পরের দিন সকালে উঠেই সুলেমান মায়ের হাতে ৫ লক্ষ টাকার একটা চেক দিতেই মা না না করতেই আমিনা মায়ের হাত ধরে বললো: দিদি তুমি যদি এটা না নাও তাহলে বুঝবো তুমি আমাকে মেনে নিতে পারোনি
সুলেমান বললো: হ্যাঁ অরুণা তুমি না নিলে বুঝবো তুমি আমাকে মেনে নাওনি
মা দুজনের দিকে তাকিয়ে কিছু ভেবে চেকটা হাতে নিলো। তারপর সুলেমান চেকটা আবার মায়ের কাছ থেকে নিয়ে আমাকে বললো: বাবু অরুণার ব্যাংকের পাস বইটা নিয়ে আসতো
আমি মায়ের দিকে তাকাতেই মা মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলতেই আমি মায়ের আলমারি থেকে ব্যাংকের পাস বইটা নিয়ে আসতেই সুলেমান সেটা নিয়ে বাইরে চলে গেলো। বাবা তো অবাক হয়ে চেয়ে রইলো। তারপর বাবা দোকান যেতেই আমরা টিফিন করে করে গল্প করতে লাগলাম। সাড়ে এগারোটার সময় সুলেমান এসে পাস বইটা সাথে একটা চেক জমার স্লিপ আমার হাতে দিয়ে বললো: বাবু এইগুলো আলমারিতে তুলে রাখো
আমি রাখে আসতেই সুলেমানকে মা খাবার দিতেই সুলেমান খেয়ে নিলো, তারপর সুলেমান মিনার হাতে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে বললো: মীনা তুমি এইগুলো রাখো
মীনা অবাক চোখে তাকাতেই মা বললো: রাখ
মীনা টাকাটা মায়ের হাতে দিয়ে বললো: দিদি তুই আলমারিতে রেখে দে আমি যাবার সময় নেবো
মা টাকাটা রেখে আসতেই সুলেমান বললো: আমরা আজকেই ফিরে যাবো
মা: সেটা কি ভাবে হয়
সুলেমান: অরুণা আমার অনেক কাজ আছে, আমরা পরে এসব এবার পলিদেরও নিয়ে এসব
মীনা: আর আমরা বাদ নাকি
সুলেমান মিনাকে জড়িয়ে বললো: তুমি তো আমার শালী সাহেবা, তোমাকে কি বাদ দিতে পারি
শুনে সবাই হেঁসে উঠলাম। তারপর মা মীনা কে বললো: তুই আরো কদিন থেকে যা, তোর জামাইবাবু নাহয় তোকে রেখে আসবে
মীনা হা বলতেই সুলেমান আমিনা আর তাদের মেয়ে চান করে রেডি হতে লাগলো আর মাও রান্না ঘরে গেলো সাথে মিনাও। সুলেমানরা খাওয়া দাওয়া করে বোলপুরের বাস ধরে চলে গেলো, ওরা বোলপুর থেকে ট্রেনে ধরে রাজগ্রাম যাবে। মা আমার কাছে এসে বললো: রাজ্জাক কয়েকদিন আগে বলছিলো কোথাও ঘুরতে যাবার কথা মীনারাও আছে ঘুরে আসলে তো হয়
আমি: তাহলে তো মিনাকেও ছাড়বে না
মা: মীনা কোনসা সত্যি আছে, যে ওডির কাছে যাবে না
আমি: আচ্ছা তুমি কথা বোলো তাহলেই হবে
সেইদিন সন্ধ্যের সময় আমি গ্যারেজে যেতেই রাজ্জাক চাচা বললো: কি বাবু সব মেহেমান তো যায়নি
আমি: কাল আমি গ্যারেজে আসার পর তুমি আর সাকলিন আমাদের বাড়ি যাবে
রাজ্জাক: কেন কেন কোনো বিশেষ কাজ আছে নাকি
আমি: গেলেই জানতে পারবে
রাজ্জাক হা বলতেই আমি আসছি বলে চলে এলাম। রাতে বাবার ঘরে প্রথমে মা তারপর মীনা গেলো। আর আমার ঘরে আমি আর মিনার মেয়ে আমার বোন শুয়ে থাকলাম। পরেরদিন বাবা দোকান যাবার পর আমি আর বোন গ্যারেজে যেতেই বোন বললো: দাদা এতো গাড়ি একসাথে
আমি: হা বোন এখানে এই গাড়ি গুলো মেরামত করা হয়
তারপর আমি রাজ্জাক চাচাকে বললাম: চাচা মা তোমাদের ডাকছিলো
রাজ্জাক চাচা আর সাকলিন চাচা আমাদের বাড়ি গেলো। তখন সময় ১১ টা। দুটোর সময় রাজ্জাক চাচা আর সাকলিন চাচা আমাদের বাড়ি থেকে আসতে আমি আর বোন বাড়ি গেলাম। দেখি মীনা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটঁছে আর মা বললো: ওরা রাজি মেহেবুব কে বলবে পরশু গাড়ি নিয়ে আসতে আমরা মাইথন যাবো সেইদিন রাতে থাকবো পরেরদিন ফিরবো।
আমি আচ্ছা বলে চান করতে গেলাম তারপর সবাই একে একে চান করে খাবার খেলাম। পরেরদিন আমি স্কুল যেতেই সোমা আমাকে সরাসরি বললো: তোমার কি কেউ আছে?
আমি: কেন বলতো?
সোমা: না আমি এতোকরে বলছি আমার সাথে দেখা করছোনা
আমি: না মানে আমি একটু অন্য ঝামেলায় ছিলাম তাই, তা বোলো কি বলছিলে
সোমা: ও তা আমরা কি কোথাও বসে কথা বলতে পারি
আমি: বিকালে সগরভাঙার মাঠে দেখা করো
সোমা: কোটার সময়
আমি: ৫ টার সময়
ওকে বলে আমরা ক্লাস করতে লাগলাম। দুপুরে আমি মাকে সব কথা বলতেই, মা মিনাকে বললো: মীনা রে আমাদের বাবু বড়ো হয়ে গেছে
মীনা: মানে
মা: বান্ধবীর সাথে দেখা করতে যাবে
মীনা আমার কাছে এসে বললো: তা সেই ভাগ্যবতীটা কে
আমি: আমাদের ক্লাসে পরে সোমা নাম
মা আর মীনা হুম বলতেই আমি ড্রেস চেঞ্জ করে চান করে খাবার খেলাম। একটু পরে আমি যখন সোমার সাথে দেখা করতে যাবার জন্য রেডি হচ্ছি তখন মা এসে আমার হাতে পাঁচশো টাকা দিয়ে বললো: কাছে রাখ আর একটা গোলাপ ফুল নিয়ে নিবি
আমি অবাক হয়ে মাকে দেখলাম, তারপর জড়িয়ে ধরে বললাম: মা তুমি মন থেকে বললে তো
মা: হ্যাঁ রে পাগল হ্যাঁ
আমি তারপর আনন্দে লাফাতে লাফাতে তারতারি রেডি হয়ে বেরিয়ে সগরভাঙ্গা গিয়ে একটা গোলাপ ফুল নিয়ে মাঠে চলে গেলাম। দেখি সোমা এক কোন আমার অপেক্ষায় আছে। আমি কাছে গিয়ে সোমা কে গোলাপ ফুলটা দিতেই সে চমকে আনন্দে লাফিয়ে উঠে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আর আমিও জড়িয়ে ধরলাম। একটু পর দুজন দুজনকে ছাড়তেই আমরা একটা ফাঁকা জায়গা দেখে বসে কথা বলতে লাগলাম। সোমা: তুমি আমার কথা তোমার বাড়িতে বলতে পারবে?
আমি: মাকে বলেই এসেছি
সোমা: মানে
আমি: হ্যাঁ আমি মাকে তোমার কথা বলতেই মা আমাকে বললো গোলাপ ফুল নিয়ে তোমার সাথে দেখা করতে
সোমা: তারমানে তোমার মা রাজি
আমি: হুম, আর তুমি
সোমা: না বাবা আমি এখন বাড়িতে বলতে পারবোনা। বললে আমার পড়াশুনায় বন্ধ হয়ে যাবে
আমি: আচ্ছা তোমাকে বলতে হবে না পরে আমার মা তোমাদের বাড়িতে বলবে। ঠিক আছে তো
সোমা: হুম
তারপর আমরা আরো কিছুক্ষন নানা কথা বলে পাশের একটা দোকান থেকে কিছু খেয়ে যে যার বাড়ি ফিরে এলাম। পরেরদিন যথা রীতি মেহেবুব চাচা একটা ৭ সিটের একটা গাড়ি নিয়ে আসতেই সামনের সিটে আমি বোন আর ড্রাইভারের সিটে সাকলিন চাচা বসলেন পিছনে মা আর মেহেবুব চাচা আর তার পিছনে মীনা আর রাজ্জাক চাচা বসলো। আমি বুঝতে পারলাম এবার কি হবে। একটু পরে সাকলিন এর জায়গায় রাজ্জাক, রাজ্জাক এর জায়গায় মেহেবুব আর মেহেবুবের জায়গায় সাকলিন, এইভাবে দেন্দুয়া মোর আবার সত্যি জায়গা পরিবর্তন করলো এবার মেহেবুব ড্রাইভারের সিটে রাজ্জাক মায়ের সাথে আর সাকলিন মিনার সাথে থাকলো আমরা মাইথনে হোটেলে পৌঁছে গিয়ে খাবার খেলাম। তারপর হোটেলের একজন লোকের সাথে আমি আর বোন মাইথন জলাধারে ঘুরতে গেলাম আর ফিরলাম সন্ধ্যে ছটায়। এসে দেখি ওরা পাঁচজনে একটা রুমে বসে গল্প করছে মীনা আর মায়ের শাড়ি আলুথালু আর বিছানার চাদরও কোঁচকানো সাথে কিছু কিছু জায়গা ভিজে ভিজে আর রাজ্জাক সাকলিন আর মেহেবুব খালি গায়ে তোয়ালে পরে আছে। আমি বুঝে গেলাম কি হয়েছে রাতে খাবার খাওয়ার পর আমি আর বোন একটা রুমে ঢুকে গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে গেলাম।
সকালে উঠে দেখি মা আর মীনা আমাদের পশে শুয়ে আছে তাও শাড়ি আধ খোলা অবস্থায়। আমি উঠে মাকে আর মিনাকে ডেকে উঠতেই ওরাও উঠে ফ্রেশ হলো আর বোনকেও উঠলো ততক্ষনে আমি ফ্রেশ হলাম। পাশের রুমে গিয়ে দেখি তিনজনে আধা উলঙ্গ অবস্থায় শুয়ে আছে, আমি রাজ্জাক চাচাকে উঠতেই উনি উঠে নিজেকে ঠিক করে বাকিদের ওঠালেন। তারপর সবাই ফ্রেশ হয়ে ঘুরতে বেরোলাম, ঘুরে এসে ধুপুরের খাবার খেয়ে আমরা আবার দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওয়না দিলাম। এবার সবাই গল্প করতে করতে বাড়ি চলে এলাম। আমরা বাড়ি আসার পর বাবা আসতেই মা আর মীনা দুজনে মিলে রান্না করে সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করে শুয়ে পড়লাম। এখন মা আর বাবা একসাথেই শুচ্ছে, আমি মীনা আর বোন এক ঘরে শুলাম। পরেরদিন স্কুল যেতেই সোমা বললো বিকালে দেখা করতে। বিকালে আমি সাইকেল নিয়ে দেখা করতে যেতেই সোমা বললো: কি ব্যাপার আজ বাবু সাইকেলে যে
আমি: কথা নাবলে সাইকেলে চাপো
সোমা সাইকেলে বসতেই আমি ওকে নিয়ে সোজা বাড়ি এলাম, ও বার বার জানতে চাইলেও আমি ওকে কিছুই বললাম না। বাড়ি এসে আমি মিনাকে ডাকতেই মীনা আর মা বেরিয়ে আসলো। তখন আমি বললাম: মীনা এই হচ্ছে আমার বান্ধবী সোমা আর সোমা এই হচ্ছে আমার এক্স প্রেমিকা আমার মীনা সম্পর্কে মাসি হয়
সোমা মিনাকে প্রণাম করতেই আমি সোমাকে বললাম: এই হচ্ছে আমার ভগবান আমার মা
সোমা তক্ষুনি মাকে প্রণাম করতে যেতেই সোমাকে জড়িয়ে ধরে বললো: আমার লক্ষি সোনা মা, চলো ঘরে চলো
এখানে সোমার সম্বন্ধে বলে রাখি, সোমা হচ্ছে লম্বায় ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি, চেহেরায় ২৮ ২৪ ২৮ আর উজ্জ্বল শ্যাম বর্ণের, তবে মুখটা খুবই মিষ্টি দেখতে। মা সোমা মীনা আর বোন ঘরে যেতেই আমিও গ্যারেজে গিয়ে রাজ্জাক চাচার কাছে যেতেই রাজ্জাক চাচা বললো: ওটা নিশ্চয় আমার বেটার বৌ হবে
আমি: হ্যাঁ চাচা, আচ্ছা চাচা কাল তোমরা খুশ ছিলে তো
রাজ্জাক: হ্যাঁ বেটা, আমরা খুব খুশ হয়েছি
তারপর আরো একটু গল্প করে আমি ঘরে ঢুকতেই আমি শুনতে পেলাম সোমা ওর বাড়ির ঠিকানা দিচ্ছে আর মায়ের সাথে নিজের মায়ের মতো গল্প করছে। আমি ঘরে ঢুকতেই বোন বলেছে: দাদা বৌদি একদম ফাটাফাটি
আমি হাঁসতে মীনা বললো: বাবু আমার সতিনটা খুব ভালোই হয়েছে
এই কথা শুনে সবাই হাঁসতে লাগলো। তারপর দেখি মা সোমাকে একটা সোনার চুরি দিয়েছে। তারপর মা আমাকে বললো: বাবু যা আমার মাকে বাড়ি পর্যন্ত নামিয়ে দিয়ে আয়
আমি সোমাকে নিয়ে সগরভাঙ্গা ডেয়ারি মোড়ের কাছে ওর বাড়ির কাছে নামিয়ে দিয়ে এলাম। বাড়ি আসতেই দেখলাম মা খুব খুশি, আর মীনা আমাকে বললো: বাবু তোরা সুখী হো এটাই আশীর্বাদ করি
তারপর বাবা আসতেই আমরা সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করে শুতে যাবার আগেই মীনা বললো:
সুহাস দা আমরা কাল যাবো গো
বাবা: আচ্ছা ঠিকাছে কাল আমি তোমাদের দিয়ে এসব। কাল সকালের ট্রেনে গেলেই সন্ধ্যের দিকে আবার ফিরে আসতে পারবো।
মীনা: কেন আমার বাড়িতে কি এক রাত থাকতে পারোনা?
বাবা: বাবুলাল মারবে আমাকে
মীনা হাঁসতে হাঁসতে শুতে গেলো আমিও রুমে গিয়ে বোনের পাশে শুলাম। আর বাবা মায়ের ঘরে শুতে গেলো। পরেরদিন মীনা বোন আর বাবা চলে গেলো আর আমিও স্কুলে গেলাম। বাবা রাতে ফিরে এলো আর আমাদের জীবন ওই ভাবে চলতে লাগলো। একদিন শুনি বাবা মাকে বলছে: অরুণা আমি জানি তুমি রাজ্জাক আর সুলেমানকে ভালোবাসো তো
মা: না মানে তুমি কি বলছো
বাবা: অরুণা আমি জানি তুমি রাজ্জাক আর রাজ্জাকের বন্ধু মেহেবুবের সাথে শুয়েছো, আবার সুলেমানের সাথেও শুয়েছো। ঠিক বলছি তো
মা: হ্যাঁ কিন্তু তুমি জানলে কি করে
বাবা: আসলে আমি একদিন ঘরে আসতে যাবো তখন তোমার আর রাজ্জাকের কথা শুনে বুঝেছিলাম, আর একই ভাবে সুলেমানেরও কথা শুনেছি
মা: না মানে, সরি
বাবা: সরির কিছুই নেই। আর আমিও তো ভুল করেছি মিনার সাথে নিজেকে জড়িয়ে
মা: থাকেনা ওই কথা, এখন তো তুমি ঠিক আছো, আর তোমার যদি কাউকে মনে হয় তাহলে তুমি আমাকে বলতেই পারো। আর একটা কথা বাবুর বান্ধবী একদিন বাড়ি এসেছিলো। খুব ভালো মেয়ে, সগরভাঙ্গা ডেয়ারি মোড়ের কাছে নিজেদের বাড়ি
বাবা: আচ্ছা তাহলে তো একদিন দেখতেই হয়, আর হ্যাঁ তুমি রাজ্জাক বা মেহেবুব বা সুলেমানের সাথে বাড়িতেই দেখা করবে বাইরে না কিন্তু
মা: সুলেমান আমাকে পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়েছে উপহার হিসাবে
বাবা: আচ্ছা, রাজগ্রাম গেলে ওর সাথে দেখা করবো আর ও আসলে তো দেখায় হবে
মা: আচ্ছা
তারপর এমনি সাধারণ আলোচনা করে বাবা মা শুয়ে পরে আর আমিও শুয়ে পড়ি। এই ভাবে আমাদের দিন চলতে লাগলো। তারপর একদিন আমি সোমাকে বাড়িতে আনতেই দেখি.......
*****