প্রেমের কাহিনী, সিজন ২ — এপিসোড ৪

Premer Kahini Season 2 Episode 4

সৃজন সৃষ্টির কোল আলো করে আসে সূর্য। বস্তির অন্ধকার কানাগলি পেরিয়ে ভর্তি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। নিয়তির খেলায় সূর্য মুখোমুখি হয় রবি হালদারের। তারপর? সূর্য কী পারবে মা-বাবার উপর হ‌ওয়া অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে!

লেখক: Chodon Kumar

ক্যাটাগরি: ভাই বোনের প্রেম

সিরিজ: প্রেমের কাহিনী, সিজন ২

প্রকাশের সময়:27 Jul 2025

আগের পর্ব: প্রেমের কাহিনী, সিজন ২ — এপিসোড ৩

‌ঘুম ভেঙ্গেছে রিতারও। ওদের ঘরটা বাতাসের উল্টো দিকে থাকায় আগুন এখনো এদিকটায় আসেনি। তারপরেও ভেতরটা কেমন যেন ছ্যাঁৎ করে ওঠে ওর। দৌড়ে বাইরে এসে দেখে সবাই আগুন নেভাতে ছুটছে। আশেপাশে তাকিয়ে সূর্যদের কাউকে দেখতে না পেয়ে অজানা আশঙ্কায় কেঁপে ওঠে ওর বুকটা। তাকিয়ে দেখে উত্তপ্ত তন্দুর হয়ে উঠেছে সূর্যদের ঘরটা। সেদিকে দৌড়ে যায় ও। সামান্য ধাক্কাতেই খুলে যায় পুরতে থাকা দরজাটা। ঘরে ঢুকে ধোঁয়াতে কিছু দেখতে পায়না রিতা। আবছা কানে আসে একটা গোঙানির আওয়াজ। দ্রুত এগিয়ে যায় সেদিকে। তখনো পুরো সংজ্ঞা হারায়নি সৃষ্টি। কাছে গিয়ে রিতা বলে, “দিদিমণি তাড়াতাড়ি ধরুণ আমাকে।” সৃষ্টিকে দাঁড় করিয়ে দুজন মিলে সৃজনকে দুদিক থেকে ধরে বাইরে বের করে আনে ওরা। বাইরে আসতেই ডুকরে কেঁদে ওঠে সৃষ্টি। “আমার সূর্য! সূর্য এখনো ভিতরে রয়েছে।” “দিদিমণি আপনি দাড়ান, আমি নিয়ে আসছি ওকে” বলে রিতা আবার দৌড়ে ঢুকে যায় ঘরের মধ্যে। আগুন আরও বেড়ে গেছে ধোঁয়ায় দুচোখ জ্বলে যাচ্ছে রিতার। সূর্যকে দেখতে পেয়ে ওকে দু’হাতে টেনে তোলে রিতা। সূর্য তখন প্রায় অচেতন। সূর্য কে ধরে দরজা পর্যন্ত আনতেই দেখে আগুনে পুড়ে খসে পরছে জ্বলন্ত দরজাটা। রিতা কোনোরকমে ধাক্কা দিয়ে সূর্যকে বাইরে ফেলে দেয় আর জ্বলন্ত দরজার নিচে চাপা পরে ওর শরীরটা। জোরে একটা চিৎকার দিয়ে ওঠে সৃষ্টি। “মেয়েটা চাপা পড়েছে দরজার নীচে।” ততক্ষণে কিছুটা ধাতস্থ হয়ে উঠেছে সূর্য। অবিশ্বাস্য চোখে বারবার তাকাতে থাকে আশেপাশে। ঘটনার আকস্মিকতায় কেমন যেন মাথা ঘুরছে ওর। সূর্য যেন এখন একটু একটু বুঝতে পারছে সকালে ন্যাড়া আর ঘোঁতনের অস্বাভাবিক আচরণের কারন। ততক্ষণে লোকজন জ্বলন্ত দরজাটার নীচ থেকে বের করে এনেছে রিতার বেহুঁশ দেহটা। সূর্য ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে সেদিকে। রিতার শরীরের একপাশটা পুরে কেমন দগদগ করছে, ওর লম্বা চুলগুলো পুড়ে কেমন দলা পাকিয়ে আছে মাথার উপরে। কয়েকজন মিলে ধরাধরি করে রিতার অজ্ঞান দেহটা নিয়ে যায় হাসপাতালের দিকে। আগুন নিভে এসেছে ততক্ষণে। ক্ষয়ক্ষতি বলতে সমিতির ঘরটা পুরোটাই পুরে গেছে, সূর্যদের ঘরটা কোনোভাবে দাড়িয়ে আছে কঙ্কালের মতো। আশপাশের আরো কয়েকটা ঘরের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। লোকজন তাড়াতাড়ি জেগে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো গিয়েছে অনেকটাই। সমিতির পোড়া ঘরটার একপাশে পড়ে আছে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া একটা লাশ। বিশুর মা বুড়ি বলে চেনাই যাচ্ছেনা লাশটাকে। বস্তির সব লোক জড়ো হয়েছে জায়গাটাতে এসে। ভোরের আলো ফুটে গেছে ততক্ষণে। সৃজনকে রেখে সৃষ্টি আর সূর্য গেল হাসপাতালের দিকে। সৃষ্টি ভাবছে ভয়াল রাতটার কথা! যদি মেয়েটা না থাকতো তাহলে বাঁচতো না ওদের কেউ। ওরা হাসপাতালে গিয়ে শুনলো জ্ঞান ফিরেছে রিতার। তবে ডাক্তাররা এখনো কিছু বলতে পারছে না। নার্স এসে একবার শুধু বলল, “আপনাদের মাঝে সূর্য কে? পেশেন্ট তাকে ডাকছে।” যন্ত্রচালিতের মতো উঠে দাঁড়ায় সূর্য। সবটা এখনো কেমন দুঃস্বপ্নের মতো লাগছে ওর কাছে। নার্সের পিছন পিছন যায় বার্ন ইউনিটের কাছে। ভেতরে ঢুকে দেখতে পায় রিতার ব্যান্ডেজ মোড়া শরীরটা। আস্তে আস্তে গিয়ে বসে রিতার পাশে। নার্স বেরিয়ে যায় ওকে রেখে। রোদ্দুরকে দেখে হালকা হাসার চেষ্টা করে রিতা।রিতার একটা হাত নিজের দু হাতের মুঠোয় নেয় সূর্য। অনেক চেষ্টা করেও ভেতর থেকে উঠে আসা কান্নাটাকে আটকাতে পারে না সূর্য। সূর্য – (কাঁদতে কাঁদতে) বলে তোর কিছু হবে না রিতা, আমি তোর কিছু হতে দেবনা। রিতা – কেন? আমি তোর কে হ‌ই? কালকেই না বললি যে, আমি কেউ না! সূর্য – তুই আমার সব। তোকে আমি ভালোবাসি রিতা। অনেক ভালোবাসি। এই কথাটাই তো রিতা সূর্যর মুখ থেকে শুনতে চেয়েছিল। আর কোনো দুঃখ নেই ওর। ওর জানা হয়ে গেছে সূর্য ওকে ভালোবাসে। হ্যাঁ, সত্যিই ওকে ভালোবাসে সূর্য। রিতা – কি বললি? আবার বল। সূর্য – আমি তোকে ভালোবাসি রিতা। রিতা – ইসস কথা দেখ ছোঁড়ার! আমাকে নাকি উনি ভালোবাসেন। আমি তোকে বলেছি না যে, তোর থেকে আমি বয়সে বড়। সূর্য – (চোখ মুছতে মুছতে) উঠে দাঁড়ানা আগে, মেপে দেখি কে বড়। রিতা – (হঠাৎ গম্ভীর হয়ে) সূর্য আমার একটা কথা শুনবি তুই? সূর্য – তুই ভালো হয়ে যা আগে, একটা কেন, হাজারটা শুনব। তুই যা বলবি, তাই শুনব আমি। রিতা – আমাকে কথা দে সূর্য, ওই ন্যাড়া আর ঘোঁতনের সঙ্গে আর মিশবি না তুই। প্রতিদিন ইশকুলে যাবি, পড়ালেখা করবি আর বাবা-মায়ের কথা শুনবি, কথা দে আমাকে। সূর্য – কথা দিলাম। তুই যা যা বললি, সব শুনব আমি। রিতা – দেখব কেমন রাখিস আমাকে দেওয়া কথা! আমি যদি মরেও যাই ভুত হয়ে নজর রাখব তোর উপরে বলে দিলাম। সূর্য – তোর কিছু হবে না বললাম তো। আমি কিচ্ছু হতে দেব না তর। রিতা – তুই আসলেই অনেক ভালা রে সূর্য। এই সূর্য একটাবার চুমু খাবি একটু আমাকে? সূর্য ওর ঠোঁট দুটো নামিয়ে আনে রিতার কপালের উপরে। হঠাৎ একটা হেঁচকি তোলে রিতা। তারপরেই ওর মাথাটা কাৎ হয়ে যায় বালিশের এক পাশে। সূর্যর ধরে থাকা হাতটাও কেন যেন শিথিল হয়ে আসে। প্রথমে কিছু বুঝে উঠতে পারেনা রোদ্দুর। রিতাকে ডাকতে থাকে সমানে… সূর্য – রিতা, এই রিতা কী হল তোর? কথা বলছিস না কেন? চোখ খোল দেখ রিতা, এই রিতা। হঠাৎ রিতাআআআ বলে জোরে একটা চিৎকার করে সূর্য। ওর চিৎকার শুনে ডাক্তার, নার্স, সৃষ্টি সবাই দৌড়ে আসে। ডাক্তার তাড়াতাড়ি করে গিয়ে রিতার হাতটা তুলে নেয় হাতে। নাড়ী পরীক্ষা করে বলে, “সরি আমাদের আর কিছুই করার নেই।” হাসপাতালের জানালা গলে সকালের সোনালি রোদ এসে পড়েছে রিতার মুখের উপর। সূর্যের সোনালী আলোতে অদ্ভুত মায়াবী লাগছে মুখটা। দেখে মনে হয় যেন অঘোরে ঘুমোচ্ছে রিতা, ঘুমের ঘোরেই যেন এক চিলতে হাসি লেগে আছে ওর দু ঠোঁটে। বোবা দৃষ্টিতে সূর্য চেয়ে আছে মুখটার দিকে। স্থানীয় কাউন্সিলর পুলিশ নিয়ে এসে দেখে গিয়ে সরকারি ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জন্য ঘর বানানোর দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন নিজের কাঁধে। সমিতির ঘরটা আবার নতুন করে বানিয়ে দেবেন বলে কথা দিয়েছেন। আপাতত সূর্যরা বাড়ির উঠোনেই তিরপলের তাঁবু খাটিয়ে বসবাস করছে। দুপুর হয়ে গেছে। বস্তির পরিবেশটা কেমন যেন থমথমে হয়ে আছে। সমিতির পোড়া ঘরটা আর সূর্যদের আধাপোড়া ঘর সাক্ষ্য দিচ্ছে গত রাত্রির ঘটনার। সমিতির ঘরটার সামনের বিশাল আম গাছটার ছায়াতে পাশাপাশি দুটি খাটিয়ার উপরে শুয়িয়ে রাখা হয়েছে বুশুর মা বুড়ি আর রিতাকে। খবর পেয়ে বাপের বাড়ি থেকে এসেছে লাবণী বৌদি। নাক আর কানে তুলো গোঁজা অবস্থায় মেয়েকে খাটিয়াতে শোয়ানো দেখে কাঁদছে মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে। কান্না বড় সংক্রামক ব্যাধি। লাবণী বৌদির কান্না সংক্রমিত হয়েছে সকল বস্তিবাসীর চোখে। মানব মন বড়ই অদ্ভুত! মাত্র একদিন আগেও যে মেয়েটাকে বস্তির একটা মানুষও দেখতে পারত না, আড়ালে যাকে নিয়ে কানাঘুষো করত সবাই, সবার কাছে যে ছিল খারাপ একটা মেয়ে কেবল একদিনের ব্যাবধানে সেই মেয়েটার জন্যই চোখের জল ফেলছে সবাই। কাঁদছে না শুধু সূর্য। অপলক চোখে তাকিয়ে আছে রিতার লাশটার দিকে। বিকেলের মধ্যেই শেষকৃত্য সম্পন্ন গেল রিতা আর বিশুর মায়ের। শেষকৃত্য শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরতেই সৃষ্টি খেতে দেয় সূর্যকে। সৃষ্টি – খেয়ে নে বাবা, সারাদিন কিচ্ছুটি মুখে দিসনি। কোনো কথা না বলে চুপচাপ সামান্য খেয়ে নেয় সূর্য। সারারাত বালিশে মাথা ঠেকিয়ে ভাবতে থাকে রিতার কথা। ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছিল জানে না ও। আজ অনেক ভোরে ঘুম ভেঙে যায় ওর। মনে হয় বুঝি পুরোটাই দুঃস্বপ্ন ছিল ওর। কিন্তু ওদের আধপোড়া ঘর দেখে ভুল ভাঙে। বাইরে এসে দেখে মা রান্না করছে। বাবা তখনও ঘুমাচ্ছে। সৃষ্টি – কিরে এতো সকালে উঠলি যে আজ? সূর্য – ঘুম ভেঙে গেল মা। সৃষ্টি – জানিস একটা না অবাক কান্ড ঘটে গেছে।। সূর্য – কি হয়েছে আবার? সৃষ্টি – কারা যেন রাতের বেলায় চুপিচুপি এসে রিতাদের ঘরে এক লাখ টাকা রেখে গেছে। কোনো কথা বলেনা সূর্য। গতকাল বিকেলে কাউন্সিলর সূর্যর পুড়ে যাওয়া ব‌ইখাতা কিনে দিয়েছিলেন। চুপচাপ হাতমুখ ধুয়ে পড়তে বসে যায় সূর্য। ছেলের এমন আকস্মিক পরিবর্তন দেখে আশ্চর্য হয়ে যায় সৃষ্টি। পড়াশোনা শেষ করে রেডি হয়ে ব্যাগ কাঁধে বেরোয় সূর্য। না আজ আর ও স্কুলে যাওয়ার ভান করছে না, সত্যি সত্যি স্কুলে যাবে সূর্য। ব্যাগ কাঁধে ওদের আড্ডার জায়গাটা পার হওয়ার সময়েই দেখে কেমন অপরাধী মুখ করে বসে আছে ন্যাড়া আর ঘোঁতন। সূর্য না দেখার ভান করে চলে যাচ্ছিল, দৌড়ে এগিয়ে আসে ওরা। ন্যাড়া – সূর্য দাঁড়া। শোন ভাই, বলে ওর সামনে এসে দাঁড়ায়। সূর্য – সামনে থেকে সরে যাও ন্যাড়াদা, ইস্কুলে যাচ্ছি আমি। ঘোঁতন – বিশ্বাস কর ভাই, আমরা ইচ্ছা করে করিনি। একজন আমাদের বলেছিল পেট্রোল ঢেলে সমিতির ভাঙা ঘরটায় আগুন দিলে এক লাখ টাকা দেবে। আমরা বুঝিনি যে এমনটা হয়ে যাবে। সূর্য – রাস্তা ছাড়ো ঘোঁতনদা। ভয় নেই, আমি তোমাদের কথা কাউকে বলিনি আর বলব‌ও না। ন্যাড়া – (সূর্যর হাত চেপে ধরে) তুই সবাইকে বলে দে সূর্য, পুলিশ ডেকে আমাদের ধরিয়ে দে, কিন্তু তুই রাগ করে থাকিস না আমাদের উপর। আমরা না তোর বন্ধু! সূর্য – হ্যাঁ আমিও এটাই জানতাম এতদিন যে তোমরা আমার বন্ধু। কিন্তু গতকাল আমার ভুল ভেঙে গেছে। দেরি হয়ে যাচ্ছে আমার, সরে যাও। ঘোঁতন – সূর্য, ওই টাকার একটা টাকাও আমরা খরচ করিনি। পুরো এক লাখ টাকা রাতের বেলা থুয়ে এয়েছি রিতাদের বাড়িতে। সূর্য – (অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে) তা তোমাদের এক লাক টাকা পেয়ে কি রিতা ফিরে এসেছে? অনেক নাটক করেছ তোমরা, এবার রাস্তা ছাড়ো। রোদ্দুর এর চোখের দিকে তাকাতে পারে না ওরা। দুজনেই চোখ নামিয়ে নেয়। ন্যাড়া আর ঘোঁতনের থেকে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে সূর্য এগিয়ে যায় সামনে। “সূর্য” বলে ফুপিয়ে কেঁদে ওঠে ন্যাড়া। ঘোতন‌ও ফোপাঁতে ফোঁপাতে বলে, “থাক ন্যাড়া, যেতে দে ওকে। ওরা শালা ভদ্দরনোক। আমাদের মতো ছোটনোকের সঙ্গে ও আর মিশবে না।” ঘোঁতনের কথায় একবার থমকে দাঁড়ায় সূর্য। পরক্ষণেই মনে পড়ে রিতাকে দেওয়া কথা। না, ও আর এদের সঙ্গে মিশবে না। স্কুলে যাবে রোজ, ঠিকঠাক পড়াশোনা করবে। যেভাবেই হোক রিতাকে দেওয়া কথা ওকে রাখতেই হবে। দ্রুত পা চালিয়ে স্কুলের দিকে চলে যায় সূর্য। রিতা মারা যাওয়ার পর থেকেই সূর্য নিয়মিত স্কুলে যায়, পড়াশোনা করে। সন্ধ্যার পরে আর বাইরে যায়না। আগের সেই ছটফটানি ভাবটাও আর নেই। বরং বয়সের তুলনায় বেশ গম্ভীর। পরিবর্তনটা চোখে পরে সৃজন এবং সৃষ্টি দুজনের‌ই। ওরা ভাবে যাক এতদিনে তবু সুমতি হয়েছে ছেলেটার! কিন্তু ওরা কেউ জানলো না যে রিতা নামের মেয়েটা ওর জীবনের বিনিময়ে আজীবনের মতো বদলে দিয়ে গেল সূর্যকে।

রিতার মৃত্যুর পরে পার হয়ে গেছে চার বছর। এই চার বছরে পরিবর্তন বলতে সূর্য লম্বায় বেড়েছে আরো ফুটখানেক। বুকটা চওড়া হয়েছে আরো৷ হাতের পেশিগুলো টি-শার্টের উপর দিয়েই ফুটে থাকে। আগের সেই ছটফটানি ভাবটা পুরোটাই উধাও তার বদলে চোখে মুখে অদ্ভুত পোড় খাওয়া এক ধরনের কাঠিন্যের ছায়া, তীক্ষ্ণ বুদ্ধির ঝিলিক তাতে। এই চার বছরে রিতাকে দেওয়া শেষ কথা গুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে সূর্য। যে সূর্য অষ্টম শ্রেণীর বাঁধা কোনোরকমে দুইবারে ডিঙিয়েছিল, সেই সূর্য সবাইকে অবাক করে দিয়ে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকে পাশ করেছে ফার্স্ট ডিভিশনে স্টার পেয়ে। এখন বাংলা অনার্স নিয়ে পড়াশোনা করছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়তে। সৃষ্টি যদিও চেয়েছিল ছেলেকে ডাক্তার বানাবে, কিন্তু বাবার মতোই সাহিত্যে ঝোঁক ছেলের। ওর একটাই কথা অনার্স করবে এবং সেটা বাংলা সাহিত্যে। সৃষ্টি আর বাঁধা দেয়নি ওর ইচ্ছাকে। এদিকে বাবার মতোই গান পাগল হয়েছে ছেলেটা। কলকাতার কোথাও ফসিল কিংবা রূপম ইসলামের কনসার্ট আছে শুনলে যাবেই যাবে সূর্য। আজ‌ও তার ব্যাতিক্রম হচ্ছে না। মোহরকুঞ্জতে ফসিলসের কনসার্ট। সামনে প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা! কিন্তু সূর্য ছুটেছে কনসার্ট দেখতে। একে তো ফসিলসের কনসার্ট, তার উপরে আবার সন্ধ্যাবেলা গিয়েই দেখে লোকে লোকারণ্য। কোনো রকমে জায়গা করে নেয় ভিড় ঠেলে। স্টেজে গিটার হাতে তখন রূপম ইসলাম আর তার সহযোগীরা। রূপম ইসলাম গান ধরেছে —

“এতটা পথ পেরিয়ে, এসেছি তবু দু’জনে যেন হয়ে গেছি আরো অচেনা, অচেনা… স্বপ্নেরা তবু খুঁজে যায়, জীবনের শেষ সীমানায় আছে কি রাখা বাঁচার ঠিকানা, ঠিকানা…

আরো একবার চলো ফিরে যাই, পাহাড়ের ওই বুকেতে দাঁড়াই আকাশের হাতছানিতে সাড়া দিই কি হবে না ভেবে।”

তন্ময় হয়ে গান শুনতে থাকে সূর্য। মনে হতে থাকে ওকে নিয়েই বোধয় লেখা গানটা। এই গান শেষ হতে শুরু হয় —

“এই একলা ঘর আমার দেশ  আমার একলা থাকার অভ্যেস  আমি কিছুতেই ভাববনা তোমার কথা  বোবা টেলিফোনের পাশে বসে  তবু গভীর রাতের অগভীর সিনেমায়  যদি প্রেম চায় নাটুকে বিদায়  আমি আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছি আবার  দেখি চোখ ভিজে যায় কান্নায় 

না না কাঁদছি না  তোমায় ভাবছি না মনে পড়ছেনা তোমাকে  তবু যাচ্ছি কি ফিরে যাচ্ছি কি  সেই ফেলে আসা অতীতে, সেই ক্ষতিতে! ”

স্টেজে তাকিয়ে এখন আর রূপম ইসলামকে দেখছে না সূর্য, দেখছে একটা হাসিমুখ। গত চার বছরে এক মুহুর্তের জন্যও সূর্য ভুলতে পারেনি মুখটা। হঠাৎ একটা রিনরিনে কন্ঠে, “হচ্ছে টা কি?” শুনে যেন বাস্তবে ফিরে আসে সূর্য। তাকিয়ে দেখে একটা মেয়ে। ঠিক কাকে বলল বুঝতে পারলো না ও। ভালো করে তাকাতেই দেখল পাশে দাঁড়ানো ছেলেটা ভিড়ের সুযোগে গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করছে মেয়েটার। হটাৎ করেই মাথায় রাগ চড়ে গেল সূর্যর। হাত বাড়িয়ে খপ করে ধরল ছেলেটার কলার। ভিড় থেকে টেনে নিয়ে যেতে লাগল ছেলেটাকে দূরে। ভিড় থেকে বাইরে এনে কষে এক চড় মারে গালে। “কিবে বাঞ্চোত মেয়ে দেখলেই নাল পড়ে মুখ থেকে?” “আমার গায়ে হাত তোলা…” কথা শেষ করার আগেই আরেকটা থাপ্পড় দেয় সূর্য। “কী করবি বে? যা তোর কোন বাপকে ডাকবি ডাক। বেশি তেড়িবেড়ি করলে না এমন ক্যালান ক্যালাবো যে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবি না আর।” পায়ের আওয়াজে তাকিয়ে দেখে মেতেটিও ততক্ষনে সেখানে এসে গেছে। সূর্যর কথার টোন শুনেই কেমন চুপসে যায় ছেলেটা। চুপচাপ চলে যায়। মেয়েটি এগিয়ে আসে। “ধন্যবাদ। আসলে অনেকক্ষণ ধরে অসভ্যতা করছিল বাঁদরটা।” সূর্য – আরে না ম্যাডাম, ধন্যবাদ দেওয়ার কিছু নেই। আসলে আমি মেয়েদের অসম্মান সহ্য করতে পারিনা, কারণ মেয়েরা হল মায়ের জাত। কিছুক্ষণ আগেই সূর্য যে টোনে কথা বলছিলো এখন তার ছিটেফোঁটাও নেই দেখে অবাক হয় মেয়েটি। “বাঃ আমিতো ভেবেছিলাম আপনি ওইভাবেই কথা বলেন। সূর্য – হাঃ হাঃ আসলে ম্যাডাম যে দেবতার যেই ফুলে তুষ্টি। ওই লোফারটার সঙ্গে ভদ্রতা দেখাতে গেলে উল্টে আরো পেয়ে বসত। মেয়েটি – সত্যি বলতে কি, যখন ছেলেটাকে মারছিলেন তখন কিন্তু এত ভদ্র মনে হয়নি আপনাকে! সূর্য – (মজা পেয়ে) হাঃ হাঃ ভদ্র কোথায় দেখলেন ম্যাডাম? বস্তির ছেলে আমি, বস্তিতেই জন্ম। বস্তির বাইরে আসলে সবাই বলে ছোটলোক, আবার বস্তির ভেতরের লোকজন আমাকে বলে আমি নাকি ভদ্রলোক। মাঝখান থেকে কনফিউজড হয়ে আমি নিজেই জানিনা যে আমি কি! মেয়েটি – দেখুন কে কোথায় থাকে সেটা ভদ্রলোক ছোটলোকের মাপকাঠি হতে পারে না। ভদ্রলোক ছোটোলোক বোঝা যায় তার আচরণে। বাই দ্যা ওয়ে আমি মেঘা, বলে হাত বাড়িয়ে দেয় মেয়েটা। সূর্য – (মেয়েটির সঙ্গে করমর্দন করে) হাই, আমি সূর্য। মেঘা – বাহ, নামের মিল আছে দেখছি আমাদের। সূর্য – মিল কোথায় পেলেন ম্যাডাম? ওদের সম্পর্ক তো সাপে নেউলে। মেঘা – মানে, ঠিক বুঝলাম না! সূর্য – (আকাশের দিকে তাকিয়ে) ওই মেঘ আর সূর্যের কথা বলছি! সাপে নেউলে সম্পর্ক। মেঘ চায় সূর্যকে ঢেকে দিতে, আর সূর্য চায় মেঘের আড়াল থেকে নিজের অস্তিত্ব প্রকাশ করতে। মেঘা – ওয়াও, বেশ মজার কথা বলেন তো আপনি। আপনি আমাকে একটা বিপদ থেকে বাঁচালেন। আমার হাতের এক কাপ চা পাওনা হয়েছে আপনার। আমার বাড়ি এখান থেকে খুব দূরে না। গাড়িতে ৫-৭ মিনিট মতো লাগবে। সূর্য – না না৷ তার দরকার নেই। মেঘা – দরকার নেই কি বলছেন! আরে আসুন তো। বলে, সূর্যর হাত ধরে টানে মেঘা। আসলে রিতার মৃত্যুর পর থেকেই মেয়েদের এড়িয়ে চলে সূর্য। কিন্ত এই মেয়েটির মধ্যে এমন অদ্ভুত এক সারল্য আছে যে প্রথম দেখাতেই মুখের উপরে না করতে পারলো না সূর্য। মেয়েটিকে ডাকসাইটে সুন্দরী বলা যাবে না, তবে মেয়েটির হাসিটা চমৎকার। অগত্যা অনিচ্ছা সত্ত্বেও মেয়েটির সঙ্গে এগিয়ে চলল সূর্য। সূর্যকে নিয়ে গাড়িতে উঠে ড্রাইভারকে বাড়িতে যেতে বলল মেয়েটি। সূর্য মনে মনে ভাবে, ‘বাবা নিজস্ব গাড়ি! তাহলে তো অনেক বড়লোক। ধুরর রাজি হওয়াটাই আসলে উচিৎ হয়নি। এখন তো গাড়ি থেকে নেমে যাওয়াটাও অভদ্রতা।’ মেঘা – কী ভাবছেন? সূর্য – কিছুনা। মেঘা – আচ্ছা কিসে পড়ছেন আপনি? সূর্য – বাংলা অনার্স নিয়ে প্রথম সেমিস্টারে পড়ছি। মেঘা – ওয়াও তাহলে তো আমরা সেইম ইয়ার। আমিও প্রথম সেমিস্টারে পড়ছি। আমি সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়ছি, আপনি? সূর্য – আমি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। মেঘা – জানেন, আমার‌ও খুব ইচ্ছা ছিল যাদবপুরে পড়ার, কিন্তু বাবা চায়নি। বাবা মনে করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়টা নাকি বামপন্থীদের নেশা আর জুয়ার ঠেক! যাক গে, আমি কলকাতার নামকরা একাডেমীতে কোচিং করছি, আপনি? সূর্য – (মুচকি হেসে) বস্তিতে থাকি, বাবা পঙ্গু, একা মায়ের ইনকামে সংসার চলে। কোচিং আমার কাছে বিলাসিতা। বাড়িতেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। মেঘা – ওহ সরি। সূর্য – না, সরি বলার কি আছে এতে? কথা বলতে বলতেই গাড়ি এসে থামল আলিপুরের বিশাল গেটওয়ালা একটা বাড়ির সামনে। দাড়োয়ান এসে গেট খুলে দিতেই ভেতরে ঢুকে যায় গাড়িটা। অবাক চোখে চারপাশে তাকায় সূর্য। আরেঃ শালা এ যে দেখি বিশাল কারবার! বাড়ির সামনে অনেক খানি জায়গা। সেখানে গালিচার মতো বেছানো সবুজ ঘাস তার মাঝখান দিয়ে চলে গেছে নুড়ি বিছানো পথ। একপাশে একটা শ্বেতপাথরের টেবিল, টেবিল ঘেরা প্লাস্টিকের চেয়ার পাতা। একপাশে একটা ফোয়ারায় অনবরত জল পড়ে চলেছে। সামনে সাদা ধবধবে রঙের দোতলা বাড়িটা। এমন বাড়ি সূর্য শুধু সিনেমা আর ক্যালেন্ডারের পাতায় দেখেছে, বাস্তবে দেখা এই প্রথম। চোখ বড় বড় করে চারপাশে তাকাতে থাকে বারবার। মেঘা ওর হাত ধরে টেনে নিয়ে যায় ভেতরে। মেয়েটিকে দেখে আসলে বোঝা যায়না যে ওরা এত বড়লোক। মনে মনে নিজেকে গালাগাল দিতে থাকে সূর্য। কি কুক্ষণে যে রাজি হয়েছিল আসতে। ভেতরে ঢুকতেই চোখে পরে ড্রইং রুমে পালিশ করা সেগুন কাঠের সোফায় বসে আছেন এক ভদ্রলোক। এক হাতে আধপোড়া সিগারেট আরেক হাতে একটা গ্লাসে রঙ্গিন জল। সূর্য বুঝতে পারে গ্লাসের ওটা মদ। লোকটার মাথায় কাঁচাপাকা মিশেল চুল, মুখে ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি সেটাও সাদা কালোর মিশেলে। চোখের ভারি ফ্রেমের চশমাটা চেহারাতে ভারিক্কি ভাব এনে দিয়েছে। সামনের সেন্টার টেবিলটায় এক গাদা ফাইল পত্র খোলা। ঢুকেই কিছুটা যেন অবাক হয় মেঘা! “ বাবা, তুমি এই সময়ে?” লোকটা মুখ তুলে তাকিয়ে বলে, হ্যাঁ তাড়াতাড়িই ফিরলাম।” তারপর উঠে দাঁড়ায় লোকটা। লম্বায় সূর্যর সমান, কিন্তু শরীরের গঠন সূর্যের চেয়ে হালকা পাতলা। ঠোঁটের কোনে ঝোলানো হাসিটায় একটা তাচ্ছিল্যের ভাব প্রচ্ছন্ন। সূর্যর সামনে দাঁড়িয়ে আছে মেঘার বাবা, আর.এম গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রির সত্ত্বাধিকারী মিঃ রবি হালদার। মেঘাকে জিজ্ঞেস করে, “সঙ্গে কে ওটা?” সূর্যর কথা খুলে বলে মেঘা। সম্পূর্ণ ঘটনাটা শুনে গভীরভাবে তাকায় সূর্যর দিকে। রবি – থ্যাঙ্কিউ ইয়ং ম্যান। আমার মেয়েকে তুমি বাঁচিয়েছ।(কিছুক্ষণ চোখ কুঁচকে) তোমার চোখদুটো আমার বড্ড পরিচিত, কোথায় যেন দেখেছি! সূর্য – লোকে বলে আমি নাকি মায়ের চোখ পেয়েছি। আর স্যার অবাক হওয়ার কি আছে? পৃথিবীটা গোল, এই শহরেই হয়তো আগে কোথাও দেখেছেন আমাকে! সে জন্য পরিচিত ‌লাগছে। কেমন যেন উদাস হয়ে যায় রবি হালদার। “কি বলছ ইয়ং ম্যান! পৃথিবী গোল! যতটা ভাবছো ততটাও গোল‌ না, এই শহরের বুকেই গত প্রায় ২০ বছর যাবৎ দুটো মানুষকে খুঁজে চলেছি আমি। খোঁজ পাইনি এখনো। স্রেফ যেন হাওয়ায় উবে গেছে!” কথা বলতে বলতেই চেক বইটা টেনে বের করে খসখস করে সই করে চেকের পাতাটা ছিঁড়ে সূর্যর হাতে ধরিয়ে দেয় রবি। “ইয়ং ম্যান, আমি ঋণ রাখতে পছন্দ করিনা। আমার মেয়েকে বাঁচিয়েছে তুমি। এখানে ৫০০০০ টাকা আছে। ব্যাঙ্ক থেকে তুলে নিয়।” রাগে গা জ্বলে ওঠে সূর্যর। পাশে তাকিয়ে দেখে ঠোঁটের কোনাটা কামড়ে ধরেছে মেঘা। সূর্য সোজা গিয়ে দাঁড়ায় মেঘার সামনে। এক হাতে মেঘার হাতটা ধরে অন্য হাতে চেকের পাতাটা গুঁজে দেয় মেঘার হাতে। “এই নিন ম্যাডাম, এরপর থেকে এটাকে তাবিজ বানিয়ে গলায় ঝোলাবেন। আবার যদি কখনো বিপদে পড়েন, না চেঁচিয়ে বলবেন কে বাঁচাবে আমাকে? বাঁচালেই পঞ্চাশ হাজার টাকা পাবে।” মেঘা মাথা নীচু মেঝের দিকে তাকিয়ে থাকে। চেকের পাতাটা মুচড়ে ধরে হাতের মুঠোয়। সূর্য আর কোনো কথা না বলে দ্রুত পা চালিয়ে বেরিয়ে আসে ঘর থেকে একবারের জন্যও পিছনে না তাকিয়ে। যদি তাকাত তবে দেখতে পেত কি ঘৃণাভরা দৃষ্টিতে মেঘা তাকিয়ে আছে ওর বাবার দিকে। সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বিরবির করে রবি হালদার, “এত মিল কী করে হতে পারে? ঠিক যেন সেই দুটি চোখ! চোখ দুটো আমি ভুলি কী করে?” মেঘার বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে রাগে একদলা থুতু মাটিতে থুঃ করে ফেলে সূর্য। আপনা আপনি ওর মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে, “শালা ভদ্দরনোক!”

এরপর কেটে গেছে প্রায় মাসখানেক। সূর্যর প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষাও হয়ে গেছে। সূর্য এসেছে টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে। সারা বাংলার বিভিন্ন কলেজকে নিয়ে একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে একটি প্রথমসারির বাংলা চ্যানেল। একাধিক পর্বে ভাগ করে প্রতিযোগিতাটি দেখানো হবে সপ্তাহে দুদিন করে। সূর্য এসেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করতে। আজ জীবনে প্রথমবার কোনো স্টুডিওতে এলো সূর্য, বুকটা একটু একটু কাঁপছিল ওর। হঠাৎ পেছন থেকে কে যেন ডাক দেয়, “আরে আপনি!” সূর্য – বাহ আপনি? তা কেমন আছেন? চেকের পাতাটা সঙ্গে রেখেছেন তো? দেশের যা অবস্থা! কখন কি বিপদ আসে বলাতো যায়না। মেঘা – (হাসতে হাসতে) খোঁচাচ্ছেন তাইনা? সূর্য – যাচ্চলে, আমি আবার খোঁচালাম কখন? মেঘা – আই অ্যাম সরি সূর্য। আসলে বাবা বাড়িতে আছে জানলে আমি কখনোই আপনাকে যেতে বলতাম না। সূর্য – ইট’স ওকে। মেঘা – তা আজ এখানে, কী ব্যাপার? সূর্য – কুইজ প্রতিযোগিতায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে অংশগ্রহণ করতে এসেছি। মেঘা – ওয়াও তার মানে আমরা এখন প্রতিদ্বন্দ্বী! আমিও কুইজ প্রতিযোগিতায় এসেছি, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের হয়ে অংশগ্রহণ করতে। কথা বলতে বলতে দুজনে এগোয় স্টুডিও ফ্লোরের দিকে। প্রতিযোগিতা চলে দীর্ঘ একমাস ধরে। আস্তে আস্তে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দৃঢ় হতে থাকে মেঘা আর সূর্যর বন্ধুত্ব। ফোন নম্বর‌ও দেওয়া নেওয়া হয়ে গেছে দুজনের মধ্যে। সূর্য মাঝে মাঝেই যেন মেঘার মধ্যে রিতার ছায়া দেখতে পায়! কিন্তু কিছুতেই পাত্তা দেয়না ব্যাপারটাকে। রিতার স্মৃতি আজ‌ও জীবন্ত ওর মনে।

চলবে……