নন্দিনীর ইলেকশন টিমের চতুর্থ সদস্য এসে পৌঁছলেন, কৌশিক বাবু, বয়স্ক ভদ্রলোক। পুরো নাম শ্রী কৌশিক মল্লিক। বারুইপুর মিউনিসিপ্যালিটিতে কর্তব্যরত এক সরকারি কর্মী। নন্দিনীর টিমে ছিল -- নন্দিনী প্রিসাডিং অফিসার হিসেবে, সুস্মিতা সেকেন্ড অফিসার, জাহাঙ্গীর লোকাল অফিসার ওরফে লোকাল ইনচার্জ, আর কৌশিক বাবু কো-অর্ডিনেটর। এছাড়াও স্কুলের কিছু শিক্ষক, শিক্ষা ও অশিক্ষক কর্মীবৃন্দ বিভিন্ন নির্বাচন সংক্ৰান্ত কাজে যুক্ত। তবে মূলত এই চারজন ছিল প্রধান কর্তা-ধর্তা।
কৌশিক বাবুর সাথে প্রাথমিক আলাপচারিতার পর তাঁকে যাবতীয় ফর্মালিটিস, সইসাবুত সব সেরে নিতে বললো নন্দিনী। নন্দিনীর টিমে কৌশিক বাবু সবচেয়ে সিনিয়র। জাহাঙ্গীরের থেকে এঁনাকে বেশি ভরসা করাটাই বুদ্ধিমতীর কাজ হবে বলে মনে হল। জাহাঙ্গীর সবসময় তার কাছে ঘেঁষার তাল করছে। কাজের থেকে অকাজের কথাই বেশি বলে চলেছে।
স্কুলের পিয়ন রমেন দা সকলের জন্য কিছু জলখাবারের ব্যবস্থা করেছিল, চা-বিস্কুট, নোনতা-মিষ্টি ইত্যাদিসমূহ। জাহাঙ্গীর টিমের বাকিদের উদ্বুদ্ধ করছিল সেই আহার গ্রহণ করতে। নন্দিনীর সেসবে মন নেই। ওর মধ্যে palpitations হচ্ছে আগামীকালের ইলেকশন নিয়ে। এটা তার কাছে একটা বড় দায়িত্ব। কেউ যাতে মেয়ে বলে কমজোর ভেবে না বসে সেইদিকটাও খেয়াল রাখা দরকার।
জাহাঙ্গীর নন্দিনীর সামনে খাবারের প্লেটটা তুলে ধরলো, "আগে খেয়ে নিন, তারপর ইলেক্শন নিয়ে ওভারথিংকিং করবেন।"
"কি?? আমি ওভারথিংকিং করছি? আপনার এটা বলার সাহস হল কি করে?"
"আঃহাহঃ, রাগ করবেন না! আপনার চোখ মুখে চিন্তার ভাব স্পষ্ট। ভাবছেন কেউ যাতে মেয়ে বলে আপনাকে কম না ভেবে বসে। আর তাই জন্য এক্সট্রা লোড নিচ্ছেন মাথার উপর.."
নন্দিনী অবাক পানে জাহাঙ্গীরের দিকে চেয়ে রইলো। লোকটা কি অন্তর্যামী? কি অবলীলায় মনের কথা বুঝে নিল! জাহাঙ্গীর আবার প্লেটটা তার মুখের সামনে ধরলো, "এটা বসিরহাটের বিখ্যাত কাঁচাগোল্লা। অর্ডার দিয়ে আনিয়েছি, খাস আপনার জন্য।.. মানে আপনাদের সবার জন্য। তাই না খেলে শুধু আমার নয়, এই বসিরহাটের কাঁচাগোল্লারও অপমান হবে।"
ভরদুপুরে নন্দিনীর এসব মিষ্টি খেতে একদম মন চাইছিলনা। কিন্তু উপায় কি? লোকাল লোকজনকে চটালে যে তারই কাজের অসুবিধা হবে। সুতরাং না না করেও একটা কাঁচাগোল্লা মুখে নিল। খেতে বেশ ভালোই! তারপর চা আর একটা বিস্কুট খেয়ে লেগে পড়লো কাজে।
যেকোনো নির্বাচনই ভারতবর্ষের মানুষের নিরিখে গুরুত্বপূর্ণ হয়। এই নির্বাচনও ব্যতিক্রম নয়। হোক না তা পঞ্চায়েত নির্বাচন।
নন্দিনী মনে মনে প্রার্থনা করছিল নির্বাচনটা যেন সে সুষ্ঠভাবে উতরে দিতে পারে। যদিও এ রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন সুষ্ঠভাবে হওয়ার বিরল নজির খুব কমই। ট্রেনিং চলাকালীন জানতে পারে হাকিমপুরে পঞ্চায়েত নির্বাচন খুব একটা সুষ্ঠুভাবে হয়না। একটি দলের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এর প্রধান কারণ। বাড়িতে অবশ্য এসব কিছুই জানায়নি সে। নাহলে আর আসতে দিত না।
জায়গাটা সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। রয়েছে তফসিলি জাতি উপজাতির পর্যাপ্ত ভোটব্যাংকও। তবে বিরোধীপক্ষের কোনো শক্ত ঘুঁটি নেই। কিন্তু শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল লেগেই থাকে। তার জন্যই যত ঝামেলা। স্থানীয় বিধায়কের একটি গোষ্ঠি, জেলা সভাপতির একটি। প্রার্থী বাছাইয়ে বিধায়কের সুপারিশ করা একজনকেও এবার জেলা সভাপতি প্রার্থী করেননি। তাই জন্য এলাকায় শাসক দল থেকে অনেক বাগী প্রার্থী নির্দল হয়ে ভোটের ময়দানে নেমেছে। ফলত ভোট নিয়ে এলাকায় একটা চাপা উত্তেজনা রয়েছে।
স্কুল প্রাঙ্গনে তখন শাসক দলের ব্লক সভাপতি এসে হাজির। সে আবার বিধায়ক গোষ্ঠীর লোক। ওপর ওপর দলের হয়ে কাজ করলেও, গোপনে বাগী প্রার্থীগুলিকে সে-ই প্রচ্ছন্ন সমর্থন যোগাচ্ছে বিধায়কের অঙ্গুলিহেলনে।
জাহাঙ্গীর নন্দিনীকে সাবধান করে দিল, "লোকটা খুব ডেঞ্জারাস! এ মাটির ওপরে যতটা, মাটির তলায়ও ততোটা।"
নন্দিনী জাহাঙ্গীরের কথা কিছুই বুঝলো না। জাহাঙ্গীর তাকে আস্বস্ত করলো, তাকে পরে সবটা বুঝিয়ে দেবে। এটা গ্রামের পলিটিক্স। এখন চুপচাপ জাহাঙ্গীর যা বলছে নন্দিনী যেন সেটাই করে।
জাহাঙ্গীর স্থানীয় লোক। এখানকার মানুষের গতিবিধির ব্যাপারে সে একটু বেশি ভালো বুঝবে। তাই এই বিষয়ে তার উপর ভরসা করাই যায়। এমনিতেও সুস্মিতা বলেছে জাহাঙ্গীর নাকি তার উপর পুরো লাট্টু। স্বভাবতই হিরো সাজতে সে নন্দিনীর উপকারই করবে, অপকার নয়।
তবুও জাহাঙ্গীরের যাতে মনে না হয় যে নন্দিনী তার উপর অত্যধিক নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছে তাই তীর্যক সুরে জাহাঙ্গীরকে বললো, "খামোখা আমি গ্রামের পলিটিক্স বুঝতে যাব কেন? এখানে আমি ইলেকশন কনডাক্ট করাতে এসছি, লড়তে নয়।"
"আঃহা ম্যাডাম! বুঝছেন না.. আপনি এখানকার প্রিসাইডিং অফিসার। লোকাল ইনচার্জ হওয়ার দরুন আমার এটা কর্তব্য বিপদের কোনো আভাস পেলে আপনাকে প্রতি পদে পদে সাবধান করে দেওয়া। কিন্তু আপনি না জানি কেন আমার থেকে দূরে দূরে থাকছেন! ভাবছেন হয়তো আমি খারাপ লোক। তাই তো কৌশিক বাবু আসার পর থেকে ওঁনার সাথেই বেশি কথা বলছেন। জানতে চাইছেন খুঁটিনাটি বিষয় গুলো। আমাকে পাত্তাই দিচ্ছেন না। অথচ উনি কি করে বুঝবেন গ্রাম্য পলিটিক্স? উনি তো শহরতলির লোক। তাই শুধু আমি পারবো বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আপনাকে আগে থেকে অবগত করতে। তাতে আপনারই কাজের সুবিধা হবে। যদিও আপনার হাবভাব দেখে বোঝা যাচ্ছে আপনি বিন্দুমাত্র আগ্রহী নন আমার সাথে দু'দণ্ড কথা বলতে। তবুও বলবো আপনি যদি আমাকে একটু বিশ্বাস করেন, তাহলে আপনার হয়ে আমিই সব সমস্যা সামলে নেব।" [[image_1]]
লোকটা এতকিছু নোটিশ করছে! কার সাথে কতক্ষণ কথা বলছি সব? ভেবেই নন্দিনী অবাক। তাকে সারাক্ষণ নজরবন্দি করে রাখছে নাকি? কিন্তু কেন? শুধুই কি তার প্রতি প্রয়োজনাধিক সুপ্ত আকাঙ্খা রয়েছে বলে, নাকি কোনো কু-বাসনা আছে?
তবে লোকটা যা যা বলেছে সেগুলো ফেলে দেওয়ার নয়। সত্যিই সে এই গ্রামের বিষয়ে অনেক কিছু জানে যা টিমে উপস্থিত বাকি তিনজনের জ্ঞাত নয়। কৌশিকবাবু অভিজ্ঞ হলেও থাকে তো সেই সুদূর বারুইপুরে। গ্রামের স্থানীয় বিষয়ে তিনিও অজ্ঞাত।
অপরদিকে এই জাহাঙ্গীর স্থানীয়। যতই হোক, ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া যাবেনা। লোকটাকে তার লাগবেই। মানে ওর সাহায্য নন্দিনীর লাগবে, নির্বাচনের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে ভালোমতো সংগঠিত করতে।
"কৌশিক বাবু অভিজ্ঞ বলে তার কাছে ইলেকশন নিয়ে খুঁটিনাটি বিষয় জেনে নিচ্ছিলাম। আপনাকে অ্যাভয়েড করার কোনোরকম অভিপ্রায় আমার নেই। আপনি আমাকে ভুল বুঝছেন", আত্মপক্ষ সমর্থনে নন্দিনী অজুহাত খাড়া করলো।
জাহাঙ্গীরও কাঁচা খেলোয়াড় নয়। সে জানে নন্দিনী ম্যাডাম এখন ব্যাকফুটে। ভালো প্যাঁচে পড়েছে। সে তাঁর এমন গলার কাঁটা যাকে না পারছে গিলতে, না পারছে ওগরাতে। স্পষ্টত বুঝতে পারছে তার প্রিয় ম্যাডামের তাকে পছন্দ নয় তবে ম্যাডাম জানেন এই জাহাঙ্গীর রুবেল হাসানের ভ্যালু এখানে ঠিক কতটা। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করাতে লোকাল দোর্দণ্ডপ্রতাপ সহকারী এই জাহাঙ্গীরকে তাঁর লাগবেই। তাও সে আর বেশি কথা বলে নিজের দর বাড়ালো না।
ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলাম তাদের দিকে আসছে দেখে জাহাঙ্গীর নন্দিনীকে তার সাথে যেতে বললো, পরিচয় করতে। নন্দিনী জাহাঙ্গীরের উপর ভরসা করে এগিয়ে গেল।
"আস-সালামু আলাইকুম ভাইজান"
"ওয়া ʿআলাইকুমু স-সালাম জাহাঙ্গীর মিঞা"
"কেমন আছেন ভাইজান?"
"আলহামদুলিল্লাহ.. ভালো ভালো.. তুমি কেমন আছ?"
"এই চলছে.."
নন্দিনী জাহাঙ্গীরের পিছনে ছিল। জাহাঙ্গীর তার দিকে ফিরে তাকাতে দেখে নন্দিনী হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দু'জন চেনাপরিচিতর কথোপকথনে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে অনাকাঙ্খিত, অযাচিত মনে করছে। [[image_2]]
জাহাঙ্গীর নন্দিনীর হাত ধরে নুরুল ইসলামের নিকট নিয়ে এল তাকে পরিচয় করাতে। জাহাঙ্গীরের এহেন বিনা অনুমতিতে তার হাত ধরায় নন্দিনী প্রচন্ড অস্বস্তি বোধ করলো। সে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে নুরুল ইসলামকে নমস্কার জানালো। নুরুল ভাইজান গেঁয়ো পলিটিশিয়ান হলেও জানে রাজনৈতিক স্বার্থে কিভাবে ধর্মের গন্ডি পেরিয়ে অপর প্রান্তের মানুষের বিশ্বাসকে সম্মান জানাতে হয়। তাই তিনিও সালামের পরিবর্তে হাত জোর করে নন্দিনীর সম্বোধনের জবাব দিলেন।
"ইনি আমাদের প্রিসাইডিং অফিসার, মিস নন্দিনী চ্যাটার্জী.... উপপপস্স, মিসেস নন্দিনী চ্যাটার্জী", জাহাঙ্গীর আবার সেই এক ভুল করলো।
পুনরাবৃত্তিমূলক ভুল সংশোধনের দাস হয়না। হয় তা সুপরিকল্পিত নতুবা অন্যায্য দাবীর আক্ষরিক প্রতিফলন রাখে।
"তোমাকেও বলিহারি জাহাঙ্গীর, তুমি কি ম্যাডামের মাথার সিঁদুর, হাতের শাঁখা-পলা দেখতে পাওনা, যে ম্যাডামকে মিস বলছো? আমাদের জাতের মেয়েদের দেখলে হয়তো বোঝা যায়না কে বিয়ে করেছে কে করে নাই, কিন্তু ওঁনাদের তো সচরাচর দেখলেই বোঝা যায়।"
"নাহঃ নাহঃ, আমি জানি উনি বিবাহিতা। আসলে এখানে সবাই বলছে ম্যাডাম বিয়ের পরও কি সুন্দর নিজেকে মেইনটেইন করে রেখেছেন। দেখলে বোঝাই যায়না উনার বিয়ের সাত বছর হয়েছে, আবার বছর চারেকের একটি মেয়েও রয়েছে। এই তো কিছুক্ষণ আগে এসপি ভুতোড়িয়া সাহেব এসছিলেন। তিনিও তাই বললেন। ম্যাডামকে দেখে এক্কেবারে চক্ষু ছানাবড়া হয়েগেছিল তেনার। হা হা হা হা!......"
জাহাঙ্গীরের এরূপ কথাবার্তা শুনে নন্দিনী মনে মনে খুব বিরক্ত হচ্ছিল। প্রয়োজন এবং অধিকারের এক্তিয়ার বহির্ভূত কথা বলছিলো সে। নেহাত এখানকার লোকাল লোক বলে...। তাছাড়া জায়গাটাও নন্দিনীর কাছে অপরিচিত, খুব একটা অনুকূল নয়। অগত্যা নিজের অসন্তোষকে সৌজন্য হাসির চাদরে মুড়িয়ে ঢেকে রাখতে হচ্ছিল।
তবে অবাক করার বিষয় হল এই লোকটা তার ব্যাপারে এত কিছু জানলো কি করে? সুস্মিতা জানিয়েছে? হতে পারে!
"ওহঃ ম্যাডাম, ভাইজানেরও পরিচয় করিয়ে দিই। ইনি আমাদের গ্রামের রবিন হুড, যাকে বলে মাসিহাঃ। সুখে দুঃখে সবসময়ে গরীব-দুঃস্থদের পাশে দাঁড়ান। গ্রামের সবাই এঁনাকে মেনে চলে। ইনি শাসক দলের স্বনামধন্য ব্লক সভাপতি জনাব নুরুল ইসলাম ভাইজান।"
"আহ্হঃ জাহাঙ্গীর মিঞা! তুমি সবসময়ে আমার ব্যাপারে বাড়িয়ে বল। তা ভালো কথা হোক... বা খারাপ", জাহাঙ্গীরের উদ্দেশ্যে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন ব্লক সভাপতি মহাশয়।
"আপনার সাথে সাক্ষাৎ হয়ে ভালো লাগলো", মৃদুস্বরে ইতঃস্তত হয়ে বললো নন্দিনী।
নন্দিনীকে দেখে বোঝাই যাচ্ছিল সে লোকটাকে দেখে কিছুটা ভীত সন্ত্রস্ত। এরকম গুরু দায়িত্ব প্রথমবার পেয়েছে। তাই প্রথম থেকেই চোখে মুখে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট, যা চাইলেও লুকোনো সম্ভব নয়। মরার উপর খাঁড়া এই পোড়খাওয়া দাপুটে নেতার ক্ষুধার্ত চাউনি। যেন সাক্ষাৎ হায়েনা তাকিয়ে রয়েছে শিকারের দিকে।
ভোট নিয়ে নন্দিনী যে ভেতর ভেতর বেশ চাপেই রয়েছে তা বুঝতে নুরুলেরও বিন্দুমাত্র সময় লাগেনি। যুবতী প্রিসাইডিং অফিসারকে আরো চাপে রাখতে সে বললো, "ম্যাডাম, দেখবেন সব যেন ভালোয় ভালোয় মিটে যায়। হাওয়া কিন্তু ভালো নয়, গোল পাকতে পারে।"
"কিচ্ছু চিন্তা করবেন না ভাইজান, ম্যাডামের সাথে তার সারথী রয়েছে, এই জাহাঙ্গীর মিঞা.."
"জানি তো, তুমি সব কাজে বেশ পারদর্শী। তাই তো এলাকার লোক তোমাকেও সমঝে চলে। কতবার বলেছি আমার পার্টি অফিসের দরজা তোমার জন্য খোলা। কিন্তু তুমিই তো রাজনীতিতে আসতেই চাওনা।"
"কিছু মনে করবেন না ভাইজান, রাজনীতি এখন করে খাওয়ার জায়গা হয়ে গেছে, আর আমি কার জন্যই খাবো। আপন বলতে আমার সে অর্থে কেউই নেই। তাই আমি টিচার-ই ঠিক আছি।"
"যা ভালো বোঝো।..... ম্যাডাম আমি তবে আসি। অঞ্চলের জননেতা হিসেবে আমার দায়িত্ব ছিল আপনাকে সাবধান করার, করে গেলাম। বিষয়টা অন্যভাবে নেবেন না। এটা শুধু সাবধানবাণী ছিল, হুমকি ভাববেন না যেন। হা হা হা হা....."
বিদঘুটে একটা শয়তানি হাসি দিয়ে বিদায় নিল নুরুল ইসলাম।
যেতে যেতে একবার ফিরে তাকালো নন্দিনীর দিকে। মনে মনে বললো, "হাহঃ খোদা, এই মাইয়্যাটারে যদি একবার হাতের নাগালে পাই.... উফ্ফ্ফ!!" [[image_3]]