নিলয় আর সুমন। ২০ বছর বয়সী দুই যুবক, দুই বন্ধু, দুইদেহ, একাত্মা। দুজন দুজনকে ছাড়া কিছুই বোঝে না। সেই ছোটবেলা থেকে দুইজন একই সাথে বড় হচ্ছে। রাতের ঘুম বাদে একজন আরেকজনের বাড়িতে পড়ে থাকে। দিনরাত। এমনকি মাঝে মাঝে একে অপরের বাড়িতে রাতেও থেকে যায়। দুই জনের পরিবারও তাদের এই বন্ধুত্বে অংশীদার বটে। দুজনার মায়েরাই তাদের দুজনকে নিজেদের ছেলের মতন আদর করে।
নিলয়, ব্যবসায়ী ও ক্ষমতাশীল বাবা তুহিন খানের একমাত্র সন্তান। নিলয়ের বাবার যখন ২০ বছর বয়স, তখন নিলয়ের দাদা মারা যান। ১৭ বছর বয়সী নীলার সাথে নিলয়ের দাদি ছেলের বিয়ে দেন। নিলয়ের যখন জন্ম হয় তখন তার বাবা ২১ বছরের টগবগে যুবক আর মা ১৮ বছর বয়সের কিশোরী। সময় দ্রুত গড়িয়ে গেছে। নিলয় বড় হয়ে গেছে। ২০ বছর বয়স হয়ে গেছে। তার বাবা এখন ৪১ বছরের মধ্য বয়সী পুরুষ। গাড়ি, বাড়ি, টাকা, পয়সা, জমা, জমি, প্রভাব, প্রতিপত্তি সব হয়েছে তার। কম বয়সে ব্যবসার হাল ধরায়, সব শিখে গেছে খুব দ্রুত। এখন অত্র শহরে তাকে সবাই একনামে চিনে। কিন্তু তার মনে শান্তি নেই কারণ নিলয়ের মা অর্থাৎ তার বউ এখন মাত্র ৩৮ বছর বয়স। কিন্তু শরীরে দানা বেঁধেছে মরণব্যাধি ক্যান্সারের সেল। এত টাকা, এত প্রতিপত্তি। অথচ তুহিন খান আগে ধরতেই পারেন নি। যখন ধরা পড়েছে তখন স্টেজ ৩। তার বউ নীলা এখন মৃত্যু পথ যাত্রী। ছেলে নিলয়কে নিয়ে হাসপাতালে যখন স্ত্রীয়ের হাতটা ধরে বসে আছেন তখন ঘরে প্রবেশ করল সুমন, তুহিন খান তাকে ভালোভাবেই চেনেন। কিন্তু আজ সুমন একা নয়, তার সাথে তার বউ নীলার প্রায় সমবয়সী এক নারী। ধারণা করলেন এটাই সুমি ভাবী, যার গল্প বহুবার নীলার মুখে উনি শুনেছেন, নিলয়ের বন্ধু সুমনের মা হিসেবে নীলা আর সুমির মাঝে যে শুধু পরিচয় ছিল তা শুধু নয়। ছোট থেকেই সুমি আর নীলা পাড়াতো ঘনিষ্ঠ বড় বোন, ছোট বোন। ছেলেদের বন্ধুত্ব সেই ঘনিষ্টতাকে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
আজ মৃত্যু পথযাত্রী বড়বোন নীলাকে ছোট বোন সুমি দেখতে এসেছে। নীলার অচেতন শরীর বিছানায় পড়ে আছে। কোনো জ্ঞান নেই, কথা বলার শক্তি নেই।
সুমন ও নিলয় ঘর থেকে বেরিয়ে বারান্দায় আড্ডা দিতে লাগলো।
সুমি তুহিন খানের কাছে নীলার ব্যাপারে এবং তার চিকিৎসার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করছিল। তুহিন খুব আস্তে ধীরে এবং চাপা কন্ঠে জবাব দিচ্ছিল। সুমি তখন পরিস্থিতি একটু কম গুমোট করার জন্য বলে উঠলো, ভাই মনে হয় আমাকে চিনতে পারেন নি। আমি সেই সুমি, যে আপনার আর নীলা আপার বিয়ের মাঝে গেট ধরার ওই জায়গায় বেশি পটর পটর করেছিলাম এবং আপনার পরিবারের সবাই আপনারা আমার উপর খুব চটা চটেছিলেন।
তুহিনের মনে পড়ল, সে কিছুটা বিব্রতও হল। কারণ, নীলাকে বিয়ে করতে গিয়ে ১৫ বছর বয়সী সুমিকে বিয়ের গেটে দেখে তার একটু আফসোস হয়েছিল যে বিয়েটা সুমির সাথে হলে ভালো হতো, স্মার্ট, ইন্টেলিজেন্ট মেয়ে, খুব সুন্দর করে কথা বলতে পারে। গুছিয়ে। কিন্তু তখন আর সময় ছিল না। এ জন্যই তো সুমনের সাথে রুমে প্রবেশের পর পর সুমিকে তার পরিচিত মনে হয়েছিল। আজ ২০ বছর পরও সুমির সৌন্দর্য ও কথার তেজে একটুও কমতি আসে নি। হঠাৎ তার মনে পড়ল, মৃত্যুপথ যাত্রী স্ত্রীকে সামনে রেখে সে কি ভাবছে এসব? সে মনে মনে নিজেকে ভর্ৎসনা করলো।
এর মাঝে সুমিও তুহিন খানের চেহারায় অপ্রস্তুত ভাবটা লক্ষ্য করে, কথা ঘুরিয়ে আবার নীলার খোঁজখবর নিতে লাগলো।
সুমনের মা সুমি। আজ থেকে ২১ বছর আগে যখন তার বয়স সবে ১৫। নীলার বিয়েতে খুব সুন্দর করে সেজেগুজে আসা সেই কিশোরীকে দেখে হৃদয়ে দোলা লাগে ২৩ বছর বয়সী ইমনের। ইমন তুহিনের পাড়াতো বড় ভাই হিসেবে তুহিনের বিয়েতে গিয়েছিল। বিয়েতে সদ্য কিশোরী সুমিকে তার মনে ধরায়, সে বাড়ি ফিরেই প্রস্তাব পাঠায় সুমির বাসায়। ভালো সরকারি চাকরিজীবী ইমনের প্রস্তাবকে সুমির বাসা থেকে দূরে ঠেলে দিতে পারেনি। তাইতো মাত্র ১৫ বছর বয়সে সুমির বিয়ে হয়ে যায় তার চেয়ে ৮ বছরের বড় ইমন এর সাথে। শুরুতে পরিকল্পনা ছিল সুমি পড়ালেখা করে যাবে আর ইমন চাকরি করবে। পড়ালেখা শেষ হলে সুমি আর ইমন সংসার করবে। কিন্তু বিধি বাম, কিছুদিনের ভেতরে কিশোরী সুমি সন্তান সম্ভবা হয়ে পড়ে। নীলা আর তুহিনের ঘরে যে সময় নিলয়ের আগমন ঘটে, ঠিক সে সময় ইমন আর সুমির ঘরে সুমনের জন্ম হয়।
এসব চিন্তা করতে করতে সুমির মনে হল সে আসার আধা ঘন্টা হয়ে গেছে ওদিকে সুমনের বাবা ইমনও অফিস থেকে বাড়ি আসার সময় হয়ে গেছে। তাই সে তাড়াতাড়ি তুহিনকে বিদায় জানিয়ে, তার বড় বোন নীলার খোঁজ রাখতে বলে, আর কোন সাহায্য লাগলে তাকে জানাতে বলে, হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গেল। যাবার সময় বারান্দায় সুমনকে জিজ্ঞাসা করল যে সুমন যাবে কিনা। সুমন মাকে জবাব দিল সে আরো কিছুক্ষণ থাকতে চায়।
সুমি চলে যাওয়ার পর তুহিন ভাবতে লাগলো, আবার সেই পুরনো কথাগুলো।
বিয়ের প্রস্তাব তার জন্য শুধু নীলার বাড়ি থেকেই নয়, সুমির বাড়ি থেকেও এসেছিল। সেই আমলের কোটিপতি বাবার একমাত্র সন্তান ছিল সে। তাই কম বয়সে বিয়ে করলেও তার জন্য প্রস্তাবের অভাব ছিল না।
নীলা এবং সুমি দুজনেই যথেষ্ট সুন্দরী ছিল। নীলার গায়ের রং ছিল দুধে আলতা, আর সুমির গায়ের রং ছিল কাঁচা হলুদ। তুহিন এর মা যখন নীলা এবং সুমি দুজনের ছবি তুহিনকে দিয়েছিল, সাদা কালো সেই ছবির যুগে তুহিনের নিলাকে দেখে বেশি ভালো লেগেছিল। কারণ নীলার চেহারা ছিল কাটা কাটা। সুমির চেহারাও যথেষ্ট সুন্দর ছিল, কিন্তু ছবিতে সুমি দাঁত বের করে হাসছিল যেখানে তুহিন লক্ষ্য করে যে সুমির একটি দাঁত বেড়া দাঁত। তাই সে ওই সময় সুমির বদলে নিলাকে পছন্দ করে। বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পরপরই, সুমির কথা শুনে এবং তার বেড়া দাঁতের হাসি দেখে তুহিন বুঝতে পারে তার আসলে পছন্দ করা উচিত ছিল, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
অন্য দিকে স্বাভাবিকভাবে বিদায় নেয়ার অভিনয় করলেও ৩৬ বছর বয়সি সুমির মনে তখন ঝড় চলছে। কারণ তার বিয়ের প্রস্তাব তুহিনের পরিবারের কাছে গেছে এটি সুমির অজানা ছিল না। তুহিন যখন সুমিকে বাদ দিয়ে নীলাকে পছন্দ করে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ হিসেবে সুমির প্রচন্ড হিংসা কাজ করেছিল, কিন্তু নীলার সাথে ভালো সম্পর্কের সুবাদে তখন সে রিয়াক্ট করেনি। আর নিজে রিজেক্টটেড হয়েছে এটা মেনে নিতে না পেরে, আগ পিছ না ভেবে, আবেগে পড়ে ওই সময় ইমন তাকে প্রস্তাব দেয়ায় সে সাথে সাথে রাজি হয়ে যায়। কারণ একবার রিজেকশনের পরে তার মাঝে জেদ চেপে গিয়েছিল। এই জেদের আগুনে পুড়ে সে ইমনকে হুট করে বিয়ে করে ফেলে। পরে ব্যবসায়ী বাবার মেয়ে, চাকরিজীবী ইমনকে বিয়ে করে যখন দেখল তার স্বামী তার খরচ কুলিয়ে উঠতে পারে না, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। নিজের অনেক শখ আহলাদ বিসর্জন দিয়ে সুমি ইমনের সংসার করতে থাকে এবং তার সন্তানকে লালন করতে থাকে। আজ সে পুরনো ঝড় আবার উঠেছে। সেই ঝড় সুমির মনকে তছনছ করে দিয়ে যায়।
বাসায় গিয়ে একা একা বসে বসে সময় ভাবতে থাকে, ওই সময় তুহিনের পরিবারের পক্ষ থেকে পজিটিভ কোন কিছু না আসার পরে সে যদি আবেগে না গা ভাসাতো, তার হয়তো আজ আরো ভালো বিয়ে হত। আরো বড় ঘরে বিয়ে হতো। এমন ছাপোষা থাকতে হতো না।
হঠাৎ তার মনে পড়ে ছি ছি, এসব সে আজ কি চিন্তা করছে, তার একুশ বছরের একটা সংসার আছে, দুটো সন্তান আছে। তবে আজ কেন তুহিনের দেখা পাওয়া তার মনে ঝড় তৈরি করেছে। এ ঝড় তৈরি হওয়া উচিত নয়। ছি ছি, ছি!
হঠাৎই বেল বেজে উঠলে, সুমির এসব চিন্তাভাবনায় খেদ পরে। সে উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেখে সুমনের বাবা ইমন বাজার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঘরে ঢুকেই ইমন জিজ্ঞাসা করে ঈশিতা কোথায়।
ঈশিতা সুমনের ছোট বোন। সাত বছর মাত্র বয়স। সুমনের যখন ১৩ বছর বয়স চলে তখন সুমি আর ইমনের ঘর আলো করে ঈশিতার জন্ম হয়।
স্বামীকে পেয়ে আবার সুমি সংসারে মনোনিবেশ করল। কিছুক্ষণ আগেই যে তার মনের মাঝে একটি প্রলয় খেলে গেল, তার লেশমাত্র, তার স্বামী টেরও পেল না।
এভাবেই জীবন চলে যাচ্ছিল বা চলে যেত কিন্তু হঠাৎ এক সপ্তাহ পর খবর এলো নিলয়ের মা, সুমির সেই পাড়াতো বড় বোন নীলা মারা গেছে।
সুমন, ঈশিতা ও স্বামী ইমনকে সাথে নিয়ে, নিলয়ের মা নীলাকে সুমি দেখতে গেল।
নিলয় কে দেখলো মায়ের লাশের পাশে বসে হাউমাউ করে কাঁদছে।
সুমি তাকে সান্ত্বনা দিয়ে, বুকের মাঝে নিয়ে বলল, আমি তোমার আরেক মা আছি, বাবা তুমি এত ভেঙে পড়ো না। বলার সময় তারও কলিজা একটু কেঁপে উঠলো। আসলেই তো তুহিন এর সাথে বিয়ে হলে সে নিলয়ের মা হত। পরক্ষণেই সে চিন্তা করল ছি ছি, আচ্ছা মরা বাড়িতে এসে, পাশে স্বামী দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও কিভাবে এসব চিন্তা করছি।
অন্যদিকে তুহিন অত্যন্ত শক্ত মানুষ, সে কান্নাকাটি করছে না তবে তার মন দুঃখ ভারাক্রান্ত। ছয় মাস ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে আজ তার বউ মারা গেছে। এর মাঝে সে খেয়াল করল নিলয়কে বুকের মাঝে নিয়ে, সুমনের মা সুমি তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে এবং বলছে আজ থেকে তাকে মা বলে ডাকতে।
তুহিন ভাবল, নিলয়ের শূন্যস্থান না হয় পূরণ হবে, তার কি হবে?
সন্তানের মা তো বাবার বউ। তাহলে সুমনের মা কি নিলয়ের মা হওয়ার সাথে সাথে আমার বউ হওয়ার দায়িত্ব পালন করবে?
ভেবে লজ্জা পেল, তার বউ মারা গেছে, আর সে কিনা অন্য নারীর দিকে তাকিয়ে আজেবাজে চিন্তা করছে।
প্রকৃতি কি চল্লিশ উর্ধ্ব পুরুষের মনের আকাঙ্ক্ষা এবং ৩৬ ঊর্ধ্ব নারীর মনের লুকোচুরিকে সায় দেবে?
বলে মন থেকে কোন কিছু চাইলে নাকি, তা যেভাবেই হোক পাওয়া যায়।
ঝড় উঠেছিল বউ হারা এক সন্তানের পিতা, চল্লিশ অর্থ এক পুরুষের মনে। সেই ঝড়ের ছোঁয়া লেগেছিল, দুই সন্তানের জননী, ৩৬ বছর বয়সের নারীর মনে। সেই ঝরের দমকা হাওয়াতেই কিনা জানা যায় না, তবে মাত্র ২০ দিন পর সুমনের বাবা ইমন অফিস থেকে আসার সময় মোটর সাইকেলে বড়সড় এক্সিডেন্ট করে।
বড় বাসের নিচে চাপা পড়ে। লোকটা বেঁচে গেলেও, লোকটার স্পাইনাল কর্ডের হাড় গুড়ো গুড়ো হয়ে যায়। ফলে উঠে দাঁড়ানোর শক্তি চলে যায়, ডান হাতটা শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়, বাম হাত কয়েক জায়গায় ভেঙে টুকরো টুকরো হয়। সমস্ত নার্ভ নষ্ট হয়ে যায়, আর চেইন দিয়ে গলার কাছটা ছিঁড়ে সে তার বাকশক্তি হারিয়ে বসে।
খবর পাওয়ার সাথে সাথে বিধ্বস্ত সুমি, সুমন আর ঈশিতাকে নিয়ে দৌড়ে ছুটে যায় হাসপাতালে।
হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, দ্রুত অপারেশন করাতে হবে বাঁচাতে হলে, প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার মত খরচ হবে। যদিও বেঁচে থাকলেও তার স্বামীকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হবে।
সুমির মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে, একে তো সুমন এখন পড়াশোনা করছে প্রাইভেট মেডিকেলে, যেখানে প্রচুর টাকা ফি দিতে হয়। সুমির স্বামী ইমন চাকরির টাকা থেকে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে ছেলের সেশন কি দেয়, সামনের সেশন ফি দেয়ার জন্য তাদের একাউন্টে ৫ লক্ষ টাকার মত আছে, এর মাঝে আরও ১০-১৫ লক্ষ টাকা সে কিভাবে জোগাড় করবে, ৪৩ বছরের ইমনের আর কোন সঞ্চয় বা সম্পত্তি নেই। তার আকাঙ্ক্ষা ছিল, ছেলে মানুষের মত মানুষ হবে, বড় ডাক্তার হবে, তার অভাব ঘুচবে। তাই সে, অর্থবিত্ত বানানোর চেয়ে, নিজের সন্তানকে মানুষ করার পিছনে বেশি শ্রম ও মেধা দিয়েছে। কিন্তু এখন তো সে স্বপ্নে গুড়ে বালি।
তুমি ভাবতে লাগলো কি থেকে কি করা যায়?
হঠাৎ তার মনে হল, সে সুমনের বাবার অফিসে যাবে, ইমন সেখানে আজ ২২ বছর ধরে চাকরি করছে, তার অফিস থেকে তাকে সহায়তা করা হবে।
কিন্তু সুমীর ধারণা ভুল ছিল, তারা তাকে সহায়তা তো করলোই না, উল্টো বলল ছেলের মেডিকেল খরচ তোলার জন্য, ইমন নাকি আগে থেকেই ধার করেছে অফিসের কাছে। ইমনের কাছ থেকে তার অফিস নাকি দশ লক্ষ টাকা পাবে। এটা শুনে সুমির যখন মাথা ঘুরে আসছিল। সে ইমনের বসের রুমেই বসে পড়ল। চেয়ারে বসে সে একটু পানি চাইল, পিয়ন এসে তাকে পানি দিয়ে গেলে, সে পানিটুকু দিয়ে খেতে লাগলো। পানি খাওয়ার সময় হঠাৎ, পানি ছলকে উঠে তার বুকে বলল। ওই সময় তার বুকে নজর পড়ল, তারই স্বামীর বস, ৬০ বছর বয়সী আমানের। ৩৬ বছর বয়সী এক যুবতী কিছু গতি নারীকে দেখে তার মাথা নষ্ট হয়ে গেল। সে বলল, ধারের টাকা শোধ হয়ে যাবে, আবার তার স্বামীর চিকিৎসার টাকাও হবে। সে যদি আমানের শয্যাসঙ্গিনী হতে রাজি হয়। সুমি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। তার মাথা বনবন করে ঘুরছিল। সে হঠাৎ চিৎকার দিয়ে উঠে, তার স্বামীর বসকে গালিগালাজ করতে লাগলো। এই শুনে সিকিউরিটি চলে আসলে, আমান ঘটনার মোড় অন্য দিকে ঘুরিয়ে ফেলল। সে বলল, টাকার জন্য সুমি তাকে বিপদে ফেলতে, তার রুমে ঢুকে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেছে। আমান সুমিকে বের করে দিতে বলল। তখন সিকিউরিটি তাকে ওই স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করতে চাইলো। সুমি দেখল, চাকরি এবং টাকার নেশায় সবাই বসের পক্ষ নিয়েছে, তুমি এখানে একা, তাই সে আর কোন কথা না বাড়িয়ে ওই স্থান ত্যাগ করলো।
হাসপাতালে ফেরত এসে, সুমি সুমনকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি বাদে, বাকি সমস্ত ঘটনা খুলে বলল। তার বাবার অফিসে লোন থাকার ব্যাপারে এবং সেভিংস এর টাকা না থাকার ব্যাপারে সুমন জানতে পেরে ভাবলো, এ যাত্রায় হয়তো তার বাবাকে বাঁচানো যাবে না, পাশেই দাড়িয়ে নিলয় সব কথা শুনছিল।
হঠাৎ সে বলে উঠলো, আপনারা টাকা নিয়ে কেন চিন্তা করছেন, সুমিকে বলল, মা আপনি না আমাকে ছেলে বলে ডেকেছেন, তাহলে আমার উপর একটু আস্থা রাখা যায় না? আমি আপনাকে আমার বাবার কাছে নিয়ে যাবো।
আমার বাবা আপনাদেরকে সহায়তা করবেন।
কথা টা শুনে সুমন আশ্বস্ত হল, সুমিও আশ্বস্ত ই হলো। কারণ সুমি ভেবেছিল, নীলাকে দেখতে গিয়ে, পুরনো দিনের কথাগুলো কেবল তার মনেই নাড়া দিয়েছে। তুহিন এর মনে কি ছিল, তা সুমির জানা ছিল না বা জানার উপায়ও ছিল না।
সুমি এখন তুহিন এর কাছে যাবে
তুহিন কি সুমিকে সাহায্য করবে?
সাহায্যটা কি নিঃস্বার্থ হবে? নাকি বিনিময়?
দেখতে চোখ রাখুন আগামী পর্বে।