আশ্রমের প্রথম স্পর্শ
ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে সড়ক যত গ্রামের দিকে ঘুরেছে, মিতালির বুকের ভেতরের কামড়ানো অনুভূতিটাও তত আঁটসাঁট হয়ে উঠেছে। গাড়ির জানালার বাইরে সন্ধ্যার আলো কমে আসছিল, ধানখেতের উপরে ধোঁয়াশা নেমেছে। পেছনের সিটে রণি ঘুমিয়ে আছে, মাথা কাঁচের গায়ে হেলান দিয়ে, ঠোঁট আধখোলা। মিতালি দর্পণে তার দিকে তাকিয়ে রইল, গলার কাছে শিরদাঁড়ার রেখা পর্যন্ত নিজের চোখ নামিয়ে নিল। তারপর চোখ সরিয়ে সামনে তাকাল, কাঁপা হাতে স্টিয়ারিং ধরল।
আশ্রমের প্রবেশদ্বার সামনে এল। পুরনো ইটের খিলান, হলুদ রংয়ের দেয়াল যেন সন্ধ্যার আগুনে ধুলো খেয়ে বসে আছে। বাতাসে ধূপের গন্ধ, আর তার নিচে একটা অন্য গন্ধ, তিক্ত, উষ্ণ, তেলের মতো। মিতালি গাড়ি ব্রেক করল। ধুলো ধীরে স্থির হলো।
প্রবেশদ্বারের ঠিক ওপাশে দাঁড়িয়ে আছেন একজন নারী। লাল শাড়ি, সোনালি বুনন ঝালসে জ্বলছে আবছা আলোয়। কালো ও ধূসর মেশানো চুল খোলা, কাঁধ পর্যন্ত। অঞ্জলি। পাঁচ বছর পর মা। মিতালির শ্বাস এক মুহূর্ত থেমে গেল।
অঞ্জলি এগিয়ে এল। তার হাতের তালু দুটো উঁচু করা, দুই পাশে, যেন বাতাস থেকে কিছু গোগ্রাসে নিচ্ছেন। কাছে দাঁড়ালে স্পষ্ট, সেই গন্ধটা তার হাত থেকেই আসছে। প্রেতশালী কুম্ভী তেল। এক ফোঁটাও পড়ে নেই, কিন্তু গন্ধ পুরো প্রাঙ্গণ জুড়ে।
"মা," মিতালি বলল, গলাটা নিজেরই মনে হলো না।
অঞ্জলি তার কাঁধ ধরল। তালু দুটো গরম, আর মিলিয়ে মিলিয়ে স্লিপারি, সালোয়ারের কাপড়ের ওপর দিয়েও মিতালি অনুভব করল সেই তেল তার কাঁধে ঢুকে যাচ্ছে। "ফিরে এসেছিস," মা বললেন। শুধু এটুকুই। কিন্তু চোখ দুটো অনেক কিছু বলছিল, মেয়ের সারা শরীরের ওপর দিয়ে একবার উঠে গেল সেই দৃষ্টি, কোমর, নিতম্বের বাঁক, হালকা সাদা কাপড়ের নিচে স্তনের গোলাই। মিতালি মুখ ফিরিয়ে নিতে পারল না।
পেছনের দরজা খুলে রণি নামল। ঘুম ঘুম চোখ, পাঞ্জাবির কলার এদিক-ওদিক। "মা," বলল সে, আর কিছু বলার আগেই অঞ্জলি তার দিকে ঘুরল।
মা তার কাঁধে হাত রাখলেন। তালুটা রণির ধবধবে পাঞ্জাবির কাপড়ে স্থির হয়ে রইল, চাপ দিল না, সরল না। অঞ্জলি তাকালেন তার ছেলের চোখে। রণির শ্বাস ভারী হয়ে উঠল। দীর্ঘক্ষণ, কতক্ষণ তারা এভাবে তাকিয়ে রইল, মিতালি গুনতে পারল না। বাতাসে ধূপের ধোঁয়া তাদের তিনজনের চারপাশে পাতলা স্তর করে ঘুরছে। মায়ের চোখে কিছু একটা খুলছে, ছেলের চোখে কিছু একটা পড়ছে, মাঝখানে কোনো শব্দ নেই, শুধু একটা আদান-প্রদান যার নাম মিতালি জানে না, কিন্তু তার নিজের কান পর্যন্ত গরম হয়ে উঠছে দেখে সে বুঝল, এটা কোনো সাধারণ স্বাগতম নয়।
রণির ঘাড় লাল হয়ে এল। অঞ্জলি ধীরে হাত সরালেন। তালুর তেলের ভেজাটা পাঞ্জাবির কাপড়ে একটা গাঢ় দাগ রেখে গেল, কাঁধের ঠিক নিচে, হৃদয়ের ওপর।
"ভিতরে আয়।" অঞ্জলি ঘুরলেন। "তোমার বাবা অপেক্ষা করছেন। আজ রাত অনেকটা লম্বা, মেয়ে।"
তিনি এগিয়ে গেলেন খিলানের দিকে। শাড়ির আঁচল সরে গেল পিঠ থেকে, হলুদ দেয়ালের সামনে তার পিঠের বাঁকটা এক মুহূর্তের জন্য দেখা গেল, পরিণত, গর্বে খাড়া। মিতালি সেই বাঁকটার দিকে তাকিয়ে ভাবল, বাবা এই শরীরটা বছরের পর বছর ছুঁয়েছেন মন্ত্রের মতো। ভাবতেই তার পেটের নিচে একটা খেল ধরে গেল।
রণি তার পাশে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল ফিসফিস করে, "দিদা বলছিলে আমাদের আসতে দেখে চোখের জল ফেলবে। এটা কী হলো?"
মিতালি তার দিকে তাকাল। ভাইয়ের ঠোঁটে এখনো সেই অবোধ প্রশ্ন ঝুলছে, কিন্তু চোখে অন্য কিছু। সে সেটা চিনতে পারল, কারণ নিজের চোখেও আয়নায় সেটা দেখেছে, তিন বছর ধরে, প্রতি রাতে। "জল কি ফেলল?" মিতালি বলল। "আমি না।"
"আমি বলিনি মায়ের কথা," রণি বলল, খুব ধীরে।
মিতালির গলার সোনার মালা হঠাৎ ভারী লাগল। তার ভাই তার চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে আছে, নীল পাঞ্জাবির বুটমে তেলের সেই দাগ, আর দাগের নিচে তার হৃদয় জোরে জোরে বাজছে, মিতালি সেটা দেখতে পাচ্ছে, শুনতে পাচ্ছে, সেটা তার নিজের বুকে বাজছে মনে হচ্ছে। সে চোখ সরাল। সরাতে পারল না।
"চলো," সে বলল, গলা খসখসে।
প্রাঙ্গণের ভেতরে উঠান পাকা করা, তার মাঝে একটা বৃত্ত এঁকে আছে লাল আরসি করায়। বৃত্তের কেন্দ্রে একটা পিতলের কলস, তার মুখ বন্ধ, গলায় হলুদ সুতো জড়ানো। উঠানের চারদিকে লম্বা কাঠের খুঁটিতে ধূপদান ঝোলানো, ধোঁয়া উঠছে সোজা হয়ে, তারার দিকে। কোথাও কোথাও খোলা জানালার ভেতর থেকে আলো, আর একটা নারীকণ্ঠ মন্ত্র পড়ছে, সুর এমন যে শুনলে শরীরের কাঁধ থেকে পা পর্যন্ত একটা সুতো টান খায়।
"এই পূর্ণিমায় একটা কাজ শেষ করতে হবে," অঞ্জলি এগিয়ে গিয়ে বললেন, ঘুরে না তাকিয়ে। "পনেরো বছর স্থগিত। তোমাদের দুজনকে সেজন্যই ডেকেছি।"
মিতালির পায়ের নিচে আরসির রেখা টুপ টুপ ভিজছে কথার মাধ্যমে, সে জানে না কার ঘাম। "কী কাজ?"
অঞ্জলি থামলেন। ঘুরলেন। মুখে শান্ত একটা হাসি, যেটা উত্তর দেয় না, উত্তরটা একটু পরের জন্য ধরে রাখে। "তা এখন বললে শুনে ভয় পেয়ে ব্যাগ ফিরিয়ে দেবে তো।" সে মিতালির থুতনি তুলল এক আঙুলে, তালুর তেল মেয়ের চিবুকে লেগে রইল। "চিন্তা করিস না। শরীরটা যা চেয়েছে তিনটে বছর, আজ রাতে সে তার উত্তর পাবে।"
মিতালির হৃদয় কেঁপে উঠল। মা জানে? জানে যে প্রতি রাতে ঢাকার বাসায়, পাশের ঘরে রণি ঘুমিয়ে থাকবে জেনেই, সে নিজের সেলাই করা নামাজের মতো সেই কাজটা করেছে, ঠোঁটে ভাইয়ের নাম, আঙুলে অপরাধ? অঞ্জলির চোখ বলছে জানে। মিতালির হাঁটু কাঁপতে শুরু করল।
"মা," সে ফিসফিস করল, "আমি..."
"চুপ," অঞ্জলি বললেন, কিন্তু গলাটা নরম, প্রায় মায়ের মতোই নরম। "আজ রাতে লজ্জার কোনো জায়গা নেই। লজ্জা শুধু দড়ি। কাটতে হবে।"
উঠানের ওপাশে বারান্দা থেকে একটা পায়ের শব্দ। সাদা ছাতি, হলুদ ধুতি, গলায় কালো মালা। অরুণ রায় দাঁড়িয়ে আছেন, হাতে কাঠের মালা, চোখে সেই একই শান্ত দৃষ্টি যেটা মিতালি ছোটবেলায় ভয় পেত, এখন বুঝে সেই দৃষ্টি ভয়ের নয়, প্রতীক্ষার। বাবা মেয়ের দিকে এক নজর তাকালেন, তারপর ছেলের দিকে, তারপর বললেন ধীরে, "দুটো বিল্লু পাকা হয়ে গেছে।"
"বিল্লু না," অঞ্জলি বললেন, স্বামীর কাঁধে হাত রাখলেন, তালুর তেলে দুজনের মধ্যে একটা পুরনো, অত্যন্ত অন্তরঙ্গ চুক্তির ঝলক মিটলে যায়। "দুটো নৌকা। আজ রাতে ভাটা মিটবে।"
রণি মিতালির হাতের কাছে এসে দাঁড়াল, না ছুঁয়ে, না ছোঁয়ার এত কাছে যে তার উত্তাপ মিতালির বাহুর কাঁটা ঢুকে গেল। "দিদি," সে ফিসফিস করল, শব্দটা তার গলায় কেঁপে গিয়েছিল, "মা কী বলছে আমি একটাও বুঝলাম না। কিন্তু আমার বুকের ভেতরটা কেন এমন জ্বলছে?"
মিতালি তার ভাইয়ের মুখের দিকে তাকাল। সামনে মা আর বাবা দাঁড়িয়ে, পেছনে খিলান, আর মাঝখানের এই সুতোটা সে টের পাচ্ছে স্পষ্ট, যেটা তাদের দুজনকে শৈশব থেকে এক গিঁটে বাঁধা রেখেছে, যেটাকে ঢাকার আলোয় সে শুধু ভয়ের নাম দিয়েছিল।
"কারণ," সে বলল, ঠোঁট দুটো প্রায় নড়েই না, "তুমি একা জ্বলছ না।" আমরা দুজনে একসঙ্গে আগুনে পড়েছি, দিদি।"
রণির ঠোঁট কেঁপে উঠল। মিতালি দেখল তার ভাইয়ের চোখে জল জমছে, কিন্তু সে জানল, এটা কষ্টের জল নয়। এটা হলঘরে ভেজা কাপড় খোলার মতো, ওজন নামার জল।
"ওঠো," অরুণ বললেন। "প্রথমে স্নান। শহরের ধুলো নামবে না শরীর থেকে, তা ছাড়া বিকেলের তেল দেয়া হয়নি।"
স্নানঘর উঠানের পিছনে, দুটো আলাদা ঘর, মাঝে একটা খোলা করাতের পর্দা। পিতলের বালতিতে গরম জল, ভেজাটা একই কুম্ভী তেলের। মিতালি তার ঘরে ঢুকে দরজা সরিয়ে রাখল, তারপর ভুলে গেল বন্ধ করতে। করাতের ফাঁকে ভাইয়ের ছায়া দেখা যাচ্ছিল, পাঞ্জাবি খুলে ফেলার শব্দ। সে স্বেচ্ছায় তাকাল এবার।
রণির পিঠ পাতলা, কিন্তু কাঁধ সংজ্ঞায়িত। ত্বকে তেল লেগে ঝিলিক দিচ্ছে পর্দার ফাঁকে কাঁপা প্রদীপের আলোয়। মিতালির নিজের হাত নিজেই নেমে গেল সালোয়ারের নিচে। কাপড় সরিয়ে সে জলে দাঁড়াল। জল গরম, তেল ভাসছে ঢেউয়ের মতো। সে কুঁকড়ে না হেলে, প্রসারিত হয়ে বসল। হাত চলল, তবে মন্ত্রের ছন্দে, যা ছোটবেলায় শুনেছিল, "শ্বাসে উঠো, শ্বাসে নামো।" আঙুল ক্লিটের ওপর পড়ল, বর্ষার প্রথম ছোঁয়ার মতো। ঠোঁটে ফিসফিস, "রণি।"
পর্দার ফাঁকে রণি থেমে আছে মনে হলো। সে দেখল না, শুনল কি? মিতালির নিঃশ্বাস জোরে হলে সেই শব্দটা হয়তো যায়। সে থামল না। আঙুল নিজের ভিজে ভিজে ভেতরে ঢুকল, স্নানের গরম জলের মতো ভেতরটা জ্বলল। হালকা দাঁড়িয়ে, পায়ের গোঁজ চাপা, সে ছন্দ মিলাল।
"দিদি," পর্দার ওপার থেকে কণ্ঠ। "তুমি আছ?"
মিতালির হাত স্থির হলো ভেতরে। "আছি। কী?"
"আমি তোমাকে দেখতে চাই। এখন, এই মুহূর্তে।"
আঙুল বেরিয়ে এল স্রোতের সঙ্গে। মিতালি উঠে দাঁড়াল, জল ঝরে ঝরে নামল। করাতের পর্দাটা টেনে সরিয়ে দিল সে, এক হাতের চওড়া ফাঁক। নিজের শরীরটা ঢাকার জন্য নয়, ভাইয়ের চোখের জন্য খুলে রাখল। ভেজা কামিজ পিঠে টান দিয়ে লেগেছে, স্তনের গোলাইয়ের বাঁক স্পষ্ট, নিচে ছোট ছোট চোরা ঢেউ।
রণি দাঁড়িয়ে তাকাল। তার পাঞ্জাবি খোলা, বুক ভেজা, ডান হাতের কালির ট্যাটু ঝিলিক দিচ্ছে। তার নিচে প্যান্টের কাপড় তুলে আছে, সে জানে মিতালি দেখছে সেটা। মিতালি নামল, চোখ সরাল না।
"বাড়িতে বড়ো হয়েছিস," সে বলল, কণ্ঠ নিচু, কাপড়ে না চাপা।
"তুমি বড়ো হয়েছ, দিদি।"
মিতালি এগিয়ে গেল আধা পা। তাদের মধ্যে শুধু জলের ভেজা বাতাস। "রাতে মা যেটা করবে বলল," সে বলল, "তুমি জানো কী?"
রণির চোখ তার ঠোঁটে নামল। "আমার শরীর বলে কিছু একটা আসছে। আমি ভয় পাচ্ছি।"
"আমারও," মিতালি বলল। "কিন্তু তিন বছর আমি এই ভয়টার পেছনে ছুটেছি। ব্যর্থ হয়েছি। তোমার নামে।"
সে তার সেলাই সরিয়ে দিল। ভেজা কাপড় ছুঁড়ে না ফেলে, শরীর থেকে শুধু ঢিলে করে নামিয়ে দিল। রণির চোখ তার স্তনের উঁচু স্থিতিতে, কাটির ভাঁজে, থামল না কোথাও। তার শ্বাস ভারী, দেহে উত্তাপ বাড়ছে দেখা যায়, গলা লাল।
"ছুঁয়ে দেখতে চাও?" মিতালি জিজ্ঞেস করল, কণ্ঠ তেমন কাঁপেনি যে অবাক করে।
"না," রণি বলল, কাঁপছে। "না, দিদি, বাবা মা বলেছেন প্রথম ছোঁয়াটা আচারের ভেতরে। আগে না। আমার সাহস কম থাকলে ভুলটা হয়ে যাবে।"
মিতালি হেসে ফেলল, এক রাগের হাসি। তারপর বুকের ভেতর কিছু নরম হলো, ভাইটা এত সতর্ক, এত সংবেদনশীল। সে নিজের কাপড় সরিয়ে নিল, তারপর রণির প্যান্টের কাপড়ের ওপর দিয়ে হালকা এক আঙুল নামাল, না ছুঁয়ে, তার সেলাইয়ের রেখাটার ওপর দিয়ে বাতাসে চলা আঙুলের মতো। রণির পায়ের নিচ থেকে কাঁপ উঠল সোজা মাথা পর্যন্ত।
"এটা আচার নয়," রণি বলল, গলা ছেঁড়া। "এটা তোমার ক্ষতি।"
"এটা আমার তিন বছরের প্রতিদান," মিতালি বলল। "শুধু আঁচড়। আর কিছু না।"
উঠান থেকে অঞ্জলির কণ্ঠ ভেসে এল, মন্ত্রের ছন্দেই, কোনো তিরস্কার নয়, "ভাত ঠান্ডা হচ্ছে, মেয়ে। দুজনে স্নান থামাও। রাত চলেছে তোমাদের দিকে।"
রণি মিতালির হাত আটকাল, মুঠো ভরা করে। দুজনেই কাঁপছিল। "ভেতরে চলো," সে বলল, তার ছোঁয়া মিতালির হাতের কাঁটার ওপর। "দিদি, আজ রাত কী হতে চলেছে আমার মনে হচ্ছে আমি জানি। এবং আমি সেজন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু সঠিক সময়ে।"
মিতালি তার হাত ফিরিয়ে আনল। নিজের হৃদয়ে সে শুনল শব্দটা, পিতলের কলসের ভেতর জলের মতো গুনগুন। পিতলের বালতির জল ঝেড়ে সে নিজের শরীর জল ঢালল, ঠান্ডা করার চেষ্টা, যা হলো না। শরীরটা এখন তেলে ভেজা, জ্বলে জ্বলে উঠছে।
দুজনে কাপড় পরে উঠানে বেরিয়ে এল। অঞ্জলি বারান্দায় পিতলের থালায় ভাত রেখেছেন, আর পাশে দুটো পিতলের কলস, তেল ভরা। অরুণ বসে আছেন কুম্ভী তেলের বৃত্তের পাশে, কাঠের মালা ঘুরিয়ে।
"এসো," তিনি বললেন। "খাও, তারপর শ্বাসের অনুশীলন। আজ রাতে শ্বাসটাই প্রথম পাঠ। শ্বাস ঠিক হলে শরীর তার পথ খুঁজে নেবে নিজেই।"
খাওয়া দ্রুত হলো, না বলে কিছুই। রণির চোখ বারবার মিতালির কাঁধের ওপর যাচ্ছিল, যেখানে তেলের দাগ লেগে আছে মায়ের ছোঁয়ার। মিতালি সেটা বারবার টের পাচ্ছিল, আর তার পেটের নিচে সেই জল স্থির হয়নি, ঢেউ উঠছে।
খাওয়া শেষে অঞ্জলি মাটিতে বসলেন, দুজন সন্তানকে তার দুই পাশে বসালেন। অরুণ পেছনে। ধূপদান একটা নতুন জ্বলে উঠল।
"হাত এখানে," অঞ্জলি মিতালির হাত ধরে তার নিজের শ্বাস চলা পেটের ওপর রাখলেন। "অনুভব কর। শ্বাস ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তোমার পেটও ওঠবে। দুজনের শ্বাস এক হলে শরীর এক হয়ে যায়।"
রণির পিঠে অঞ্জলির অন্য হাত। তার তালু তেলে ভেজা, ছেলের ভেজা পিঠে স্লিপারি হয়ে চলছে, চাপ দিচ্ছে শ্বাসের ছন্দে। রণির শ্বাস ভারী, কাঁধ উঠছে-নামছে। মায়ের তালু ধীরে নেমে এল শিরদাঁড়া বরাবর, পাঞ্জাবির ওপর দিয়ে। রণি এক রকম শব্দ করল, আটকানো।
"মা," সে ফিসফিস করল।
"চুপ," অঞ্জলি বললেন, তালু শান্ত। "শ্বাস ভাঙো না। শরীর বলছে যা বলছে, তুমি শোনো, চুপচাপ।"
মিতালির চোখ বন্ধ হয়ে গেল। মায়ের পেটের শ্বাস তার হাতের নিচে ঢেউয়ের মতো। তার নিজের শ্বাস সেই ঢেউয়ের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। পাশে রণির শ্বাসও। তিনজনের বুকের ভেতর একটা সুতো টান খেল। অরুণের কণ্ঠ নেমে এল পেছন থেকে, মন্ত্র, পুরনো, সুরেলা, যেটা শিশু মিতালি ঘুমের মধ্যে শুনেছিল, এখন সেটার অর্থ বুঝছে, শরীর দিয়ে।
"তেল নামাও ওর কাঁধে," অরুণ বললেন অঞ্জলিকে। "স্নানের জল শুকিয়ে গেছে। শরীর খোলা করে তেল চলবে।"
অঞ্জলি মিতালির কামিজের হুক খুললেন, এক আঙুলে, শান্ত, কোনো প্রশ্ন নেই। মেয়ের হালকা সাদা কাপড় নেমে এল কাঁধ থেকে। মিতালির ব্রা খুললে তার স্তন দুটো স্বাধীন হলো, হালকা, ভরা, চোরা বাদামি বৃত্তাকার অংশ কাঁপছে শ্বাসে। অঞ্জলি গরম তেল তালুতে নিলে দুই হাতে বেয়ে ছড়াল মেয়ের কাঁধে, পিঠে, শিরদাঁড়ার প্রতিটা গাঁটে চাপ। তেল নেমে এল কোমরে, কাটির ভাঁজে, নিতম্বের গোলাইয়ে। মিতালির প্রতিটা স্নায়ু খোলা হয়ে গেল এক নিঃশ্বাসে।
"ওর পিঠও," অঞ্জলি বললেন, চোখ রণির দিকে।
রণির পাঞ্জাবি খুলল। অঞ্জলির তালু তেল নিয়ে ছেলের কাঁধে, বুকে চলল, তেলের গাঢ় দাগটার ঠিক ওপরে দিয়ে, হৃদয়ের মাঝে। ছেলের বুক জোরে জোরে উঠছে-নামছে। মা তাকালেন তার চোখে, ধীরে, এবং চোখের সেই আদান-প্রদান ফিরে এল, এবার কাঁধে তালু স্থির হলো বেশি সময়, চাপ দিল না, তবে ছেলের হৃদয়ের ঠিক ওপরে, ছুঁয়ে রইল।
রণির গলা থেকে এক শব্দ বেরিয়ে এল, আধখোলা ঠোঁটে। মিতালি সেটা শুনল। তার ভাইয়ের প্যান্টের কাপড়ের নিচে কিছু উঠছে দেখল সে, ধীরে, নিশ্চিত। তার নিজের কাটির ভেতর পানি গড়িয়ে পড়ল, তেলের সঙ্গে মিশে মিতালির শরীর দিয়ে বেয়ে নামল।
"খুলে যাও," অরুণ বললেন, কণ্ঠ শান্ত, ধূপের ধোঁয়ার মতো। "দুজনে একসঙ্গে ঘুমাবে আজ রাতে এক ঘরে। শ্বাসের অনুশীলন রাত জোড়া চলবে। যা হবে, শ্বাসের ছন্দেই হবে। তোমাদের শরীর এক হওয়ার পথ খুঁজে নেবে।"
মিতালির চোখ খুলে গেল। তার দিকে রণি তাকিয়ে আছে, তেলে ভেজা বুক, ভরা শ্বাস। তাদের মধ্যে মায়ের তেলে ভেজা দুটো হাত তাদের কাঁধে ধরে আছে, ব্রিজের মতো। মিতালি জানল, আজ রাতটা সেই পনেরো বছরের শেষ রাত।
"মা," সে বলল, গলাটা নিজের নয় মনে হলো, "তুমি সব জানতে। কত আগে থেকে?"
অঞ্জলি তার চোখের ওপর থেকে এক তালু তেল সরিয়ে নিলেন ধীরে। "তোমার শরীরের রঙ থেকে, মেয়ে। তোমার শরীর তোমার কাছে ছুটে গেছে তিন বছর। তিন বছরে তোমার শরীর এখানে এসে পৌঁছতে পারেনি, তাই আমরা তোমাকে তার দিকে টেনে আনলাম।"
তার হাত মিতালির বুকের দিকে চলল, তেলে ভেজা, শ্বাসের ছন্দে। ছোঁয়াটা পড়ল বুকের কেন্দ্রে, হৃদয়ের ঠিক ওপরে। অঞ্জলির তালু গরম, তেল মাখা, মিতালির শ্বাসের ছন্দে দুলছে সেই তালু, না চেপে, না সরে। মিতালির স্তন দুটো তার নিজেরই নয় মনে হলো, শ্বাসে ভরে উঠছে, বৃত্তাকার কাটির মাঝে বাদামি দুটো ফুলে উঠছে, ঠান্ডা উঠানের বাতাস আর তেলের উত্তাপে দাঁড়িয়ে গেছে কষ দুটো।
"শরীরটা এখন তোমার মন্দির," অঞ্জলি বললেন, আর তালুটা ধীরে নামল পাঁজরের বাঁকে, "কিন্তু মন্দিরে ঢোকার দুয়ার তুমি নিজেই খুলবে। মিতালি, আজ রাতে তোমার শরীর চায় কী, বলো তো?"
মিতালির গলা থেকে শব্দ বেরোল না। তার মায়ের তালু তার পাঁজরের হাড়ের মধ্য দিয়ে ঢুকে গেছে মনে হচ্ছে, সরাসরি নিচের সেই জলের ভেতরে ঢেউ তুলছে। তার দিকে রণি তাকিয়ে আছে, তেলে ভেজা বুকে কালির ট্যাটু কাঁপছে শ্বাসের সঙ্গে।
"ভাইয়ের কে," সে বলল, প্রায় শোনা যায় না এমন গলায়। "ভাইয়ের ছোঁয়া চায়।"
অঞ্জলি হাসলেন, হাসিটা মুখে না, চোখে। "আর তুমি, রণি? তোমার শরীর কী চায়?"
রণির জ্যান্ত হাড়ে জুড়িয়ে গেল। "দিদিকে," বলল সে, "মা, আমি তিনটে বছর ওর দরজার পেছনে ওর শব্দ শুনে ঘুমাইনি। ওর নাম ফিসফিস করে আমি নিজের হাত ছুঁয়েছি। ওরা আমার স্বপ্নে আসে, ভেজা চুলে, না কপালে ভুল বলি, ভেজা সব জায়গায়।"
"স্বপ্ন শুরু," অরুণ বললেন পেছন থেকে, মালা ঘুরিয়ে। "আজ রাতে ঘুমের কাজ নেই। শ্বাসের অনুশীলন শুরু করো। মুখোমুখি বসো। হাঁটু ভরে।"
মিতালি সরে গিয়ে মুখোমুখি বসল রণির সঙ্গে, হাঁটু হাঁটুতে লেগে, আরসির বৃত্তের ভেতরে। তার স্তন দুটো ভারী হয়ে ঝুলছে খাড়া শরীরে, প্রতিটা শ্বাসে দোল খাচ্ছে। রণির চোখ সেখানে নামল, আর মিতালি টের পেল দৃষ্টিটা একটা ছোঁয়ার মতো, বৃত্তাকার অংশ ধরে, কষ ধরে, ভেতরে ঢুকে গিয়ে। তার কাটির ভাঁজে জল আর তেল মিশে পাতলা হয়ে নেমে যাচ্ছে, হাঁটুর মাংসে লেগে চিকচিক করছে।
"হাত একত্র করো," অঞ্জলি বললেন। "তোমাদের হাতের তালু তেল মাখানো। একে অপরের শ্বাস অনুভব করো। তালু বুকে, না ছুঁয়ে, এক আঙুলের ফাঁক রেখে।"
দুজনের তালু উঠল। মিতালির তালু রণির বুকের ওপর ঝুলল, তেল ফোঁটা করে পড়ছে তার হৃদয়ের ওপর। রণির কাঁপা তালু মিতালির বুকের ওপর, তার স্তনের গোলাইয়ের মাঝে, শূন্য জায়গাটার ঠিক মাঝখানে। এক আঙুলের ফাঁক। সেই ফাঁকে তাদের হৃদয়ের তাপ মেশছে, মিতালির মনে হলো তার বুকের ভেতর সে একটা ঘড়ি পেয়েছে, যেটার কাঁটা ভাইয়ের হৃদয়ের ঘড়ির সঙ্গে মিলে গেছে।
"শ্বাস," অরুণ বললেন। "ভেতরে নাও। পাঁচ গুনে।"
মিতালি শ্বাস টানল, গভীর, বুক ফুলে উঠল, রণির তালুর সঙ্গে তার স্তনের গোলাইয়ের বাঁকটা ছুঁয়ে গেল, শুধু একটা মুহূর্তের জন্য, বাতাসে কাপড়ের ছোঁয়ার মতো। রণির শ্বাস হইচই করে উঠল, আধখোলা ঠোঁট ভেঙে।
"শ্বাস ভাঙো না," অঞ্জলি বললেন। "ছোঁয়া ভাঙো না। দুটোই একসঙ্গে ধরতে পারলে শরীর শেখে।"
মিতালির চোখ বন্ধ। প্রতি শ্বাসে রণির তালু তার স্তনের গোলাই স্পর্শ করছে, হালকা, প্রায় কিছুই না, কিন্তু তার শরীরে সেই ছোঁয়াটা বজ্রের মতো। প্রতি নিঃশ্বাসে সে কাঁপছে, তার কাটির ভেতরের জল উত্তাপে গড়িয়ে পড়ছে, গলার সোনার মালার গিঁট পর্যন্ত ভিজে উঠেছে। তার নিজের সেলাইয়ের কাপড় ভিজে আরসির মাটিতে দাগ ফেলছে, তার ভেতরের ঘ্রাণটা ধূপের সঙ্গে মিশে উঠান জুড়ে ছড়াচ্ছে। মা তা শুনতে পাচ্ছেন, মিতালি জানে। শরীরের ভাষা এই পরিবারের প্রথম ভাষা।
"খোলো," অরুণ বললেন, ধীর কণ্ঠে। "কাপড় খোলো। দুজনে। আজ রাতে এই উঠানে লুকানোর কিছু নেই।"
মিতালির হাত নড়ল। সে নিজের কামিজটা কোমর থেকে টেনে তুলল, মাথার ওপর দিয়ে, চুল একটু উলটে গেল। রণি তাকাল, চোখ সরাতে পারল না, এবার সে চেষ্টাই করল না। মিতালির স্তন দুটো খোলা বাতাসে, ভরা, দোলে, নিচে সরু কোমর, কাটির ভাঁজ, ভেজা সালোয়ার আঁটসাঁট লেগে আছে নিতম্বের গোলাইয়ে। তারপর রণি নিজের পাঞ্জাবিটা ফেলল, প্যান্টটা ফেলল, খোলা হয়ে দাঁড়াল।
তার দাঁড়ানো স্পষ্ট, পুরো, লালচে, কাঁপছে। মিতালির ঠোঁট ফুলে উঠল। তিন বছরের স্বপ্ন, আঙুলের ওপর দিয়ে যাওয়া, প্রতি রাতের গোপন নাম, এখন খোলা চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, জীবন্ত, তার মায়ের তেলে ভেজা।
"শুয়ে পড়ো," অঞ্জলি বললেন, তাদের পাশে। "দিদি নিচে। রণি ওর ওপর। মুখোমুখি বুক। এটা শুধু শ্বাসের অনুশীলন, বুঝেছ? ছোঁয়া আচারের ভেতরে থাকবে, ছন্দের ভেতরে। যা হবে, মন্ত্রের তালে হবে।"
মিতালি শুয়ে পড়ল বিছানো কাপড়ে, যেটা গোটা উঠান দেখে বুঝল, পূজার বিছানা, ধর্মের লাল। রণি তার ওপর এল, হাঁটু পাতল, দুজনের শরীরের মাঝে একটা এলোমেলো ফাঁক ছিল, আর সেই ফাঁকে তার কাঁপা দাঁড়ানোটা মিতালির কাটির ভাঁজের ঠিক ওপরে ঝুলল।
"শ্বাস," অরুণ বললেন, "এক সঙ্গে।"
দুজনে শ্বাস টানল। রণির বুক মিতালির স্তনের ওপর নেমে এল, চামড়ায় চামড়া, তেল মাখা, স্লিপারি, মিতালির কষ দুটো ছেলের বুকে চাপ খেল। রণির ঠোঁট তার কানের পাশে, শ্বাসটা গরম, ভাঙা। মিতালির হাত নিজেই তার পিঠে উঠে গেল, কামড়ে ধরল কাঁধের মাংস, আর রণি শিউরে উঠল, তার নিচের অঙ্গটা ছুঁয়ে গেল মিতালির ভেজা ফাঁকের ঠিক কেন্দ্রে, ক্লিটের ওপর, এক সেকেন্ডের জন্য।
দুজনেই চিৎকার করে উঠল, আধখোলা, কামড়ে আটকে ফেলা শব্দে।
"মা," রণি ভাঙা গলায় বলল, "আমি পারছি না। আমার শরীর চাইছে। আমি ঢুকতে চাই। দিদির ভেতরে।"
অঞ্জলি এগিয়ে এলেন, হাঁটুতে বসে, তাদের পাশে, এবং তার তেল মাখা তালুটা রণির কাঁধে রাখলেন, সেই একই জায়গায়, হৃদয়ের ওপর। "তাহলে শোনো," তিনি বললেন, কণ্ঠ শান্ত, প্রায় স্নেহময়, "আচারটা এখন শুরু হবে। কিন্তু প্রথমে একটা মন্ত্র শিখতে হবে দুজনকে। বিছানার মন্ত্র। মুখে মুখ লাগিয়ে বলবে, তালে তালে, আর শরীরের ভেতরে ঢুকবে একসঙ্গে।"
মিতালি মায়ের চোখে তাকাল, উঁচু তাকাল, রণির ওপর চাপা পড়ে থেকে। "মা, তুমি এটা করতে পরো বাবার সঙ্গে?"
"প্রতি পূর্ণিমায়," অঞ্জলি বললেন। "আজ রাতে পাঁচজনের হৃদয় এক গিঁটে থাকবে। আর তোমাদের পরের পাঠ তোমার বাবা দেবেন, মেয়ে। তার আগে তোমরা দুজন নিজেদের সুতোটা পূর্ণ করো।"
তিনি উঠে গেলেন, আর অরুণ এগিয়ে এলেন ধূপদানের পাশে দাঁড়িয়ে, মালা ঘুরিয়ে, মন্ত্রের প্রথম শব্দটা উচ্চারণ করলেন। সেই শব্দটা মিতালির শরীরে বিদ্যুতের মতো নেমে গেল, শিরদাঁড়া বরাবর, তার কাটির ভেতরে পা রাখল। রণির দাঁড়ানোটা তার ভেজা ফাঁকে চেপে বসল, কাঁপছে, প্রস্তুত।
"শিখো," অরুণ বললেন। "তারপর যা করবে, মন্ত্রের প্রতিটা তালে করবে।"
মিতালি রণির মুখের দিকে তাকাল। ভাইয়ের চোখ ভেজা, খোলা, তার নিজের চোখের প্রতিবিম্ব সেখানে। সে তার কোমর উঁচু করল, নিজের ভেজা সেলাই সরিয়ে দিল এক হাতে, আর তার ভেজা, জ্বলন্ত ফাঁকটা রণির কাঁপা দাঁড়ানোর শীর্ষে ছুঁয়ে দিল, শুধু ছুঁয়ে, প্রথম প্রকৃত ছোঁয়া, যেটা দুজনের শরীর একসঙ্গে কেঁপে উঠল। আর ছুঁয়ে রইল, ফাঁকটা এখনো শুধু ছোঁয়া, কিন্তু মিতালির ভেতরটা তার দাঁড়ানোর উত্তাপ চুমুক দিয়ে খুলে যেন দুয়ার টানল।
"মন্ত্র বলো," অরুণের কণ্ঠ ভেসে এল, "এবং প্রবেশ করো প্রথম তালে।"
রণির ঠোঁট মিতালির ঠোঁটে লাগল। মন্ত্রের প্রথম শব্দটা মুখোমুখি প্রশ্বাসে মিশে গেল, অর্ধেক তার, অর্ধেক তার। মিতালি তাল দিল পেছনে, তারপর প্রথম তালে তার কোমর উঁচু করল। রণি তার দাঁড়ানোটা ঠেলে দিল ভেজা মুখের ভেতরে, শুধু মাথাটা, ফাঁপা চামড়ার মুখটা ছাড়িয়ে গেল জায়গা করে নিতে নিতে।
দুজনে একসঙ্গে চিৎকার করে উঠল, মন্ত্রের শব্দটা ভেঙে ছিটকে গেল।
"দিদি।"
"রণি।"
তার ভেতরটা জ্বলছে। শরীরটা মিতালির ভেতরে ছুঁয়ে ফেলার পরিচিতি করছে, প্রতিটা ভাঁজ প্রসারিত হয়ে তাকে নিচ্ছে, গরম, ভিজে ভিজে, তেল আর ভেজা জলে স্লিপারি। মিতালির পা নিজেই তার পিঠে ভর করল, গোঁজ দিল তার পিঠের নিচে, যেন না নিলে সে ছিঁড়ে পড়ে যাবে।
"আর," সে ফিসফিস করল। "আর ভেতরে। সবটা। তিন বছরের সবটা।"
রণি কোমর ঘুরিয়ে ঠেলল, ধীরে, একটা গাঁট নামানোর মতো। তার ভেতরে ঢুকে গেল, শেষ পর্যন্ত, তার সেলাইয়ের ভেতরের শেষ স্পর্শ পর্যন্ত। মিতালির শরীরটা মাটি থেকে খুলে উঠল, তার স্তন রণির বুকে ছাপ ফেলল, তার মাথা পেছনে ঢুলুল, ঠোঁট খুলে রইল শব্দ ছাড়া।
"চলো," অঞ্জলি বললেন, পাশে হাঁটুতে বসে। "তালে চলো। ঢোকা আর বেরোনো, একটা শ্বাসের ঢেউয়ের মতো।"
তারা চলল। রণি পিঠ তুলল, আউটে বেরিয়ে এল, প্রবেশে ভেতরে নেমে গেল। প্রতি প্রবেশে মিতালির কাটির ভাঁজ চাপ খেল, তেল মাখা চামড়া জোরে জোরে শব্দ তুলল, ভেজা, জলপাইয়ের মতো, ধূপের ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে উঠান জুড়ে ছড়াল। মিতালির বৃত্তাকার দুটো বাদামি তার বুকের উত্তাপে দাঁড়িয়ে গেল, ঘষা খেল, স্নায়ুগুলো তার ভেতরের দিকে ছুটল।
"মন্ত্র," অরুণ বললেন, পেছনে দাঁড়িয়ে, মালা ঘুরিয়ে। "ভুলো না।"
রণি মন্ত্র বলল, ভাঙা গলায়, প্রবেশের তালে প্রতিটা শব্দ বেরিয়ে আসল। মিতালি তাল দিল মিশে মিশে, তার ঠোঁট তার কানের পাশে, শব্দটা তার নিজের মুখ থেকে ভাইয়ের শ্বাসে ফিরে এসেছে সে অনুভব করল। প্রতি তালে রণি ছুঁড়ল জোরে, তার নিতম্ব আর্সির মাটিতে টুপটাপ করল, তার ভেতরটা কাঁপল, জল গড়িয়ে পড়ল তার নিচে কাপড়ের দাগ প্রশস্ত করে।
"দিদি," রণি ফিসফিস করল, "আমি ভিতরে তোমার। আমার মনে হচ্ছে আমি তোমার ভেতরে বড়ো হচ্ছি।"
"হও," মিতালি বলল, তার ঠোঁট কামড়ে রণির কাঁধে দাগ ফেলল। "হও। তিনটা বছর আমি তোমার শব্দ শুনে হাত চালিয়েছি। ঠোঁটে তোমার নাম। আজ রাত শরীরের দাবি। কামড়ে ধরো। জোরে।"
রণি জোরে ঠেলল, তার হাত নিজেই ধরল মিতালির নিতম্বের গোলাই, মাংস কামড়ে ধরল আঙুলে, তেল মাখা আঙুলের ফাঁকে চামড়ার রেখা লাল হয়ে উঠল। মিতালি চিৎকার করে উঠল, প্রকাশ্যে এবার, উঠান জুড়ে শব্দটা ছড়াল, মায়ের তালু মাটিতে স্থির হলো, বাবার মালা ঘুরল। কোনো তিরস্কার নয়। আশীর্বাদ।
"ভালো," অঞ্জলি ফিসফিস করলেন। "সুতোটা টানো। টানো, মেয়ে। তোমার ভাইয়ের শক্তি নাও।"
মিতালির চোখ বন্ধ হয়ে গেল। প্রতি প্রবেশে তার শরীর তার পাশে ছুঁড়ে গেল, কাপড়ের উপর কাটির ভাঁজ ঘষা খেল, তার বৃত্তাকার দুটো রণির বুকে দাগ রাখল, তার সোনার মালা দুজনের ঘামে ভিজে গেল। তার ভেতরটা তার ভাইয়ের আকৃতি গ্রহণ করল, স্বপ্নের সেই আকৃতি, তিনটা বছরের স্বপ্ন, এখন জীবন্ত, উষ্ণ, জোরে জোরে প্রবেশ করছে, প্রস্থান করছে, আবার প্রবেশ করছে।
"রণি," সে কান্নার গলায় বলল। "আমার ভেতরে তাল মিলাও। মন্ত্রের তালে। আমি ভিতরে তোমার তাল শুনতে চাই।"
রণি মন্ত্র বলল, প্রবেশের প্রতি তালে প্রতিটা শব্দ তার ভেতরে পড়ল, মিতালির শরীর সেই তাল গ্রহণ করল, তার স্নায়ুগুলো টান খেল, তার স্তন দুটো ভর করল তার বুকে, তার পেটের নিচে ঢেউ ওঠল, প্রতি তালে বেশি উঁচু। তার ভেতরটা সংকুচিত হতে শুরু করল, তার ভাইয়ের ভেতরে চাপ দিল, ঘিরে ধরল, টানল।
"দিদি, আমি..."
"আসো," মিতালি ফিসফিস করল। "ভেতরে আসো। আমার ভেতরে। আজ রাত উৎসর্গ।"
অঞ্জলি তাদের পাশে হাঁটুতে বসে বললেন, শান্ত, প্রায় স্নেহময়, "যা উঠবে, উৎসর্গ। ভয় পেও না। এটাই আচারের কেন্দ্র।"
রণির প্রবেশ দ্রুত হলো, অনিয়মিত, ভাঙা, তার শ্বাস ভাঙল। তার শরীর শক্ত হয়ে গেল, তার হাত মিতালির নিতম্বে কামড়ে ধরল, তার মুখ মিতালির ঘাড়ে চাপা পড়ল। তার ভেতরটা ভরে উঠল, উষ্ণ, ধাক্কা মেরে, ঘন ঢেউয়ে ঢেউয়ে।
মিতালির চিৎকার বেরিয়ে এল, মন্ত্রের তালেই, ভেঙে ভেঙে। তার ভেতরটা প্রবাহ গ্রহণ করল, উষ্ণ ঢেউয়ের প্রতিটা ফোঁটা, তার স্নায়ু কাঁপল, তার পা রণির পিঠে আঁটসাঁট হলো, তার নিজের ঢেউ ফেলল, তার ভাইয়ের শেষ ফোঁটার সঙ্গে মিশে গেল, এক গিঁটে।
দুজনে কাঁপছে, একসঙ্গে, মন্ত্রের শেষ তালে। তার ভেতর থেকে তার ভেজা দাঁড়ানোটা ধীরে বেরিয়ে এল, জল আর বীজ মিশে মিতালির ভেতর থেকে গড়িয়ে পড়ল পূজার লাল কাপড়ে, দাগ ফেলল, উজ্জ্বল, স্পষ্ট।
অরুণ মালা থামালেন। "উৎসর্গ সম্পন্ন," বললেন তিনি।
অঞ্জলি দুজনের ঘামে ভেজা মাথায় তালু বুলালেন। "তোমাদের সুতো পূর্ণ হয়েছে," তিনি বললেন, চোখ ভেজা, চোখে হাসি। "কিন্তু রাত এখনো শেষ হয়নি, মেয়ে। এবার তোমার পরের পাঠ। তোমার বাবা অপেক্ষা করছেন।"
মিতালি চোখ খুলল। উঠানের ওপাশে অরুণ দাঁড়িয়ে আছেন, মালা হাতে, ধূপের ধোঁয়ার আলোয়। তার শরীর এখনো কাঁপছে ভাইয়ের ভেতরে থাকা উত্তাপে, তার পাঁজর ভেজা, তার ভেতরটা এখনো তার ভাইয়ের ছাপ বয়ে চলেছে। বাবার দিকে তাকিয়ে তার পেটের নিচে নতুন ঢেউ উঠল। সে উত্তর দিল না, শুধু উঠে দাঁড়াল। রণি তার হাত আঁকড়ে ছাড়ল ধীরে, আঙুলের ফাঁক দিয়ে বয়ে গেল ছোঁয়াটা। মিতালি হেঁটে গেল বাবার দিকে, খোলা শরীরে, তেল আর ঘামে ভেজা, তার ভেতরে ভাইয়ের উত্তাপ ছড়িয়ে চলছে প্রতিটা পায়ের ফেলে।
অরুণ তাকালেন তার দিকে। কাঠের মালা নেমে এল কোমরে।
"মেয়ে," তিনি বললেন। "এই আসনে বসো। পিতার সামনে।"
মিতালি বসল। লাল পূজার কাপড়ের ওপর, হাঁটু ভরে, আস্তে হাঁটু ফাঁক করে। তার ভেজা সেলাই এখনো নিতম্বে বেঁধে আছে, বাবার চোখ সেই জায়গায় নেমে এল, যেখানে কাপড়ে ভেজা দাগ প্রশস্ত হয়ে আছে, ভাইয়ের ভেতরের তেল আর তার নিজের জল।
"ভয় করছে?" অরুণ জিজ্ঞেস করলেন, বসে গিয়ে তার সামনে।
"না," মিতালি বলল, তারপর মিথ্যা বুঝল নিজেই। "হ্যাঁ। সামান্য।"
"সামান্য ভয় ভালো," অরুণ বললেন। "ভয় ছাড়া দুয়ার খোলে না।" তিনি তার হাতের কুম্ভী তেলের কুটটা তুললেন, তালুতে ঢাললেন গরম তেল, দুই হাতে বুকে মাখলেন। "মা তোমাকে খোলা করেছে। আমি পূর্ণতা দেব। এই আচারে তোমার শরীর মন্দির নয় আর, আগুন। আমি পুরোহিত।"
অঞ্জলি পেছনে মিতালির পিঠে তালু রাখলেন। রণি পাশে বসে আছে, কাঁপা চোখে দেখছে।
"সালোয়ার খোলো," অরুণ বললেন।
মিতালির আঙুল গিঁটের সুতো টানল। কাপড় নেমে এল পায়ে, ভেজা, সে তা ফেলল পাশে। সে নুনতনী, খোলা, তার ভেজা ফাঁক বাবার চোখের সামনে, ভাইয়ের বীজ তার ভেতর থেকে মিহি সাদা রেখা করে বেরিয়ে এসেছে ভেজা ফাঁকের ঠোঁট ধরে। অরুণ তা দেখলেন, দীর্ঘ, শান্ত।
"ভাইয়ের প্রথম উৎসর্গ তোমার ভেতরে," তিনি বললেন। "ভালো। তেলের স্তর যেন মানে না।"
তিনি তালু নিয়ে মিতালির হাঁটু ছুঁলেন, ভেতরের দিকে ধীরে তালু উঠল, রগের বাঁক, জঘন্য নরম ভেজা চামড়া। মিতালির নিঃশ্বাস ছেঁড়া শব্দ করে বেরোল। তেল মাখা আঙুল তার ফাঁকের ঠোঁট ধরে চলল, ধীরে, প্রতিটা ভাঁজ খুলে, প্রতিটা নরম স্তর ছুঁয়ে, ক্লিটের কোঁচার ওপর এক আঙুল ঘোরাল, মিতালির নিতম্ব মাটি থেকে উঠে এল নিজে থেকে।
"শ্বাস," অরুণ বললেন। "না থেমে।"
আঙুল তার ভেতরে ঢুকল, একটা, তারপর দুটো, ভাইয়ের প্রবেশের পরে তার ভেতরটা ঢোকার পথ প্রশস্ত, জানা, স্লিপারি। আঙুল ঘুরল, ভেতরের দিকের নরম গোলাইয়ে চাপ দিল, মিতালির চিৎকার ছোট হয়ে ঠোঁটে আটকে রইল।
"মা," সে কাঁদতে কাঁদতে ফিসফিস করল। "বাবা..."
"আমি জানি," অরুণ বললেন। "শরীর বলছে। শোনো, কি বলছে?"
"ভেতরে। আর ভেতরে। আমার ক্ষমা চাওয়ার নেই, বাবা, আমার ভেতর ক্ষুধার্ত।"
অরুণ তার ধুতি খুললেন। তার শরীরে ধূপের ছাইয়ের সাদা সরু রেখা, ছাতির ওপর পুরনো পাঁচ ফোঁটা, কোমরে মালা। তার দাঁড়ানো মিতালির চোখে পড়ল, ভাইয়ের চেয়ে মোটা, লম্বা, কালো কাঁচা, শিরদাঁড়ার নিচে শক্ত। মিতালির মুখ শুকনো হয়ে গেল।
"পিতা যা দেব, তা পঞ্চদশ বছরের দেন," তিনি বললেন, তেল নিয়ে নিজের দাঁড়ানোটায় মাখলেন হাতে, উপর থেকে নিচে, ধীরে, চামড়ায় ঝিলিক। "শায়িত হও। পা ফাঁক করো। এটা আর সন্তানদের শ্বাসের খেলা নয়, মেয়ে। এটা আগুনের আচার। মন্ত্র শুনবে প্রতি ঢোকায়, আর সাড়া দেবে তালে।"
মিতালি শুয়ে পড়ল লাল কাপড়ে। তার পা ফাঁক হলো, হাঁটু আকাশের দিকে। অরুণ তার দুই পায়ের মাঝে হাঁটু বসলেন, তার তালু দুটো মিতালির রগের ওপর চাপ দিলেন, পা আরও ফাঁক করে দিলেন। তারপর তার ভারী দাঁড়ানোটা মিতালির ভেজা ফাঁকের মুখে রাখলেন, শুধু শীর্ষ ছুঁয়ে।
"মন্ত্র," অরুণ বললেন।
"ওঁ শ্রী..." মিতালি বলল, প্রথম শব্দটা।
প্রথম ঢোকায় তার ভেতরটা খুলে গেল। ভাইয়ের চেয়ে মোটা, প্রস্থে টান খেল প্রতিটা ভাঁজ, মিতালির পিঠ তুলে এল কাপড় থেকে, চিৎকার বেরিয়ে এল খোলা মুখে, উঠানে প্রতিধ্বনি করল ধূপদানের পাশে।
"সাড়া দেও তালে," অরুণ বললেন, স্থির। "প্রতি তালে কোমর উঁচু করো।"
তিনি চললেন। ভারী, ধীর, প্রতি প্রবেশে তার ভারী ঘা মিতালির ভেতরের দেয়ালে পড়ে ঝাঁকুনি দিল তার পুরো শরীরে। মিতালির স্তন দুটো উঁচু নিতম্বের তালে দোল খেল, বাদামি কষ দুটো কড়ে গেল, তার ভেতর থেকে ভেজা জল গড়িয়ে পড়ল, জোরে, তেলের সঙ্গে মিশে তার নিতম্বের নিচে লাল কাপড়ে গাঢ় দাগ প্রশস্ত হলো।
"বাবা," সে কান্নার গলায় ডাকল। "আর জোরে। আমার ভেতর চাইছে আর।"
অরুণ তার পা দুটো কাঁধে তুলে নিলেন, গোঁজ দিলেন গভীর, তারপর জোরে ঠেললেন। প্রতি প্রবেশে মিতালির নিতম্ব লাল কাপড়ে টুপটাপ করল, ভেজা শব্দ উঠান জুড়ে, ধূপের ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে। মিতালির আঙুল নিজের ক্লিটে চলে গেল, জোরে ঘষল, তার শরীর কাঁপল, ভেতরে বাবার দাঁড়ানো প্রতিটা ঢোকায় তার জল ছিটকে পড়ল।
"উৎসর্গ," অঞ্জলি পেছন থেকে ফিসফিস করলেন, মেয়ের ঘামে ভেজা চুল আঙুল দিয়ে সরিয়ে। "যা উঠবে, পিতার ভেতরে।"
"না থামো," মিতালি বলল। "আমি আসছি, বাবা, আমি আসছি।"
তার ভেতর সংকুচিত হলো, প্রথম ঢেউ, তারপর আরেকটা, তার চিৎকার ছেঁড়া হলো, তার ভেতরে বাবার দাঁড়ানো ঢেউয়ের সঙ্গে চাপ খেয়ে আরও গভীরে ঢুকল। অরুণ জোরে তাল দিলেন শেষে, অনিয়মিত, তার হাত মিতালির নিতম্বে কামড়ে ধরল, তারপর তার ভেতর ভরে উঠল, ঘন, উষ্ণ, ঢেউয়ে ঢেউয়ে, মিতালির ভাইয়ের বীজের ওপরে পিতার বীজ।
মিতালির পা কাঁপল, কাপড়ে নামল। তার ভেতরে দুটো উৎসর্গ মিশে আছে, ভাইয়ের আর বাবার, এক স্তরে। সে শুয়ে রইল, বুক তুলে তুলে শ্বাস নিতে নিতে।
অরুণ মালা ঘুরিয়ে এক নিঃশ্বাসে মন্ত্র শেষ করলেন, তারপর তাকালেন স্ত্রীর দিকে। "পাঁচজন এক গিঁটে বাঁধা হলো," তিনি বললেন। "শুধু রণির কাজ বাকি, অঞ্জলি। তোমার পালা। তোমার ছেলেকে নাও, শেষ সুতোটা তুমিই বাঁধবে।"
অঞ্জলি উঠে দাঁড়ালেন, আঁচল সরিয়ে। রণি তার মায়ের দিকে তাকাল, ঠোঁট কাঁপছে। মা এগিয়ে এলেন ধীরে। তার লাল শাড়িটা এক ধাপে এক ধাপে ফেলে দিলেন, প্রথমে আঁচল, তারপর পাট, শেষে পেটিকট। ধূপের আলোয় তার শরীরটা খোলা হলো, পঁয়তাল্লিশ বছরের শরীর, তবু ভরা, স্তন দুটো ভারী, নিচে ঝুলে আছে দোলে দোলে, কোমরে সাদা শুকনো রেখা মালার, তার নিচে কালো ন্যাড়া ভেজা জলে চকচকে।
"মা," রণি পিছিয়ে গেল এক হাঁটু। "মা, এটা ঠিক না।"
"আচারে ঠিক-অঠিক নেই, ছেলে," অঞ্জলি বললেন। তার তেল মাখা তালু রণির বুকে রাখলেন, ট্যাটুর ওপর। "তুমি লজ্জা পাচ্ছ। লজ্জা দড়ি। কাটবে।"
"না," রণির গলা ছেঁড়া। "দিদিকে নিয়ে আমার ভয় ছিল, ওটা লজ্জা ছিল। এটা অন্য। তুমি আমার মা। আমার বাপের স্ত্রী। আমার এই কাজ করার অধিকার নেই।"
"অধিকার তোমার জন্ম থেকে," অরুণ বললেন পেছন থেকে, শান্ত, মালা ঘুরিয়ে। "পনেরো বছরের দেনটা তোমার কাঁধে। মা তোমার প্রথম গুরু। সব শরীরের জ্ঞান মায়ের শরীর থেকেই আসে।"
রণি মিতালির দিকে তাকাল, সাহায্যের চোখে। মিতালি ঘামে ভেজা, শুয়ে আছে লাল কাপড়ে, তার ভেতরে ভাইয়ের আর বাবার উত্তাপ এখনো নড়ছে। সে বলল ফিসফিস করে, "ভয় পেয়ো না, রণি। আমিও পেয়েছিলাম।"
"তুমি পারো না বোঝা, দিদি," রণির হাত মায়ের তালুকে সরিয়ে দিল, আস্তে, অসম্মানে না, ভয়ে। "আমার কন্ঠে এত শক্তি নেই। মা, আমি চাই না।"
অঞ্জলি হাসলেন, চোখেই। "তুমি চাও, ছেলে। তোমার শরীরটা এখনো আমার তেলে জ্বলছে দেখছি। মানুষ চাইবে না বলে শরীর থামে না। তুমি পালাতে পারো চাইলে। দরজা খোলা। যাও।"
সে যায় না। সে দাঁড়িয়ে থাকে, কাঁপছে, চোখ মাটিতে। বাতাসে তার আধো দাঁড়ানো ধীরে স্থির হয় না, পূর্ণ হয়ে ওঠে, ভরা হয়ে ওঠে, তার নিজেরই মনে হয় না কার কাছে। সে বলল, ভাঙা গলায়, "এটা পাপ।"
"পাপ তোমার নাম নয়, রণি," অঞ্জলি বললেন। "পাপ স্থগিত রাখা। পনেরো বছর স্থগিত।"
সে তার তালু আবার নিলেন, এবার ছেলের ঘাড়ে। তেল মাখা, গরম, আঙুল নামল শিরদাঁড়া বরাবর, প্রতি গাঁটে একটা ছোট চাপ। রণি কাঁপল, কিন্তু সরল না। মা তার নিতম্বে তালু রাখলেন, গোলাই ছুঁয়ে, আর রণির ঠোঁট থেকে একটা শব্দ বেরিয়ে এল, আধা অভিমান, আধা আত্মসমর্পণ।
"মা," বলল সে, "আমি লড়ছি। বুঝতে পারছ। কিন্তু শরীর লড়ছে না।"
"লড়াইটাই আচার," অঞ্জলি বললেন। "তালু ছেঁড়ো না আর। ছেড়ে বিষ হয়।"
সে তার ছেলেকে নিচে টানলেন, লাল কাপড়ে, মিতালির পাশে। রণি শুয়ে পড়ল, খাড়া দাঁড়ানোটা বুকের ওপর ভেজা ভেজা উঠছে। অঞ্জলি তার দুই হাঁটুর ওপর বসলেন, আরসির বৃত্তের ভেতরে, মায়ের ও ছেলের মাঝে শুধু তেলের ভেজা বাতাস। তার তালু ছেলের বুকে ছড়াল, ট্যাটু ধরে, পেটে, কাঁধে। তার স্তন দুটো নিচে ঝুলে ঝুলে ঘষা খেল ছেলের বুকের চামড়ায়, ভারী, গরম, কষ দুটো ছেলের পাঁজরে দাগ ফেলল।
"মা, পারছি না," রণির চোখ ভেজা, মাথা কাপড়ে ধুলো খেয়ে পিছনে। "আমি লড়ব, বলেছি। কিন্তু তোমার ছোঁয়া..."
"তোমার জন্মের প্রথম ছোঁয়াটা আমারই ছিল," অঞ্জলি ফিসফিস করলেন। "শেষটাও আমারই হবে। মাঝের সবগুলো তোমার।"
সে তার নিতম্ব তুললেন, আর তার ভেজা, মোটা ফাঁকটা ছেলের খাড়া দাঁড়ানোর মাথায় ছুঁয়ে দিলেন। শুধু ছুঁয়ে। উষ্ণ, স্লিপারি, মায়ের ভেতরের ঘ্রাণ। রণির শরীর ভাঙল। তার কোমর উঠে গেল নিজে থেকে, এক ইঞ্চি, মায়ের ভেতরের মুখে ঠেলে, তারপর সে নিজেকে টেনে সামলাল, কাপড়ে মুখ ঘুরিয়ে।
"না," বলল সে, কান্না মেশানো। "আমি চাই না এভাবে। আমি ভাবিনি আজই..."
"তাহলে কবে চাও?" অঞ্জলি জিজ্ঞেস করলেন, স্থির, ছোঁয়া ছাড়েন না।
রণি চুপ করল। কতক্ষণ চুপ। ধূপদানের ধোঁয়া এক স্তরে জমল আরসির বৃত্তের ওপর। তারপর খুব ধীরে, প্রায় শোনা যায় না এমন গলায়, বলল, "তিনটে বছর। প্রতি রাতে। ওর নামে না, এবার স্বীকার করি, তোমার নামে। মা। তোমার নামে।"
অঞ্জলির চোখ বন্ধ হলো এক মুহূর্তের জন্য। তারপর সে নামলেন ছেলের ওপর, ধীরে, ভারী স্তন দুটো ছেলের বুকে চাপা পড়ল, ঠোঁট ছেলের ঠোঁটে লাগলেন। রণি লড়ল আর একবার, মাথা ঘুরিয়ে, ঠোঁট কামড়ে কাঁপন দমাতে। তারপর লড়াইটা ভাঙল। তার হাত উঠে গেল মায়ের পিঠে, তেল মাখা, মাংস কামড়ে ধরল আঙুলে, আর সে ফেরত ঠোঁট মেলাল, গভীর, ভেজা, মায়ের নাম ঠোঁটে মন্ত্রের মতো।
অঞ্জলি তার নিতম্ব তুললেন, হাত নামিয়ে ছেলের দাঁড়ানোটা ধরলেন, তেল মাখালেন নিজের ভেজা মুখে। "মন্ত্র বলো," বললেন সে। "তালে। আমি নামব প্রতি তালে।"
রণি মন্ত্রের প্রথম শব্দটা বলল, ভাঙা গলায়। প্রথম তালে অঞ্জলি নামলেন, ছেলের পুরোটা নিজের ভেতরে নিয়ে, এক নিঃশ্বাসে। দুজনে চিৎকার করে উঠল, মন্ত্র ভেঙে গেল। মিতালি পাশে শুয়ে দেখল, মায়ের ভরা নিতম্ব ওঠানামা করছে ভাইয়ের কোমরে, প্রতি তালে তেলে মাখা চামড়া জোরে শব্দ তুলছে, ভেজা, গাঢ়। মায়ের স্তন দুটো ছেলের মুখের সামনে দোলে, রণি তা ধরল হাতে, কষ মুখে নিয়ে চুষল, জোরে, ক্ষুধার শিশুর মতো, আর অঞ্জলি শিরদাঁড়া বাঁকিয়ে শব্দ করল ছেঁড়া।
"ছেলে," বললেন সে, তাল বদলে বদলে, উঁচুতে, "শরীরটা তোমার। পনেরো বছরের দেন। নাও।"
রণি জোরে ঠেলল কোমর তুলে, প্রতি তালে মায়ের নিতম্ব কামড়ে ধরল আঙুলে, তেলের রেখা লাল হলো। মা আর ছেলে, তালে তালে, মন্ত্র ভাঙছে দুজনেই, মিশছে আবার। মিতালি পাশে দেখতে দেখতে নিজের আঙুল নিজের ক্লিটে নিল, ধীরে, ভেজা, ভাইয়ের আর বাবার উত্তরগুলো এখনো তার ভেতরে ভাসছে। অরুণ দাঁড়িয়ে আছেন মালা ঘুরিয়ে, চোখ শান্ত, বৃত্তের মধ্যে তার স্ত্রী আর ছেলে এক শরীরে ঘুরছে।
"মা, আমি আসছি," রণির ঠোঁট ভাঙল। "আমার পা কাঁপছে, মা, আমি ধরতে পারছি না।"
"ধরো না," অঞ্জলি বললেন, তাল জোরে করলেন, নিচ পর্যন্ত, প্রতি তালে নিজের ভেতরটা ছেলের পুরোটা ঘিরে টানল। "উৎসর্গ। আমার ভেতরে ঢালো সবটা।"
রণির শরীর শক্ত হলো, কোমর মায়ের ভেতরে ঢুকে গেল গভীর, আর সে ছেড়ে দিল, চিৎকার করে, মায়ের নামটা উঠানে ছড়িয়ে। অঞ্জলির মাথা পেছনে ঢুলুল, তার ভেতরে ছেলের উষ্ণ ঢেউ ভরল, তার নিজের ঢেউ মিলল সঙ্গে সঙ্গে, দুজনে কাঁপল এক গিঁটে।
অরুণ মালা থামালেন। বললেন, "পাঁচ সুতো। পূর্ণ।"
উঠান জুড়ে ধূপের ধোঁয়া নামল। মিতালি শুয়ে রইল, বুক তুলে তুলে শ্বাস নিতে নিতে, তার পাশে মা আর ভাই এক শরীরে ছড়িয়ে আছে, ঘামে তেলে ভেজা, লাল কাপড়ে তিনজনের তিন রকম দাগ। অঞ্জলি ধীরে ছেলের বুকে মাথা নামালেন, তালু বুলালেন তার ঘামে ভেজা চুলে।
"লড়াইটা ভালো লড়েছ," বললেন সে, প্রায় ফিসফিস। "তাই পুরস্কারটা মিষ্টি হয়েছে, ছেলে।"
রণি কিছু বলল না। শুধু তার হাত মায়ের পিঠে স্থির হয়ে রইল, তেল মাখা, কাঁপা কাঁপা। া।
দূরে, বারান্দার কোণে, অরুণ নিজের কুম্ভী তেলের কুটটা খুলে আরেকবার তালুতে ঢাললেন। তার চোখে একটা অস্বস্তি ছিল, সামান্য, কিন্তু কণ্ঠ শান্ত। "অঞ্জলি," তিনি ডাকলেন। "পনেরো বছরের দেনটা এক রাতে শোধ করতে হবে। আজ পূর্ণিমা। আমার শরীরের শেষ ঋণটাও আজই।"
অঞ্জলি মাথা তুললেন ছেলের বুক থেকে। "কী বলছ, অরুণ?"
"গুরুমায়ের কাছে শিখেছিলাম। পূর্ণিমায় পাঁচ সুতো বাঁধলে শেষ সুতোটা পিতামাতার নিজেদের। সারা রাত আমি তোমাকে নেব, স্ত্রী। যতক্ষণ না বীজ শেষ হয়, শ্বাস শেষ হয়।" তার গলায় হাসি ছিল, কিন্তু চোখে কিছু একটা গাঢ়, চূড়ান্ত।
মিতালি বসে উঠল। "বাবা, শ্বাস শেষ হয় মানে?"
"তন্ত্রে সাধক এক রাতে সব না দিয়ে যেতে পারে না, মেয়ে। আমি পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে তোমার মাকে ভালোবেসেছি সব ছাড়া। আজ রাত আমার উৎসর্গের রাত। পাঁচজনের জন্য একজন।" তিনি স্ত্রীর দিকে হাত বাড়ালেন। "আসো।"
অঞ্জলি উঠে গেলেন ধীরে। তার মুখে ভয় ছিল না, ছিল একটা লম্বা জানা স্বীকৃতি, যেন তিনি এই রাতের কথা বহু বছর জেনে এসেছেন। "তুমি একবারও বলনি," তিনি ফিসফিস করলেন।
"বললে তুমি আটকাতে," অরুণ বললেন। "এবার বললাম। আটকাবে?"
অঞ্জলি তার হাত ধরলেন। "না। সঙ্গে থাকব। শেষ পর্যন্ত।"
তারা গেল ভেতরের ঘরে, পূজার লাল কাপড়ে বিছানো আসনে। মিতালি আর রণি উঠানে বসে রইল, দরজার ফাঁকে ধূপের আলো। ভেতরে প্রথম শব্দটা এল, মন্ত্র, তারপর মায়ের একটা লম্বা, ছেঁড়া শ্বাস। তারপর তাল, ধীরে, প্রতি তালে কাঠের মালার এক গুঁজ, আর মায়ের ঠোঁটের শব্দ, ভাঙছে, মিলছে।
ঘণ্টা গেল। তাল জোর হলো। বাবার কণ্ঠ এবার জোরে, কর্কশ, মায়ের নাম ধরে ধরে। "অঞ্জলি। আর। আর ভেতরে নাও। সব নাও।" ঘাত শুনছিল উঠান, তেল মাখা চামড়ার টুপটাপ, কাপড়ের ছেঁড়াখেঁড়া। অঞ্জলির চিৎকার ছেঁড়ল, উঠান পর্যন্ত পৌঁছাল, তারপর আবার তাল, আরও কর্কশ, আরও অনিয়মিত।
রণি মিতালির হাত ধরল। তার চোখে জল। "দিদি, বাবার শ্বাস বদলে যাচ্ছে।"
মিতালি শুনল। বাবার শ্বাসটা এখন ফুঁসের মতো, প্রতি ঘাতে ছোট হচ্ছে, ভাঙছে। তার মনে হলো দৌড়ালে ঢুকবে, কিন্তু পা উঠল না। আচারে ঢোকা নিষেধ, শৈশবের নিয়মটা বুকে চেপে বসল।
ভেতরে অঞ্জলি নিজের নিতম্ব ওঠানামা করছিলেন ক্লান্তিহীন, স্বামীর ভেতরের পুরোটা প্রতি তালে ঘিরে টেনে, চেপে, পিষে। তার নিজের ঢেউ এসেছে কতবার সে গুনেনি। অরুণের হাত তার কোমর কামড়ে ধরেছে, তেলের রেখা লাল, তার দাঁড়ানোটা তার ভেতরে কাঁপছে, জ্বলছে। "শেষটা," অরুণ ফড়ফড়ে গলায় বললেন। "সব নাও, স্ত্রী। সব।"
অঞ্জলির চোখে জল নেমেছে, তবু তাল থামেনি। "নাচ্ছি," তিনি বললেন, গলা ভাঙা। "সবটা। তোমার সবটা আমার ভেতরে।"
অরুণের শরীর শক্ত হলো, কোমর উঠল, আর তার চূড়ান্ত উৎসর্গ ঢেউয়ে ঢেউয়ে গড়িয়ে পড়ল স্ত্রীর ভেতরে, ঘন, জ্বলন্ত, তার নিজের হৃদয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। তার মুখ খুলে রইল, শব্দটা অর্ধেকে থেমে গেল। "অঞ্জলি, আমি..."
তারপর শ্বাসটা ফেরত এল না।
অঞ্জলি থামলেন সঙ্গে সঙ্গে। স্বামীর বুকে কান লাগালেন। কিছুক্ষণ। তারপর তিনি খুব ধীরে ছেলেমেয়েদের ডাকলেন, কণ্ঠটা শান্ত, অত্যন্ত শান্ত। "ভিতরে আয়। দুজনে।"
মিতালি আর রণি দরজা ঠেলে ঢুকল। অরুণ শুয়ে আছেন পিঠের ওপর, চোখ আধখোলা, তার চোখের ভাঁজের নিচে শান্তি, যেন এখনো অপেক্ষা করছেন একটা উত্তরের। বুকটা নড়ছে না। হাতটা আধুঁকে আছে স্ত্রীর কোমরের ওপর, তেল মাখা, লাল রেখা ধরে।
"বাবা," রণি ফিসফিস করে ডাকল।
কোনো জবাব এল না। ধূপদানের শেষ কাঠটা ভেঙে পড়ল, ছাইয়ের স্তূপ হয়ে।
অঞ্জলি স্বামীর চোখ দুটো আঙুলে বন্ধ করে দিলেন, ধীরে, যেভাবে প্রতি পূর্ণিমায় প্রদীপের সলিতা নেভান। তারপর তার তালু নেমে এল মৃতের বুকের পাঁচ ফোঁটার ওপর, এক ফোঁটা এক ফোঁটা ছুঁয়ে।
"উৎসর্গ সম্পন্ন," তিনি বললেন। গলাটা কাঁপল না। "তিনি বলেছিলেন পাঁচ সুতোর শেষ সুতো তার নিজের শরীর দিয়ে। পাঁচজনের ঋণ এক রাতে শোধ করলেন। এই আশ্রমের সবচেয়ে বড় ত্যাগটা তিনিই করলেন, মেয়ে। তোমরা দুজন সাক্ষী হও।"
মিতালির পা নেমে এল মেঝেতে, তার ভেতরের ভেজা উত্তাপগুলো হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে গেল। "মা, তুমি জানতে। আগে থেকেই জানতে। তাই আমাদের ডেকেছিলে, এই পূর্ণিমায়।"
অঞ্জলি মাথা তুললেন। তার চোখ ভেজা, কিন্তু চোখে সেই হাসিই, মেয়ের চিবুকে আঙুল রাখলেন আবার, তেল মাখা, উষ্ণ। "পনেরো বছর আমি তাকে থামাতে চেয়েছিলাম। সে শোনেনি। তন্ত্র তার ভালোবাসার মাপ, মেয়ে। সে সব দিয়ে দিল আজ রাতে, আর আমি সব নিয়ে নিলাম, কারণ তাই ছিল আমাদের চুক্তি।"
রণি হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল বাবার পাশে, কান্নাটা ঠোঁটের ভেতরে চেপে। "তাহলে আমাদের সুতোগুলো..."
"সত্যি হয়েছে," অঞ্জলি বললেন। "তার রক্ত তোমাদের শরীরে, তোমাদের উৎসর্গ তার রাতে। পাঁচটা সুতো এক গিঁটে, তার শেষ গিঁটটাও সহ। এবার কাজটা তোমরা দুজন করবে। তার শরীর ধুবে, তেলে, আমরা তিনজন হাত দিয়ে। প্রথম স্নান তার শরীরে দিয়েছিলাম আমি, জন্মের দিন। শেষটাও আমাদের হাতে।"
মিতালি উঠে দাঁড়াল। বাইরে ভোরের ধোঁয়াশা নামছে, আরসির বৃত্তটা ভিজে ভেজে চকচক করছে, তার মাঝে তিনজনের দাগ শুকিয়ে গেছে। সে পিতলের বালতি তুলল, গরম জল, সেই কুম্ভী তেলের ঘ্রাণ। রণি বাবার মাথার নিচে হাত রাখল, কাঁপা কাঁপা।
"বাবা," রণি ফিসফিস করল, কাপড়ে জল ঢেলে ঢেলে, "তোমার দেন শোধ হলো।"
অঞ্জলি স্বামীর বুক পর্যন্ত তেল মাখালেন, পাঁচ ফোঁটার রেখা ধরে, তার নিজের শরীর থেকে যাওয়া তেলটা মৃতের চামড়ায় মিশে ঝিলিক দিল ভোরের প্রথম আলোয়। তারপর সে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন, আঁচলটা কাঁধে টেনে নিলেন।
"চলো," তিনি বললেন। "জ্বলাও আজ সকালেই। আর তার আগে মন্ত্রটা শেষবার একসঙ্গে বলব। পাঁচ মুখে। তার একটা মুখ থাকবে আমাদের সবার ভেতরে।" ে।"
পাঁচজন মন্ত্র বলল, চতুর মুখ নিঃশব্দ, কিন্তু তিন জীবিত মুখ সেটা বয়ে নিল। আগুন জ্বলল সকাল না হতেই নয়, সন্ধ্যা আবার নামল, ধোঁয়াশা ঘুরে ফিরে এল উঠানে। আশ্রমের সব প্রদীপ নিভে গেল একটা ছাড়া, রণির ঘরের প্রদীপ। অঞ্জলি বললেন, "আজ রাত থেকে এই বাড়ির পুরুষ তুমি, রণি। বাবার আসন। আমাদের দেখভাল তোমার হাতে।"
রণি রাতে একা ঘরে শুয়ে রইল। প্রদীপের আলোয় ছাদের কাঠ কালো। তার শরীর এখনো দুই দিনের তেলের গন্ধে জ্বলছে, মায়ের ভেতরের উত্তাপ ভুলতে পারছে না, দিদির ভেতরের টান ভুলতে পারছে না। তার হাত নিজেই নেমে গেল, কাপড় সরিয়ে, দাঁড়ানোটা মুঠোয় ধরল। সে চলল ধীরে, থামল ধীরে, ঠোঁটে ফিসফিস, "মা।" তারপর, "দিদি।" প্রতি নামে একটা তাল, প্রতি তালে মুঠো আঁটসাঁট। তার শ্বাস জোরে হলো, ঘরের প্রদীপের শিখা দুলল।
দরজা খুলল আওয়াজ ছাড়া। অঞ্জলি এলেন নিজের শরীরে শুধু তেল মাখা, খোলা, ঘাম শুকিয়ে যাওয়া রেখা। সে তাকালেন ছেলের হাতের কাজে, দাঁড়িয়ে, নড়েন না।
"বাবার নামে হাত চালাছ, ছেলে?"
"তোমার নামে, মা।" রণি হাত থামাল না। "আর দিদির নামে। এ নিয়ে আমার লজ্জা শেষ।"
"লজ্জা দড়ি, কেটেছে।" অঞ্জলি এসে বিছানায় বসলেন, ছেলের পাশে, তার হাতের ওপর নিজের হাত বসালেন, তেল মাখা তালু দিয়ে তার মুঠোটা নিজের ছন্দে চালালেন। "বলো, কী চাও আমার থেকে?"
"তোমার ভেতরটা। আজ রাতে আমি পুরুষ, মা। আমি বুকিয়ে নেব।"
"বুকিয়ে নাও।" অঞ্জলি শুয়ে পড়লেন, পা ফাঁক করে, তার ভরা নিতম্ব কাপড়ে গোলাই ফেলল। "এসো, রাজা। মা-র চোদাটা তোমার।"
রণি তার দুই পায়ের মাঝে এল। মায়ের ভেজা ফাঁকটা ফুলে আছে, ন্যাড়া ভেজা, জ্বলছে। সে ছুঁয়ে দেখল আঙুলে, আঙুল ভেতরে ঢুকল, তারপর ঠোঁট নামাল, মায়ের ফাঁকে মুখ বসাল, চুষল, জিভ ঘষল ক্লিটে। অঞ্জলি শিউরে উঠলেন, তার পা ছেলের ঘাড়ে ভর দিল।
"ছেলে," বললেন সে, গলা ভাঙা, "আমার ভেতরে জিভ ঢোকাও। পিসে দাও। আমার চোদা ভিজাও।"
রণি জিভ ঢুকল ভেতরে, পিসল, মায়ের জল মুখে উঠল। তারপর সে উঠে এল, দাঁড়ানোটা মায়ের ভেজা মুখে রাখল, ঠেলল এক তালে পুরোটা ভেতরে। দুজনে চিৎকার করে উঠল।
"চোদ, ছেলে," অঞ্জলি কোমর তুললেন মেলে। "জোরে চোদ। আমার ভোদাটা ফেটে দাও। তোমার বাবার জায়গাটা তুমি ভরো আজ থেকে।"
রণি চুদল। জোরে, খাঁড়া, প্রতি ঘাতে মায়ের নিতম্ব কাপড়ে টুপটাপ, তার হাত মায়ের স্তন কামড়ে ধরল মুখে, কষ চুষল, দাঁত দিয়ে টানল। "মা, তোমার ভেতরটা এত ভালো। তিন বছর আমি শুধু দিদির নামে..." তার ঠোঁট ভাঙল, "আজ তোমার ভেতরে আমার রাজত্ব।"
"রাজত্ব," অঞ্জলি হাসলেন ভাঙা গলায়, "তাহলে রাজ্যটা জয় করো। ভেতরে ঢালো বীজ। আমার ভোদা তোমার, ছেলে, ভরে দাও।"
রণির শরীর শক্ত হলো, কোমর মায়ের ভেতরে গেঁথে গেল, আর বীজ গড়িয়ে পড়ল ঘন, ঢেউয়ে ঢেউয়ে, মায়ের ভেতরের সব কোণ ভরে। অঞ্জলির নিজের ঢেউ মিলল, তার ভেতর ছেলের দাঁড়ানোটা চেপে টানল, প্রতিটা ফোঁটা নামতে নামতে।
দরজার ফাঁকে মিতালি দাঁড়িয়ে, খোলা, নিজের আঙুল নিজের ফাঁকে চালাচালা করছে দেখে দেখে। "বসে গেছ দেখে?" অঞ্জলি জিজ্ঞেস করলেন, শ্বাস ফেরত আনতে আনতে।
"দেখেছি," মিতালি এল ভেতরে, বিছানায়। "আমারও পালা। ভাইয়ের রাজত্বে আমি উজির।"
রণি তার বোনের দিকে তাকাল, তার দাঁড়ানোটা ধীরে ফেরত উঠছে, ভেজা, মায়ের জলে মাখা। "দিদি, আয়। উপরে।"
মিতালি তার ওপর বসল, মুখোমুখি, তার ভেজা ফাঁকটা ভাইয়ের দাঁড়ানোর ওপর ঘষল, ধীরে, ক্লিট ধরে। দুজনে একসঙ্গে শব্দ করল। তারপর মিতালি তুলল কোমর, বসল ভেতরে, পুরোটা, এক নিঃশ্বাসে। "কাপড়," সে বলল, গলা খসখসে, "ভাইয়ের চোদা আমার ভেতরে। জোরে। আমার নিতম্ব ধরো, কামড়ে ধরো।"
রণি ধরল, আঙুল মাংসে ডুবল, তারপর তুলল নিচ থেকে জোরে ঘা, বোনের ভেতরে উপর পর্যন্ত। অঞ্জলি পাশে বসে ছেলের পিঠ তেল মাখলেন, তারপর মেয়ের স্তন ধরলেন পেছন থেকে, কষ টিপলেন। তিনজন এক তালে, ঘাতে ঘাতে, উঠানের প্রদীপ বাইরে নিভে গেল, ঘরে শুধু শ্বাস, শব্দ, তেল মাখা চামড়ার টুপটাপ।
"তিনজনের ভেতরে এক সুতো," অঞ্জলি ফিসফিস করলেন। "মেয়ে, তোমার ভাইয়ের বীজ নাও এবার। আমার ভেতরেরটার ওপরে তোমার।"
"না," মিতালি বলল, তাল জোরে করে নিজেই, "আগে আমি আসব।" তার ভেতর সংকুচিত হলো ভাইয়ের দাঁড়ানো চেপে, ঢেউ এল একের পর এক, সে চিৎকার করল খোলা মুখে, তার জল বেরিয়ে এল ভাইয়ের ভেতরে ভিজে। রণি সেই সংকোচনে ভেঙে পড়ল, বীজ ঢেলে দিল বোনের ভেতরে, মায়ের ভেতরের ওপরে, দুই স্তর এক শরীরে।
তারা থামল না। অঞ্জলি ঘুরলেন হাত-হাঁটু হয়ে, তার ভরা নিতম্ব তুললেন ছেলের দিকে। "এবার পিছনের দুয়ার, ছেলে। আমার ভেতরে আবার। দিদি তোমার মুখে বসবে।"
রণি মায়ের ভেজা ফাঁকের নিচের গোলাইয়ে তেল ঢালল আঙুলে, ঢুকল ধীরে, তারপর দাঁড়ানোটা ঠেলল। অঞ্জলির চিৎকার ছেঁড়ল গভীর, কর্কশ। মিতালি মায়ের মুখের সামনে হাঁটু বসল, মা তার ভেজা ফাঁকে মুখ চাপল, জিভ চালল, মেয়ের ভেতরের ভাইয়ের বীজ চুষে খেলেন। তিনজন চলল এক চাকার মতো, ঘুরে ঘুরে, তাল বদলে বদলে, ঘণ্টা গেল।
ভোরের ধোঁয়াশা জানালায় নামল। রণির শ্বাস এখন ফুঁসে, কিন্তু হাত থামেনি। মা আবার নিচে, দিদি আবার উপরে, বীজ ঢালল আবার মায়ের ভেতরে, আবার বোনের ভেতরে। প্রদীপের তেল শেষ হয়ে শিখা ছোট হলো, তখন অঞ্জলি ছেলের ঘামে ভেজা মুখ তুলে ধরলেন তালুতে।
"যথেষ্ট, রাজা," তিনি বললেন, গলা চাপা, ভেজা। "দিন উঠছে। তোমার রাজত্ব শুরু হয়েছে।"
মিতালি ভাইয়ের পাশে শুয়ে পড়ল, তার ভেতরের দুই স্তরের বীজ পায়ের কাছে কাপড়ে দাগ ফেলেছে, উজ্জ্বল। রণি দুজনের মাঝে, দুই হাতে দুটো শরীর ধরে আছে, তার নিঃশ্বাস প্রথম শান্ত হলো। জানালার কাঠে প্রথম আলো। বাইরে ধূপদানের ছাই ঠান্ডা।
"বাবার প্রদীপটা," অঞ্জলি ফিসফিস করলেন, "আজ থেকে তোমার হাতে জ্বলবে, ছেলে। প্রতি রাতে।" মিতালি মায়ের দিকে তাকাল। ভোরের আলোয় অঞ্জলির মুখ দেখতে লাগল পুরনো, জানা, আবার নতুন। তার চোখের নিচের ভাঁজে ঘাম শুকিয়ে লবণের রেখা টেনেছে, আর তার তালু এখনো তেল মাখা, ছেলের বুকে স্থির।
"মা," মিতালি বলল, গলাটা এখনো দুই রাতের চোদায় খসখসে। "তুমি কাঁদছ না কেন?"
অঞ্জলি মেয়ের দিকে ঘুরলেন। "কাঁদব কেন, মেয়ে? আমার সব কিছু আজ রাতে ভরে গেছে। স্বামী, ছেলে, মেয়ে। পাঁচ সুতো।"
"বাবা নেই," মিতালি বলল।
"আছে," অঞ্জলি বললেন। "তোমার ভেতরে আছে। তোমার ভাইয়ের ভেতরে আছে। আমার ভেতরে আছে। এক রাতে সে তিনটা শরীরে ঢুকে গেছে, মেয়ে। এর চেয়ে বড় সমাধি কে পেয়েছে?"
রণি তাদের মাঝে চুপচাপ শুয়ে রইল, তার দুই বাহু দুই নারীর নিতম্বে ছড়িয়ে। প্রদীপের শিখাটা প্রায় মরে গেছে, তেল নেই। ঘরের ভেতরে তেল, ঘাম, বীজ আর ধূপের ঠান্ডা ছাইয়ের গন্ধ মিশে একটা ভারী স্তর হয়ে ঝুলছে।
অঞ্জলি উঠে বসলেন। তার স্তন দুটো নেমে এল ভারী, দোল খেয়ে, কষের গোলাইয়ে এখনো ছেলের দাঁতের দাগ লাল। সে প্রদীপের কুট থেকে শেষ তেলটা ঢাললেন শিখায়। আলোটা উঠে এল হঠাৎ, ঘরের তিনটা শরীর জ্বলে উঠল সোনালি হয়ে।
"মা," মিতালি আবার বলল, এবার গলাটা নরম, ভয়ের মতো নরম। "তুমি জানতে বাবা আজ রাতে মরবেন?"
অঞ্জলি প্রদীপের দিকে তাকালেন। তারপর মেয়ের দিকে।
"জানতে। পনেরো বছর ধরে জানতে। তার গুরু মারা যাওয়ার আগে বলে গিয়েছিলেন, পাঁচ সুতোর পূর্ণিমায় বীজ শেষ হবে আর শ্বাস শেষ হবে এক গিঁটে। আমি সন্তানদের ডাকিনি, আর সে নিজের তারিখটা ঠিক করে রেখেছিলেন সেই রাতে।" তিনি এক নিঃশ্বাস নিলেন। "তাই আমি লজ্জা কাটতে বলেছিলাম, মেয়ে। একটাও মুহূর্ত নষ্ট হতে দিইনি।"
মিতালির চোখে জল জমল। তার ভেতরে ভাইয়ের আর বাবার বীজের দুই স্তর এখনো উষ্ণ, আর সেই উষ্ণতা হঠাৎ দারুণ কষ্টদায়ক হয়ে উঠল, তারপর দারুণ মিষ্টি। সে বুঝল, বাবার শেষ ঘাতটা যেদিন তার ভেতরে নেমেছিল, সেটা তার জীবনের প্রথম পূর্ণ ছোঁয়া।
"তাহলে আমাদের আসা," সে বলল, ঠোঁট কাঁপছে, "আমাদের আসা ছাড়া সে যেত না?"
"যেত না," অঞ্জলি বললেন। "তোমরা তার উৎসর্গ ছিলে। দুজনের উৎসর্গ ছাড়া তার বীজ শেষ হতো না।"
রণি মাথা তুলল। তার চোখ মায়ের প্রদীপের আলোয় জ্বলজ্বল করছে। "তাহলে আমাদের সুতো এখন কে বাঁধবে? বাবা নেই।"
অঞ্জলি ছেলের থুতনি তুললেন এক আঙুলে। "তুমি বাঁধবে, রাজা। আর মেয়ে সাক্ষী হবে। প্রতি পূর্ণিমায়, এই উঠানে, এই কাপড়ে। তোমার বংশের সুতো এভাবেই জেঁকে যাবে।"
মিতালি বসে উঠল, চুল সরিয়ে নিল মুখ থেকে। "মা, আমি ঢাকায় ফিরব না।"
অঞ্জলির চোখ ছোট হয়ে এল হাসিতে। "জানতে বলেছি। তোমার শরীর এখানে এসে পৌঁছেছে এবার, মেয়ে। ফেরার কোনো রাস্তা নেই।"
তার তালু নেমে এল মেয়ের কাঁধ বরাবর, তেল মাখা, ধীরে। তারপর স্তনের গোলাইয়ের বাঁক ধরে, যেখানে ছেলের দাঁতের দাগ নেই, মায়ের তালু সেখানেই প্রথম বসল। মিতালি শিউরে উঠল। রাতের চোদার পরেও তার শরীরের প্রতিটা স্নায়ু খোলা, মায়ের ছোঁয়ায় ঢেউয়ের মতো কাঁপল।
"দেখো, রণি," অঞ্জলি বললেন, তালু মেয়ের বৃত্তাকার অংশের কাছে ঘিরে, "তোমার বোনের শরীর এখনো জ্বলছে। তিনটে বছরের ক্ষুধা এক রাতে মেটে না।"
রণি বসে উঠল। তার দাঁড়ানোটা আবার উঠছে, ধীরে, ক্লান্ত শরীরের ভেতরে নিজেই অবাক। মিতালি তা দেখল, আর তার ভেতরের ফাঁকটা নিজে থেকেই খুলে গেল, জল ছোট একটা ঢেউয়ে গড়িয়ে পড়ল কাপড়ে।
"দিদি," রণি বলল, গলা ভাঙা, "তোমার ভেতরটা আবার ভিজে যাচ্ছে।"
"দেখে বোঝা যাচ্ছে," মিতালি বলল, ঠোঁট ফুলে। "তুমি উজির হও আজ থেকে, ভাই। আমার ভোদাটা তোমার রাজ্য।"
অঞ্জলি মেয়ের পেছনে এলেন, তার পিঠ নিজের বুকে চেপে ধরলেন, ভারী স্তন দুটো মেয়ের পিঠে চাপ খেল। "তাহলে দেখাও, রাজা। মেয়েটাকে শায়িত করো। আজ রাতের শেষ পাঠ, বোনের ভেতরে, বাবার প্রদীপ জ্বলিয়ে।"
মিতালি শুয়ে পড়ল, পা ফাঁক করে, তার ভেজা ফাঁকে ভাইয়ের আর বাবার বীজের মিশ্রণ ঝিলিক দিচ্ছে প্রদীপের আলোয়। রণি তার দুই পায়ের মাঝে এল, দাঁড়ানোর মাথাটা বোনের ভেজা মুখে ছুঁয়ে দিল। মিতালির শরীর তুলে এল কাপড় থেকে নিজে থেকে।
"তালে," অঞ্জলি বললেন, মেয়ের পাশে বসে, এক তালু মেয়ের স্তনে, এক তালু ছেলের নিতম্বে। "প্রতি ঘাতে মন্ত্র। বাবার সুরে।"
রণি ঠেলল। ভেতরে, পুরোটা, বোনের ভেজা গভীর পর্যন্ত। মিতালির চিৎকার ছোট হয়ে ঠোঁটে আটকে রইল, তার নিতম্ব কাপড়ে টুপটাপ করল প্রতি ঘাতে। প্রদীপের শিখা দুলল, তিনজনের ছায়া দেয়ালে এক শরীরে মিশে ঘুরল।
"ভাই," মিতালি ফিসফিস করল, প্রতি ঘাতে ভাঙা, "আমার ভেতরে বাবার বীজ আছে। তুমি তার ওপরে চোদছ।"
"জানি," রণি বলল, গলা কর্কশ, "তার ওপরে আমার গিঁট। নতুন গিঁট।"
অঞ্জলি মেয়ের ক্লিটে আঙুল রাখলেন, ঘষলেন ছেলের ঘাতের তালে তালে। "আসো একসঙ্গে, দুজন। সকালের আগে।"
মিতালির ভেতর সংকুচিত হলো প্রথম ঢেউয়ে, তারপর আরেকটা, তার জল ছিটকে পড়ল ভাইয়ের দাঁড়ানো ভিজিয়ে। রণি সেই সংকোচনে গেঁথে গেল গভীর, আর তার বীজ গড়িয়ে পড়ল বোনের ভেতরে, বাবার স্তরের ওপরে তৃতীয় স্তর। দুজনে কাঁপল এক গিঁটে, মায়ের আঙুলের নিচে।
প্রদীপের তেল শেষ। শিখা মরল। ঘর অন্ধকার হলো, শুধু জানালার ভোরের ধূসর আলো। অঞ্জলি দুটো শরীরের মাঝে শুয়ে পড়লেন, তার দুই হাত দুই সন্তানের বুকে।
"এখন ঘুম," তিনি বললেন, ফিসফিস, "প্রথম পূর্ণ ঘুম, পাঁচ সুতোর পরে।"
মিতালির চোখ বন্ধ হলো। তার ভেতরে তিন স্তরের উত্তাপ ঢেউয়ের মতো স্থির হয়ে এল, বাবার, ভাইয়ের, তার নিজের। জানালার কাঠে ভোরটা আরেকটু উঁচু হলো। আশ্রমে কোথাও একটা পাখি ডেকে উঠল, প্রথম সুরে। আশ্রমে কোথাও একটা পাখি ডেকে উঠল, প্রথম সুরে। অঞ্জলির চোখ বুজে এল। ঘরের অন্ধকারে তার শ্বাস লম্বা হয়ে গেল, শুধু তালু দুটো সন্তানদের বুকে স্থির, উষ্ণ। মিতালির চোখের পাতাও নামল, ক্লান্ত ঢেউয়ের নিচে। রণি ঘুমাল না। তার বুকের ভেতরে কিছু জেগে আছে, বাবার প্রদীপের মতো, সব তেল শেষ হয়ে তবু জ্বলছে।
রণি হাত সরাল ধীরে। মায়ের তালু তার বুক থেকে নেমে গেল ঘুমের ভেতরে। সে বোনের মুখের দিকে তাকাল। ভোরের ধূসর আলোয় মিতালির ঠোঁট ফুলে আছে, চুল ঘামে বেঁধে থেকে কাঁপড়ে ছড়িয়ে, কাটির ভাঁজে তার ভেজা ফাঁক এখনো খুলে আছে, ভাইয়ের আর বাবার বীজের স্তরে ভরা। তার দাঁড়ানোটা আবার খাড়া হয়ে উঠছে, ক্লান্তির নিচে, শরীরের চেয়ে বড় ক্ষুধা।
সে উঠে দাঁড়াল। বিছানা কাঁপল না, সে যত্ন নিল। প্রদীপের ছাইয়ে খালি পায়ের ছাপ পড়ল না, মেঝে ঠান্ডা তেলের স্তরে। সে বাঁকল, দুই হাত দিল বোনের পিঠের নিচে, এক হাত ঘাড়ের গোড়ায়, আরেক হাত হাঁটুর পেছনে। তারপর তুলে নিল মিতালিকে বুকের ওপর, ভরা, ভেজা, ঘুমের ওজন।
মিতালির চোখ খুলল আধবোজা। "রণি..."
"চুপ," ভাই বলল, গলা কর্কশ। "আজ রাতে বাবা তোমাকে মেঝেতে রেখে নিয়েছিলেন। আমি নেব হাতে তুলে। রাজার নিয়ম।"
সে বহন করল বোনকে ঘরের ওপাশে, সেই আসনে যেখানে পূজার লাল কাপড়ের আরেকটা বিছানা পড়ে আছে, প্রদীপের পাশে। নামাল ধীরে, মাঝে মিতালির স্তন তার বুকে ঘষা খেল, আর মিতালির শরীর সেই ঘষায় কেঁপে জেগে উঠল পুরোপুরি।
"তুমি ঘুমাবে না?" মিতালি জিজ্ঞেস করল, ফিসফিসে।
"ঘুমাব। তার আগে এক কাজ বাকি।" রণি তার দুই হাঁটুর মাঝে বসল, হাত দিল বোনের হাঁটুতে, ধীরে ফাঁক করল। প্রদীপের শেষ শিখার আলোয় তার ভেজা ফাঁক ঝিলিক দিল, ন্যাড়া ভেজা, ক্লিট ফুলে থাকা। "দিদি, তোমার ভেতরে তিন স্তর আছে দেখছি। বাবার, আমার। আজ সকালে চতুর্থটা ঢালব। তারপর ঘুমাব।"
"শরীরটা ক্লান্ত, ভাই," মিতালি বলল, কিন্তু তার পা ফাঁক হয়ে গেল নিজে থেকেই, নিতম্ব তুলে এল কাপড়ে। "কিন্তু ভেতরটা ক্লান্ত নয়। ভেতরটা ডাকছে।"
রণি মুখ নামাল। জিভ দিল ভেজা ফাঁকের ঠোঁটে, উপর থেকে নিচ, এক লম্বা টানে ভাইয়ের নিজের বীজ আর মায়ের জল চুষে খেল মিতালির ভেতরের মুখ থেকে। মিতালির চিৎকার ছোট হয়ে বেরোল, পা দুটো ভাইয়ের কাঁধে ভর দিল। রণি জিভ ঢুকল ভেতরে, পিসল, উপরে উঠল ক্লিটে, ঘুরল ঘুরে।
"ভাই," মিতালি কাঁপছে, আঙুল ভাইয়ের চুলে, "তুমি চুষছ আমার ভেতরের সব। বাবারটা পর্যন্ত।"
"সব," রণি মুখ তুলল, ঠোঁট ভেজা, "মুখে নিলাম। এবার ভেতরে নেব।"
সে উঠে এল, দাঁড়ানোটা বোনের ভেজা মুখে ধরল, তারপর মিতালির দুই পা কাঁধে নিয়ে ঝুঁকল, ঠেলল এক তালে পুরোটা ভেতরে। মিতালির পিঠ তুলে এল, চিৎকার ছেঁড়া। ভোরের ধূসর আলোয় দুজনের ঘাম মাখা শরীর জ্বলজ্বল করল।
রণি চুদল দাঁড়িয়ে, ঝুঁকে, বোনের পা কাঁধে নিয়ে। প্রতি ঘাতে মিতালির নিতম্ব কাপড়ে টুপটাপ, ভেজা শব্দ ঘর ভরে গেল, তেল মাখা চামড়ার চপচপ। মিতালির স্তন দুটো প্রতি ঘাতে দোলে, নিজের হাত নিজেই স্তনে নিল, কষ টিপল।
"জোরে," মিতালি কাঁদতে কাঁদতে বলল, "আর জোরে, ভাই। আমার ভোদা ফেটে দাও।"
"ফাটবে," রণির দাঁত কিনচিত, "তিন বছরের হিসাব আজ শেষ হবে, দিদি। প্রতি রাতের করটা এই এক ঘাতে শোধ না। এক রাতে।"
ঘাত জোর হলো। খাঁড়া, গভীর, বোনের ভেতরের দেয়ালে প্রতিটা ঢোকা পৌঁছে গেল শেষ গোলাই পর্যন্ত। মিতালির ভেতর সংকুচিত হতে শুরু করল, প্রথম ঢেউ, দ্বিতীয়, তার জল ছিটকে পড়ল ভাইয়ের দাঁড়ানো ভিজিয়ে, নিতম্ব কাপড়ে ভিজা দাগ ফেলল চওড়া। রণি সেই সংকোচনে ধরতে পারল না, কোমর গেঁথে গেল গভীর, আর চতুর্থ স্তর গড়িয়ে পড়ল বোনের ভেতরে, ঘন, উষ্ণ, তিন স্তরের ওপরে।
দুজনে কাঁপল এক গিঁটে। প্রদীপের ছাই ঠান্ডা, ঘরে শুধু শ্বাস। রণি বোনের ওপর ঝুলে রইল, তার হাত মিতালির ঘামে ভেজা চুল সরাল কান থেকে।
"চার স্তর," মিতালি ফিসফিস করল, ভেতরের ভরা উত্তাপ গুনে গুনে। "এখন আমার ভেতরে তোমার বংশের পুরো ইতিহাস ভাসছে, ভাই।"
"তাহলে আর ঢাকায় যাওয়ার দরকার নেই," রণি বলল, হাসি তার গলায় প্রথমবার।
পাশে অঞ্জলি ঘুরলেন। চোখ আধখোলা, তার তালু দুজনের নিতম্বের ওপর বসল, তেল মাখা, শান্ত। "পাখি ডেকেছে," তিনি বললেন, "রাজা রানির রাত শেষ করে দিয়েছে। এবার সত্যিই ঘুম। পূর্ণিমা গেল। আগামী পূর্ণিমার বিছানা তোমাদের দুজনেরই।"
রণি বোনের পাশে শুয়ে পড়ল, তার ভেজা দাঁড়ানোটা মিতালির ভেতর থেকে বেরিয়ে এল ধীরে, চতুর্থ স্তরের কিছুটা গড়িয়ে নামল পায়ের কাছে লাল কাপড়ে। মিতালি ভাইয়ের বুকে মাথা রাখল, কান তার হৃদয়ের কাছে। দুজনের হৃদয় এখনো এক তালে বাজছে, মিতালি শুনতে পেল, প্রতি ঘায়ে ঘায়ে।
জানালার কাঠে ভোরের আলো সোনালি হয়ে উঠল। ঘরের ভেতরে চার স্তরের উত্তাপ ধীরে স্থির হলো, আর বাইরে পাখিটা ডেকে গেল আরেক সুরে।