নিয়োগ পর্ব ২৯

Niyog 29

বিমলের বন্ধ্যাত্ব ন্যাচারাল ছিলনা, ইট ওয়াস অ্যাক্সিডেন্টাল! বিয়ের আগে থেকে বিমল সুস্থ স্বাভাবিকই ছিল। সে মাধবীর থেকে কোনো কিছু গোপন করেনি, ঠকায়নি তাকে

লেখক: Manali Basu

ক্যাটাগরি: পরকীয়া

সিরিজ: নিয়োগ - এক অন্তঃসত্ত্বা জনিত পরকীয়া

প্রকাশের সময়:18 Jan 2026

আগের পর্ব: নিয়োগ পর্ব ২৮

মানিক সোজা জোড়াবাগান থানায় এসে উপস্থিত। মানিককে দেখে পুলিশও থতমত খেয়ে গেল। সাসপেক্ট নিজে এসে ধরা দিচ্ছে! বিমল চোখ তুলে এক ঝলক দেখলো, এই তবে সেই প্রোমোটার মানিক মিত্তির! মাধবীর জীবনের তৃতীয় পুরুষ?

পুলিশের সাথে সবরকমের সহযোগিতা করলো মানিক। জেরায় বললো বাড়িটা নিয়ে তার সাথে সমরেশের বিবাদ চলছিল। তবে খুনি তার লোক নয়। যদিও মাধবীকে সে চেনে বলেই স্বীকার করে। বলে সত্যিই সেই মহিলা বিকেলে তার সাথে দেখা করতে তার দেওয়া ঠিকানায় এসছিল, হেঁদুয়ার লাল পার্টির অফিসে। পরে তাকে নিয়ে বাবলি গেস্ট হাউসে ওঠে মিটিং করতে।

এই শুনে বড়বাবু একচোখ মাধবীর দিকে তাকায়, মুচকি হাসে। আর কেউ না জানুক, তিনি জানেন বাবলিতে কি ধরণের মিটিং হয়। তিনিও তো অনেকবার..... যাই হোক! তাই বাবলির ব্যাপারটা নিয়ে সেভাবে কাটাছেঁড়া করতে চাইলেন না। মাস গেলেই তো সেখান থেকে মোটা টাকা নমস্কারি চলে আসে। বড়বাবু নিজেও তো একজন বড় খোদ্দের সেখানকার।

কেস কোর্টে উঠলো। জেল হেফাজতে নেওয়া হল বিমলকে। মানিক ও মাধবী জামিনে ছাড়া পেল, কিন্তু রটে গেল তাদের সম্পর্কের বিষয়ে যাবতীয় কিছু। ফলে বসু মল্লিক বাড়িতে আর ঠাঁই হলনা। বাপের বাড়িও মুখ ফিরিয়ে নিল। মানিক তাকে নিয়ে উঠলো নিজের এন্টালির বাড়িতে। বেশ পুরোনো সেই বাড়ি। মানিক একাই থাকে।

আসলে চেয়েছিল তো তারা সমরেশকেই খুন করতে তবে তা ঝন্টুর মারফত। কিন্তু করে বসলো বিমল।

সেদিন যখন সকালে বিমল সমরেশকে ঘুষি মেরে অফিসে চলে যায়, তখন তার আফটার এফেক্টে সমরেশের নাক দিয়ে অঝোরে রক্তপাত শুরু হয়। বিমলের হয়ে সমরেশের কাছে কাকুতিমিনতির মতো ক্ষমাপ্রার্থনা রেখে মাধবী তার প্রাথমিক শুশ্রূষা করে। কিন্তু রক্ত পড়া তাতেও বন্ধ না হওয়ায় মাধবী ফাস্ট এইড বক্স কোথায় আছে জানতে চায়? সমরেশ তাকে সেই উত্তর-পূর্বের ঘরটাই দেখায়।

সেই ঘরে গিয়ে মাধবী ওয়ারড্রব খুলতেই একটা পুরোনো মেডিক্যাল রিপোর্ট তার হাতে লাগে। উপরে পেশেন্টের কলামে নাম লেখা ছিল বিমলেন্দু বসু মল্লিকের। তারিখ ২১শে ডিসেম্বর, ১৯৮৭ --

ফেরা যাক অতীতে,

তখন সবে বিমল ও মাধবীর বিয়ে হয়েছিল। মাধবী জানতো বিমল ও সমরেশের মধ্যে এক আত্মিক বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। বিয়ের পর পর দেখতো দুই বন্ধুতে মিলে লং ড্রাইভে পাড়ি দিত শহর থেকে শহরতলিতে। এরকমই একটা ট্রিপে সমরেশ বিমলকে পাশের সিটে বসিয়ে রওনা দিয়েছিল কোলাঘাটের উদ্দেশ্যে।

জাতীয় সড়কের ফাঁকা রাস্তায় গতি হয়েছিল উর্দ্ধগামী। টাল সামলাতে না পেরে ধাক্কা মেরেছিল রাস্তার ধারের একটি চায়ের দোকানে। দোকানের মালিক সেখানেই স্পট ডেড! তার স্ত্রী গুরুতর জখম হয়। দূর্ঘটনা কবলিত সকলকে নিয়ে যাওয়া হয় নিকটবর্তী হাসপাতালে।

ভাগ্যক্রমে সমরেশের আঘাত অত গুরুতর না হলেও অ্যাক্সিডেন্টের আঁচ বেশি পায় বিমল। বিশেষ ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন সমরেশের শরীরে পাওয়া যায়নি, তবে বিমলের বিষয়ে ডাক্তার বুঝতে পারে যে পেশেন্টের পেলভিস গ্ল্যান্ডে বেশ চোট এসেছে। এছাড়াও দোকানদারের বউও চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে অন্ধ হয়ে যায়। আর এসব কিছুর জন্য দায়ী ছিল সমরেশের রেকলেস ড্রাইভিং।

হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার চৌধুরী সমরেশকে আলাদা করে ডেকে সেই সম্ভাবনার কথাই শোনান, যার ফলে পরবর্তীতে বিমল ও মাধবীকে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার পথ বেছে নিতে হয়।

অজান্তে করে ফেলা বন্ধুর এত বড় ক্ষতির কথা মুখ ফুটে সমরেশ বিমলের বাড়ির লোককে জানাতে পারেনি। ডাক্তারকে মোটা টাকার দক্ষিণা দিয়ে হাতিয়ে নেয় সেই রিপোর্টটা, এবং গোপন রাখতে বলা হয় পুরো বিষয়টা। এমনকি বিমলকেও জানতে দেওয়া হয়নি। এত বড় সত্যিটা সমরেশ গত এগারো বছর ধরে একা নিজের মনে বহন করে চলেছিল।

এতদিন পর সেই মেডিক্যাল রিপোর্টটা দেখে মাধবী নিজের পায়ের তলার জমি হারিয়ে ফেলে! মনে পড়ে কোলাঘাট হাসপাতালের এই ডাক্তার চৌধুরীর তত্ত্বাবধানেই বিমল অনেকদিন নিজের ট্রিটমেন্ট করায়। পরবর্তীতে তাঁরই রেকমেন্ড করা ডাক্তার তাদের সন্তানহীনতার বিষয়টা দেখেন।

আরো ঘাঁটাঘাঁটি করায় মাধবী ডাক্তার চৌধুরীর একটা হ্যান্ড নোট খুঁজে পায়।

সমরেশকে লেখা সেই চিঠিতে ডাক্তারবাবু লেখেন,

প্রিয় সমরেশ,

                  এই কয়েক বছরে তুমি অনেকবার অনেকভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছো। হয়তো আমাকে নিয়ে চাপা একটা ভয় কাজ করার দরুনই তোমার এই নিঃশর্ত সহায়তা, পাছে গোপন কথাটি না রয় গোপনে। তারই তাড়নায় তুমি হয়ে উঠেছিলে আমার সকল ঋতুর মুশকিল আসান। যার যথেচ্ছ সুযোগ আমি তুলেছি। এবার পালা আমার আত্মগ্লানির। আমরা দুজন মিলেই ওই স্বামী-স্ত্রীকে এতদিন অন্ধকারে রেখেছি। কিন্তু তুমি হয়তো এটাও ভোলোনি যে সেদিন তোমার র‍্যাশ ড্রাইভিংয়ের কারণে শুধু তোমার বন্ধুর নতুন সংসার স্বপ্ন উজাড় হয়নি, একটা গরিব পরিবারও অকালে ভেসে গেছিল। তোমার ব্লাড স্যাম্পেলে সেদিন অ্যালকোহল পাওয়া যায়। ড্রিংক এন্ড ড্রাইভ করেছিলে। তোমার কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে সময়মতো প্রভাব খাটিয়ে রিপোর্ট বদলে না দিলে অবশ্যম্ভাবী হাজতবাস হত তোমার। এসব কথা এতদিন শুধু আমরাই জানতাম, কিন্তু এখন একজন তৃতীয় ব্যক্তিও জানে। সে আর কেউ নয়, ওই মৃত চা ওয়ালার ছেলে। প্রতিশোধের আগুনে দগ্ধ হচ্ছে সে। চিঠিটা যখন পাবে ততক্ষণে আমি এই ইহলোক ত্যাগ করেছি। ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছি। সে স্পষ্টত জানিয়ে গ্যাছে আমি যদি নিজেকে শেষ না করে ফেলি তাহলে এতদিন আমি যা যা দুর্নীতি করেছি সব ফাঁস করে দেবে। লোকে এখনও আমায় ভগবানতুল্য ডাক্তার মানে। আমার কীর্তিকলাপ সম্পর্কে কেউ অবগত নয়। তিলে তিলে গড়ে তোলা আমার এই মিথ্যে সম্মানের তাসের ঘর বয়ঃসায়াহ্নে এসে ভেঙে যাবে, তা আমি মানতে পারবো না। আমার মৃত্যুটা যে আত্মহত্যা সেটা তুমি ব্যতীত কেউ জানবে না। কারণ নিয়ে কাটাছেঁড়া হলে আমার সকল কুকীর্তি বেরিয়ে আসতে পারে, যা আমি চাইনা। ওষুধের ওভারডোজে নিজেকে শেষ করতে যাচ্ছি, সবাই বুঝবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মরেছি। তোমাকে সাবধান করে দেওয়ার জন্য এই চিঠি। নিরুপমা, ও মেয়ে দুটিকে সাবধানে রেখো। নিজেও সাবধানে থেকো। চলি...."

-------------------------------------------------------

মাধবী হতবাক হয়েগেছিল এই চিঠিটা পড়ে।

ডাক্তার চৌধুরী আগে থেকেই জানতেন যে সেই অ্যাক্সিডেন্টের পর বিমল বাবা হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। তাই তিনি নিজের পোষ মানানো এক জুনিয়র ডাক্তারের কাছে তাদের পাঠান যে বিমলের অক্ষমতার প্রধান কারণ সম্পর্কে তাদের মিসলিড করে, আর তারা হয়ও। ডাক্তার চৌধুরী ইচ্ছে করে এমন কাজ করেন যাতে কোলাঘাটের ঘটনাটাকে ধামাচাপা দেওয়া যায়। সবটাই তাহলে গট আপ!

তার মানে বিমলের বন্ধ্যাত্ব ন্যাচারাল ছিলনা, ইট ওয়াস অ্যাক্সিডেন্টাল! বিয়ের আগে থেকে বিমল সুস্থ স্বাভাবিকই ছিল। সে মাধবীর থেকে কোনো কিছু গোপন করেনি, ঠকায়নি তাকে।

বিমলকে মুখে কিছু না বললেও মনে মনে মাধবীর নিজেকে স্বামীর দ্বারা প্রতারিত মনে করতো। তার মনে হত বিমল নিজের সমস্যার কথা গোপন রেখে তাকে বিবাহ করেছিল। যদিও বিমল প্রথম থেকেই বলে এসছে, সে নিজের অসুখের ব্যাপারে আগে থেকে কিছুই জানতো না। অসুখ থাকলে তো জানতো!

তারিখ না লেখা থাকলেও বোঝা যাচ্ছিল এটা বেশ পুরোনো চিঠি, তখন নিরুপমা দি, ও তার দুই সন্তান জীবিত ছিল। তাদের মৃত্যুটা কি তবে....?

মাধবী অত ভাবার অবকাশ পেল না। বসার ঘর থেকে সমরেশ হাঁক দেওয়ায় চটজলদি ফার্স্ট এইড বক্সটা নিয়ে বাকি সব যথাস্থানে রেখে বন্ধ করে দিল ওয়ারড্রব।

ফিরে এল বসার ঘরে। চললো শুশ্রূষা। তারপর হল মিলন, কলপাড়ের ধারে। তারপর আকস্মিক ভাবে মানিক এসে পড়লো। মাধবীকে পাওয়ার জেদ করতে লাগলো। মানিকের সেই ব্যকুলতা দেখে মাধবীর মনে হঠাৎ খুব লোভ জাগলো। বদলা নেওয়ার লোভ। মুহূর্তের মধ্যে উবে গেল সমরেশের প্রতি তিলে তিলে তৈরি হওয়া তার সকল ফিলিংস। সাধেই বলে নারী চরিত্র বড়ই জটিল। কাউকে মুহূর্তের ভালো লাগায় মনের সিংহাসনে ভগবানরূপে পূজিত করে তো পর মুহূর্তে আবার তাকেই পাথর ভেবে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।

মাধবী জানতো দু নৌকোয় পা দিয়ে বেশি দিন চলা যাবেনা। দিন দিন সমরেশের তার প্রতি অধিকারবোধ বেড়েই যাব। সেও নিজেকে বিরত রাখতে পারবে না। অথচ বিমলকেও তার চাই। অগ্যতা কোনো একজনকে বেছে নিতে হবে, অপরজনকে বিসর্জন দিয়ে। তাই মাধবী দিয়ে বসলো মানিককে সেই খুনে প্রস্তাব! বাকিটা ইতিহাস...

বাবলিতে বসলো বৈঠক। প্রথমে মাধবী ও মানিকের মধ্যে, পরে জুড়লো ঝন্টু। মানিক ভেবেছিল মাধবী সমরেশকে ছেড়ে তার কাছেই চলে আসবে। স্বামীর সাথে সংসার করলে, করুক। তার সাথে নাহয় পরকীয়া করবে। এই স্বপ্নে বিভোর হয়ে মানিক সবটা বাজি রাখতে রাজি ছিল। মাধবীর মতো অপরূপাকে তার ইচ্ছেতে নিজের বিছানায় পাওয়াটা মানিকের মতো কদর্যরূপী পুরুষের কাছে ছিল এক আকাশকুসুম ভাবনা। সেখানে মাত্র একটা খুনের পরিবর্তে সেই ভাবনা বাস্তবে রূপান্তরিত হচ্ছিল। মাধবীকে বারবার বিছানায় পেতে গোটা কলকাতাকে শ্মশান বানাতেও দু'বার ভাবতো না মানিক মিত্তির।

এদিকে মাধবীও জানতো মানিক পরবর্তীতে সমরেশের থেকেও বেশি ডেসপারেট হয়ে উঠবে। তাই তারও একটা ব্যবস্থা করার দরকার। তবে তা নিয়ে পরে ভাবা যাবে বলে ঠিক করেছিল মাধবী। খুনির পিছনে কি খুনি লাগাবে? নাকি তার হয়ে সেটা অন্য কেউ তার অজান্তে করে দেবে?

ঝন্টুর মনে তার এতদিনের সঙ্গীকে নিয়ে এক চাপা অসন্তোষ রয়েছে। অসন্তোষ দলের দ্বিতীয় হয়ে থাকার। হতে চায় সে এক নম্বর, মানিককে সরিয়ে। ওর চাই পাওয়ার (Power)। হ্যাঁ, মাধবীকে দেখে তার মন খানিক ডগমগালেও সে তাকে পাওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগবে না। মানিকের জায়গা নিতে ফ্রি-তে অন্য কাউকে খুন করতেও হাত কাঁপবে না তার। বিশস্ত বুঁদোকে কাজে লাগায় ঝন্টু। বুঁদোরও নিজের স্বার্থ ছিল তা ঝন্টু জানতো। এমনি এমনি তো বি কে পালের সব বাড়ি ছেড়ে সান্যাল বাড়িতে চোখ পড়েনি। সে কথায় পরে আসা যাবে।

বুঁদো পিছু নেয় মানিক ও মাধবীর। দেখে তারা বাবলিতে গিয়ে উঠেছে। খবর গিয়ে দেয় ঝন্টুকে। ঝন্টু আগে থেকেই পার্ক সার্কাসের জামালকে মানিকের নামে সুপারি দিয়ে রেখেছিল। তক্কে তক্কে ছিল তারা।

এবার বাবলিতে মাধবী মানিককে প্রস্তাব দেয় সমরেশকে খুন করার। মানিক প্ল্যান বানায়, ফোন করে সমরেশকে জানাবে যে সে মাধবীকে কিডন্যাপ করেছে। মুক্তিপণ হিসেবে বাড়ির দলিলটা চাইবে। মাধবী জানায় সান্যাল বাড়ির ছাদে যখন সে উঠেছিল তখন পাশের বাড়ির বউ তাকে দেখেছে। সে নিজের পরিচয় গোপন রেখে বলে বক্সার থেকে বাড়ির দালালি করতে মানিক মিত্তিরের আস্তানায় এসে উঠেছে। তদন্তে যাতে মাধবীর নাম না জড়ায় তাই মানিককে প্রস্তাব দেয় একজন সুন্দরী মেয়েকে দালাল বানিয়ে মেরে ফেলতে। অর্থাৎ আরো একটা খুন! যাতে পুরো সাজানো ঘটনাটাই সত্যি বলে মনে ধরে সকলের।

মানিক বলে সোনাগাছি থেকে ভালো ব্র্যান্ডেড মালকে ফাঁসিয়ে তাকে তুলে আনবে। তারপর তাকে খুন করে তার মুখটা অ্যাসিড ঢেলে নষ্ট করে দেবে যাতে পরে কেউ সনাক্তই না করতে পারে বক্সার থেকে আসা দালালটি কে? কারণ মাধবী তো আর বি কে পাল মুখো হবেনা, সুতরাং করবীর সুযোগ থাকবেনা মাধবীকে চিনে নিয়ে তাকে ধরিয়ে দেওয়ার।

বিমলকেও পরবর্তীতে এই মারাত্মক বিষয় নিয়ে অবগত করা হত যাতে তদন্তের বিষয় নিয়ে সেও আগে থেকে সজাগ থাকতো। মানিককে মাধবী সবটা বলেছিল। ডাক্তার চৌধুরীর হ্যান্ড নোটটার বিষয়েও, যখন মানিক জানতে চেয়েছিল সমরেশের সর্বনাশ করার পিছনে মাধবীর মোক্ষম কারণ সম্পর্কে।

সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল কিন্তু তারই মধ্যে বাবলিতে ঝন্টু এসে হাজির। তাই তাকেও প্ল্যানে সামিল করতে হল। বদলে গেল অপরাধের ঠিকানা, ধর্মতলা থেকে আহিরীটোলা। মানিক বাবলি থেকে সোনাগাছিতে মাসিকে ফোন করে মাধবীর মতো শারীরিক গঠনের রেশমাকে তলব করে পাঠিয়েছিল আহিরীটোলা ঘাটে। সে হত ষড়যন্ত্রের নিষ্পাপ বলি। নতুন প্ল্যান অনুযায়ী ঝন্টুকে পাঠিয়েছিল মাধবীর সাথে। মাধবীকে বিমলের হাতে তুলে দিয়ে সমরেশকে ঘাট অবধি দলিল সমেত ফুঁসলিয়ে নিয়ে আসা হত। সেটা করতো ঝন্টুই। বিমলকে যা বোঝানোর মাধবী পরে বুঝিয়ে বলতো।

কিন্তু সবকিছু ওলটপালট হয়েগেল বিমলের ক্ষনিকের রাগের জন্য। খুনটা সে-ই করে বসলো। মাঝখান থেকে রেশমা প্রাণে বেঁচে গেল। সে মাসির কথায় তার সাধের মানিকদার সাথে দেখা করতে আহিরীটোলা ঘাটে এসেছিল। জানতো না মানিক তার জন্য কি মরণ ফাঁদ পেতে রেখেছে! ঝন্টু তড়িঘড়ি সমরেশের খুনের খবর নিয়ে ঘাটে পৌঁছলে মানিক বেশি কথা না বাড়িয়ে ঝন্টুকে দিয়ে রেশমাকে সোনাপট্টিতে ফেরত পাঠায়।

ওদিকে ঝন্টুর আলাদাই প্ল্যান করে রেখেছিল। সে ভেবেছিল সেদিন যখন মানিক ধর্মতলায় বিক্ষোভ অবস্থানে আসবে তখন জামালকে দিয়ে তার ভবলীলা সাঙ্গ করে দেবে। জামালকে অনেকদিন আগে থেকেই সুপারি দিয়ে রেখেছিল সে। ছিল শুধু সুযোগের অপেক্ষায়। কিন্তু প্রথমে সমরেশকে মারার ছক কষায় সেদিন রেশমার সাথে সাথে মানিকও প্রাণে বেঁচে যায়। নাহলে তো জামাল ধর্মতলায় পৌঁছেই গেছিল। ঝন্টু সোনাগাছি হয়ে ধর্মতলায় রওনা হয় জামালকে মিশন অ্যাবর্ট (ক্যান্সেল) করার খবর জানাতে। আর মানিক আহিরীটোলা থেকে সোজা যায় জোড়াবাগান থানায়।

মানিক সোজা জোড়াবাগান থানায় এসে উপস্থিত। মানিককে দেখে পুলিশও থতমত খেয়ে গেল।.....

যেখান থেকে শুরু সেখানেই শেষ.... আপাতত।....