আপনি রাগ দেখান কেনো , তার মানে আমাকে ছেলে হিসেবে মন থেকে মেনে নেননি ।
রাহিমা - আরে না তুই আমার আরেকটা ছেলে ।
আমি - আচ্ছা কাজল তুই তোর চুল গুলা কাট , সব ঠিক রাখলে কালকে বা ২দিন পর তোর মোসলমানি করে দিবো।
কাজল - আমি কি ভাবে কাটব আমি জানি না ।
আমি রাহিমার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি তার চোখ গুলা লজ্জায় ছোট হয়ে আছে ।
আমি - তুই একটা ব্লেড কিনে আনবি তার পর মাথার চুল কাটে না ঠিক সেই ভাবেই কেটে ফেলবি ।
কাজল - আমি পারবো না , আমি বুঝি না এইসব । আমার ভয় করে ।
আমি - তুইতো চিন্তায় ফালিয়ে দিলি এমন বোকা মানুষ দেখিনি জীবনে ।
রাহিমা - একটা কাজ করতে পারো তুমি ।
আমি - কি ।
রাহিমা - তুমি চাইলে কাচি দিয়ে ছোট করে তার পর মোসলমানি করতে পারবেন ।
আমি - এটা একটা সুন্দর কথা বলেছো তুমি ।
রাহিমা - তাহলে তুমি শুরু করো আমি রান্না বসাই গিয়ে ।
আমি - আজকে থাক, একটা কাজ করি সামনের শুক্রবার এই শুভ কাজ টা সম্পন্য করি ।
রাহিমা - হে এটা আরো ভালো হয় ।
আমি - তাহলে আমি এখন আসি , আমার মাদ্রাসায় আবার একটু কাজ আছে ।
আমি - ওকে জাও ,
রাহিমা - জাও আর এডভোকেটের সাথে কথা বলেছিলে ।
আমি - কেন ।
রাহিমা - আরে এভিডেবিট করার জন্য ।
আমি - ও হে ভালো কথা মনে করিয়েছো , আজকেই দেখি আমি করে আনতে পারি কি না ।
রাহিমা - আচ্ছা ঠিক আছে আমি তাহলে রান্না ঘড়ে গেলাম ।
আমি - আচ্ছা জাও । বলার পরেই রাহিমা রান্না ঘরের দিকে চলে যায় , আর আমি সব কিছু ঘুসাইতেছি ।
কাজল - বাবা আমি কি এখন চলে যাবো তাহলে ।
আমি - আচ্ছা যা , আর দুপুরে ও এখানে এসে খাস , তোর মা রান্না করতেছে ।
কাজল - আচ্ছা বাবা তাহলে আমি জাই ।
আমি - আচ্ছা যা , আর একটা কথা ।
কাজল - কি বাবা।
আমি - তোর নতুন নাম কি রাখবি চিন্তা করেছিস ।
কাজল - নতুন নাম মানে ।
আমি - আরে ধর্ম পালটাবি নাম পালটাতে হবে না ।
কাজল - আমি জানি না তোমরা যা ভালো মনে করো তাই ।
আমি - তুই তোর মায়ের সাথে কথা একটা নাম ঠিক করে নিস ।
কাজল - আচ্ছা ঠিক আছে । আমি কি এখন যাবো তাহলে ।
আমি - হে যা , আর দুপুরে খাবার সময় নাম ঠিক করে ফেলিস ।
কাজল - আচ্ছা ।
আমি - নাম ঠিক করে আমাকে একটা ফোন দিতে বলিস কি নাম রাখা হলো জানতে হবে , সে অনুজায়ি এভিডেবিটে নাম লিখতে হবে ।
কাজল - আচ্ছা । বলেই কাজল ছেলেটা চলে যায়, আসলেই কাজল ছেলেটা খুব লক্ষি , অনেক সহজ সরল । এর মধ্যে আমি ও রেডি হয়ে চলে যাবো এখন ।
আমি - শুনছো আমি চললাম গেইট লাগিয়ে দাও , আর দুপুরে কাজল আসবে খাবার খেতে তখন তার একটা নাম ঠিক করে রেখো ।
রাহিমা - কি নাম রাখবো ।
আমি - সুন্দর একটা নাম বাছাই করো তুমি ।
রাহিমা - তুমি ঠিক করে দাও না ।
আমি - আরে তোমার কাছে না সুন্দর নামের বই আছে , সেখান থেকে একটা নাম রেখে দাও ভালো দেখে।
রাহিমা - আচ্ছা ঠিক আছে ।
আমি - আর দুপুরে আমাকে ফোন বইলো কি নাম রাখলে ।
রাহিমা - আচ্ছা ঠিক আছে ।
আমি চলে গেলাম মাদ্রাসায় দুপুরে রাহিমার ফোন আসে ৩টার দিকে , কাজলের নতুন নাম রাখলো । কাজলের নতুন নাম হলো বেলাল হোসেন । আমি ও সেই অনুযায়ী কাগজ করে বাসায় যেতে যেতে ৯টা পার হয়ে গেছে , কারন আমি এশার নামাজ শেষ করে তার পর বাসায় যাই সব সময় । বাসায় গিয়ে রাহিমার মুখ থেকে দুপুরের কাহিনী শুনলাম ।
রাহিমা - জানো আজকে দুপুরে কি হয়েছে ।
আমি - কি হয়েছে ।
রাহিমা - আমি যখন ১২ঃ৩০ এর দিকে রান্না শেষ করে গোসল করতে গিয়েছিলাম ।
আমি - হে তো ।
রাহিমা - তার একটু পরেই বেলাল আসে আমিতো গোসল করতে ছিলাম আমি আর যানতাম না কাজল আসবে এই সময় ।
আমি - হে তো , গেইট তো বাহির থেকে লাগানোই ছিলো এর পর আবার বাসার দরজা ।
রাহিমা - হে বাহিরের গেইট বন্ধ ছিলো ঠিক আছে কিনতু দরজা খোলা ছিলো ।
আমি - বেলাল কে কি অনেক্ষন অপেক্ষা করতে হয়েছে নাকি ।
রাহিমা - আরে না কথা শুনো না ।
আমি - হে বলো ।
রাহিমা - বেলাল অনেক বার ডাক দিয়ে আমার কোন শব্দ না পেয়ে সে ভয় পেতে গিয়েছিলো।
আমি - হে তার পর ।
রাহিমা - তার পর সে মনে করেছিল আমি অসুস্থ হয়ে গেলাম নাকি এই ভয়ে সে এই দেয়াল টপকে বিতরে আসে ।
আমি - কি বলো ।
রাহিমা - হে কি বলবো বলো ।
আমি - তার পর কি হলো ।
রাহিমা - হটাত আমি বাহিরা আম্মা আম্মা ডাক শুনতে পাই, আমিতো ভয় পেয়ে যাই এতো কাছ থেকে আম্মা আম্মা কে ডাকতেছে ।
আমি - ওমা তার পর ।
রাহিমা - আমার ও গোসল প্রায় শেষ, এখন ডাক শুনতে পারছি না , তাই আমি গোসল খানা থেকে বাহির আর বাহিরে দেখেই আমি অবাক হয়ে যাই ।
আমি - কেন ।
রাহিমা - বাহিরে এসে দেখি কাজল বারান্দায় বসে আছে , আমিতো লজ্জায় পরে গেছি পুরো ।
আমি- কি হয়েছে ।
রাহিমা - আরে আমি শুধু জামা আর পায়জামা পরে ছিলাম ।
আমি - কি বলো ।
রাহিমা - হে ।
আমি - ওড়না ও ছিলো না ।
রাহিমা - ছিলো , তা ও আমি পুরো লজ্জায় পরে যাই ।
আমি -আচ্ছা থাক সেতো ছেলের মতই , কিছুই হবে না ।
রাহিমা - তাও আমার কেমন যেন অসস্তি লাগছে ।
আমি - আরে চিন্তা করো না , সেতো ছেলেই, আর তুমিতো আর ইচ্ছে করে এই ভাবে আসো নাই তাই না।
রাহিমা - হে তা ঠিক ।
আমি - তা আর চিন্তা করো না ।
রাহিমা - আচ্ছা ঠিক আছে ।
আমি - তার পর ।
রাহিমা - আমি জিজ্ঞাস করলাম এখানে কি করে আসলো বললো দেয়াল টপকে আসছে ।
আমি - ও আচ্ছা ।
রাহিমা - হে তার পর জিগ্যেস করলাম এমন কেন করলো , পরে বলতেছে আমার কোন শব্দ না পেয়ে সে ভয় পেয়ে গেছে তাই সে দেয়াল টপকে আসছে ।
আমি - আচ্ছা ছেলেটা সত্যিই তোমাকে তার মায়ের মর্যাদা দিয়ে দিছে ।
রাহিমা - হে তা ঠিক ।
আমি - হুম, আচ্ছা তার পর ।
রাহিমা - তার পর আর কি তাকে বললাম এখন খাবার দিবো নাকি ।
বেলাল - না আম্মা আপনার সাথে খাবো আমি ।
রাহিমা - আমিতো আরো দেরি করে খাবো ।
বেলাল- সমস্যা নেই আমি ও দেরি করেই খাবো ।
রাহিমা - আমি নামাজ পরবো তার পর খাবো ।
বেলাল - আম্মা তোমরা কি ভাবে নামাজ পরো আমি দেখতে চাই, আর আমি ও পরতে চাই ।
রাহিমা - আজকে না পরে আগে মুসলিম হ তার পর ।
বেলাল - আম্মা তুমি কিনতু অনেক সুন্দর ।
রাহিমা - তাই , আচ্ছা তুই এখানে বস আমি ড্রেস পরে আসি ।
বেলাল - তুমিতো ড্রেস পরেই আছো ।
রাহিমা - এর উপর এখন বোরকা ও হিজাব পরতে হবে ।
বেলাল - এতো কিছু পরে থাকতে তোমার গরম লাগে না ।
রাহিমা - নারে জাহান্নামের গরমের থেকে দুনিয়ার গরম অনেক ভালো ।
বেলাল - আচ্ছা ভালোতো তাহলে ।
রাহিমা - আচ্ছা তাহলে তুই বস আমি আসতেছি ।
বেলাল - আচ্ছা আম্মা একটা কথা ।
রাহিমা - কি কথা ।
বেলাল - রাগ করবে না কিনতু ।
রাহিমা - আচ্ছা ঠিক আছে রাগ করবো না ।
বেলাল - কথা দাও রাগ করবে না ।
রাহিমা - আচ্ছা কথা দিলাম রাগ করবো না ।
বেলাল - আচ্ছা আম্মা সত্যিই কি সবার নিচেই আমার মতো চুল থাকে ।
রাহিমা - হে বাবা এটা প্রাকৃতিক ।
বেলাল - বাবার ও কি আছে এমন।
রাহিমা - হে আছে ।
বেলাল - তোমার ও কি আমার মতো নিচে চুল আছে ।